ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের প্রথম দিনেও সচল ছিল হরমুজ প্রণালি। তবে গত মঙ্গলবার এই জলপথ দিয়ে ইরান-সংশ্লিষ্ট তিনটিসহ মাত্র আটটি জাহাজ পার হয়েছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।
গত সপ্তাহে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রবিবার এই নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেন।
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় জানিয়েছে, ‘অবরোধের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় কোনো জাহাজই এটি অতিক্রম করতে পারেনি।’ সেন্টকম আরও জানায়, ৬টি জাহাজকে ইরানের বন্দরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিলে তারা তা মেনে নিয়ে গতিপথ পরিবর্তন করে।
তবে শিপিং তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ইরান-সংশ্লিষ্ট তিনটি জাহাজ এই প্রণালি পার হতে পেরেছে। এর কারণ ছিল তাদের গন্তব্য ইরানের কোনো বন্দর ছিল না, ফলে তারা এই অবরোধের আওতায় পড়েনি।
এলএসইজি এবং কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ‘পিস গালফ’ নামক পানামার পতাকাবাহী একটি মাঝারি পাল্লার ট্যাঙ্কার সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়াহ বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। এই জাহাজটি সাধারণত এশিয়ার দেশগুলোতে রপ্তানির জন্য ইরানি নাফথা (পেট্রোলিয়ামের একটি উপজাত) বহন করে থাকে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ‘মুরলী কিষাণ’ নামক একটি ট্যাঙ্কার জ্বালানি তেল নিতে ইরাকের দিকে যাচ্ছিল। এর আগে জাহাজটি রাশিয়া ও ইরানের তেল পরিবহনে ব্যবহৃত হয়েছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ‘রিচ স্টারি’ নামক জাহাজটি। এটিই প্রথম কোনো জাহাজ যা অবরোধ শুরুর পর সফলভাবে পারস্য উপসাগর ত্যাগ করতে পেরেছে। ২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল মিথানল বহনকারী এই জাহাজটির মালিকানা একটি চীনা কোম্পানির এবং এতে কর্মরত নাবিকরাও চীনা নাগরিক।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স


