April 20, 2026 12:56 pm
Home International দাম বৃদ্ধিতে চাপে পড়বে পুরো অর্থনীতি

দাম বৃদ্ধিতে চাপে পড়বে পুরো অর্থনীতি

by fstcap

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ক্রমেই বাড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে। এমন অবস্থায় শনিবার সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে পরিবহন ব্যয় থেকে শুরু করে কৃষি উৎপাদন ও শিল্প খাতের কাঁচামাল পরিবহনÑ সব ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি শুধু ব্যয়ই বাড়াবে না, বরং ধাপে ধাপে মূল্যস্ফীতি উসকে দিয়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরও সংকুচিত করবে। একই সঙ্গে উৎপাদন খরচ বেড়ে শিল্প ও কৃষি খাতের গতি মন্থর হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

 

এদিকে এক মাসেই দ্বিতীয়বারের মতো বাড়ল ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম। এবার প্রতিকেজিতে বেড়েছে ১৭ টাকা ৬২ পয়সা। এর আগে এপ্রিলের শুরুতে বেড়েছিল ৩২ টাকা ৩০ পয়সা। এতে বাজারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের

নতুন দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। ১২ কেজিতে দাম বাড়ল ২১২ টাকা। এতে করে উৎপাদন, পরিবহন, বিপণনে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে মনে করে বিশেষজ্ঞরা।

 

দেশে এখন ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন। এর প্রায় ২৪ শতাংশ, অর্থাৎ ১০ লাখ ৪৪ হাজার টন ব্যবহার হয় কৃষিকাজে। দেশের ৮০ শতাংশ সেচ কার্যক্রমও ডিজেলনির্ভর। পাশাপাশি ক্ষেত প্রস্তুত থেকে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্তও ডিজেল লাগে। সরকার লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোয় কৃষকের খরচ বাড়বে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।

এদিকে জ্বালানির দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাস ভাড়া ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে মালিক সমিতি।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারম অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, জ্বালানি তেলের মজুদদাররাসহ সব ব্যবসায়ী দাম বাড়ানোর জন্য সরকারকে নানাভাবে চাপ দিয়ে আসছিলেন। জ্বালানি তেলের সঙ্গে নিত্যপণ্যসহ সবকিছুই সরাসরি জড়িত। এতে সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও বাড়বে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে শিল্প ও রপ্তানি খাতে প্রভাব পড়বে। উৎপাদন খরচ বাড়বে। তবে আমাদের এখন দামের চেয়ে স্বাভাবিক সরবরাহটা বেশি জরুরি। কারণ জ্বালানির সরবরাহ না থাকলে সবকিছুুই ব্যাহত হয়।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে শিল্পে প্রভাব পড়বে, মূল্যস্ফীতি বাড়বেÑ এগুলো স্বাভাবিক ঘটনা। বাংলাদেশেও তেলের দাম বাড়বে, সেটা অনুমেয় ছিল। কিন্তু দাম বাড়লেও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের সরবরাহে বড় দুর্বলতা আছে। সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, পর্যাপ্ত মজুদ আছে। কিন্তু তেলের পাম্পের যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখলে প্রতিফলিত হয় না। ফলে সরকারের এখন তেলের মজুদ, সাপ্লাই চেইনে কঠোর মনিটরিং করার পরামর্শ দেন তিনি।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গতকাল বলেছেন, ‘দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে মূলত বিশ্ববাজারের অস্থিরতার কারণে। সারা দুনিয়ায় তেলের দাম বেড়েছে। আমেরিকায় দাম দ্বিগুণ হয়েছে, শ্রীলংকায় বেড়েছে ২৫ শতাংশ। জাতীয় তহবিলের ওপর তীব্র চাপ থাকা সত্ত্বেও আমরা দেশের জনগণের স্বার্থে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দাম না বাড়িয়ে ধরে রেখেছিলাম। কিন্তু বাজেট ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মসূচি সচল রাখতে অত্যন্ত নগণ্য হারে এই মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে।’

মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তেলের দাম সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্কেটের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। মূল্যস্ফীতি মূলত সরবরাহ ও চাহিদার ওপর নির্ভর করে। সরকার তেলের পর্যাপ্ত মজুদ ও সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে জনগণের ওপর এর প্রভাব সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করছে।

You may also like