June 17, 2026 11:40 pm
June 17, 2026 11:40 pm
Home Featured আর্থিক গড়মিলে বন্ধের ঝুঁকিতে ঢাকা ডাইং

আর্থিক গড়মিলে বন্ধের ঝুঁকিতে ঢাকা ডাইং

by fstcap

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের দেশের অন্যতম প্রাচীন হোম টেক্সটাইল উৎপাদনকারী দ্য ঢাকা ডাইং অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেডের বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক গড়মিলের তথ্য পাওয়া গেছে। কোম্পানিটিতে নিয়োগকৃত নিরীক্ষক জানিয়েছে, কোম্পনিটি সম্পত্তি, কারখানা ও সরঞ্জামের বিপরীতে ৫১৬ কোটি টাকার যে তথ্য দিয়েছে তার যথাযথ রেজিস্টার কিংবা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দ্বারা ব্যবহৃত সম্পদ দেখাতে পারেনি। কোম্পানিটির বিভিন্ন ব্যাংকের কাছ থেকে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ১২৫ কোটি ২০ লাখ টাকার বেশি ঋণ দীর্ঘ ১০ বছরেও সমন্বয় না করে ঝুলিয়ে রেখেছে। শ্রমিকদের মুনাফা অংশীদারিত্ব তহবিলের (ডব্লিউপিপিএফ) অর্থও যথাযথ বন্টন করেনি।

নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিটি আর্থিক প্রতিবেদন ও ভ্যাট রিটার্নে দুই ধরনের তথ্য দিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। এর বাইরে কোম্পানির রিটেইন্ড আর্নিংস নেগেটিভ হওয়া, উল্লেখযোগ্য পরিমাণ দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি ঋণের বোঝা এবং সক্ষমতার যথাযথ ব্যবহার করতে না পারার মতো বেশ কিছু বিষয়কে নিদর্শন হিসেবে দেখিয়ে দ্য ঢাকা ডাইংয়ের ভবিষ্যৎ শঙ্কায় রয়েছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটিতে নিয়োগপ্রাপ্ত নিরীক্ষক।

নিরীক্ষক জানিয়েছে, বিভিন্ন ব্যাংকের কাছ থেকে দ্য ঢাকা ডাইং কর্তৃপক্ষ দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ৮৩ কোটি ৯ লাখ টাকা এবং স্বল্পমেয়াদে ৪২ কোটি ১১ লাখ টাকার ঋণ নিয়েছে। এ ঋণ ২০১৪ সাল থেকে সমন্বয় করা হয়নি। এ কারণে কোম্পানির ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো ওইসব ব্যাংকের দ্বারা ব্লক করে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ কোম্পানিটি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ১২৫ কোটি ২০ লাখ টাকা চলতি দায় হিসেবে বহন করছে। দীর্ঘদিন ধরে এ দায় বহন করায় কোম্পানিকে এখন ওই ঋণের বিপরীতে ১৫৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা পরিশোধ করতে করতে হবে।

কোম্পানিটি কয়েকটি হিসাব বছরের জন্য শ্রমিকদের মুনাফা অংশীদারিত্ব তহবিলে ৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকার ফান্ড গঠন করেছে। কিন্তু শ্রমিক আইন ২০০৬ অনুসারে এ ফান্ডের অর্থ ৮০:১০:১০ অনুপাতে শ্রমিক, কর্মী কল্যাণ তহবিল এবং শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে বন্টন করেনি।

নিরীক্ষক আরো জানিয়েছে, কোম্পানিটি সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদনে গত সম্পত্তি, কারখানা ও সরঞ্জামের মূল্য হিসেবে ৫১৬ কোটি ১১ লাখ টাকা দেখিয়েছে। তবে নিরীক্ষককে কোম্পানিটি জমি বাদে অন্য কোন সম্পদের যথাযথ রেজিস্টার কিংবা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দ্বারা ব্যবহৃত সম্পদ দেখাতে পারেনি। ফলে নিরীক্ষক এ সম্পদের প্রকৃত মূল্য যাচাই করতে পারেনি।

কোম্পানি কর্তৃপক্ষ উৎসে করের ১ কোটি ৭৬ লাখ এবং অগ্রিম আয়করের ২৯ লাখ টাকা নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ না করে দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁলিয়ে রেখেছে। এছাড়া কোম্পানির চলতি দায় হিসেবে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) পরিশোধ করতে হবে ৬৫ লাখ টাকা। কিন্তু সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে কোম্পানিটি ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২ এবং ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১৬ অনুসারে এ অর্থের বিপরীতে নেগেটিভ ব্যালেন্স হিসাব করেনি।

এর বাইরে আর্থিক প্রতিবেদন ও ভ্যাট রিটার্নে দুই ধরনের তথ্য দেখিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে ঢাকা ডাইং কর্তৃপক্ষ। আর্থিক প্রতিবেদনে বিক্রি বাবদ আয় ও ক্রয় দেখানো হয়েছে যথাক্রমে ৫২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা এবং ২১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। কিন্তু ভ্যাট রিটার্নে আয় ৪ লাখ টাকা দেখালেও ক্রয় বাবদ কোন অর্থ দেখানো হয়নি। ফলে কোম্পানি ভ্যাট রিটার্নে আয় ৫২ কোটি ২৯ লাখ টাকা এবং ক্রয় ২১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা কম দেখিয়েছে। সর্বমোট ৭৪ কোটি ৮ লাখ টাকা ভ্যাট রিটার্নে কম দেখিয়ে কোম্পানিটি প্রতারণা করেছে। এ ধরনের তথ্যের হেরফের ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২ এবং ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১৬ এর লঙ্ঘন।

আর্থিক প্রতিবেদনে কোম্পানির ব্যবসা ও অন্যান্য বাবদ পাওনা রয়েছে ৩৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আর সন্দেহভাজর ঋণের জন্য সঞ্চিতি রাখার প্রয়োজন রয়েছে ১৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা। যদিও কোম্পানিটি পাওনার বিপরীতে ২১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সন্দেহভাজর ঋণের বিপরীতে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা সঞ্চিতি রেখেছে। তবে নিরীক্ষিক বলছে, এ সঞ্চিতি নিয়ম মেনে যথাযথ রাখা হয়নি।

নিরীক্ষক এর বাইরে রিটেইন্ড আর্নিংস নেগেটিভ হওয়া, উল্লেখযোগ্য পরিমাণ দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি ঋণের বোঝা এবং সক্ষমতার যথাযথ ব্যবহার করতে না পারাকে কোম্পানির দুর্বলতা হিসেবে উল্লেখ করেছে। একইসঙ্গে কোম্পানি তার ব্যবসায়ীক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যেতে পারবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে ডিএসইতে কোম্পানির সচিবের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া ডিএসইতে দেয়া কোম্পানির যোগাযোগ করার নম্বরে কল করলে তা রিসিভ করেনি।

২০০৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া ঢাকা ডাইংয়ের অনুমোদিত মূলধন ৩০০ কোটি টাকা। যার বিপরীতে বর্তমানে পরিশোধিত মূলধন রয়েছে ৮৭ কোটি ১৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ৮ কোটি ৭১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৫৩টি। এর মধ্যে ৫১ দশমিক ৭১ শতাংশই রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে। অর্থাৎ কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্থ হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হবেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। কোম্পানির বাকি শেয়ারের মধ্যে ৩০ দশমিক ১০ শতাংশ উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে, ১৭ দশমিক ৮২ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং শূণ্য দশমিক ৩৭ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে। কোম্পানিটি বর্তমানে জেড ক্যাটাগরিতে লেনদেন হচ্ছে।

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে লোকসানের জন্য কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৫৮ পয়সা। যেখানে আগের হিসাব বছরেও শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছিল ১৪ পয়সা। ওই হিসাব বছরে অবশ্য নামমাত্র শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এর আগে ২০২০ হিসাব বছরেরে জন্য ২ শতাংশ নগদ এবং তার আগের বছরে ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি।
কোম্পানির শেয়ারদর বর্তমানে ফেইসভ্যালুর নিচে অবস্থান করছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে সমাপনী দর দাঁড়িয়েছে ৮ টাকা ৭০ পয়সা। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ৮ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ১৮ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করেছে।

source: https://sunbd24.com

 

money financial balance dhaka diying dse cse

You may also like