ভারতের সহকারী হাইকমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জন গত রবিবার চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে অবস্থিত চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (সিএসই) পরিদর্শন করেন। সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে ছিলেন সিএসইর চেয়ারম্যান এ. কে. এম. হাবিবুর রহমান, বোর্ড পরিচালক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম, শাহজাদা মাহমুদ চৌধুরী এবং নাজনীন সুলতানা। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিএসইর এমডি এম. সাইফুর রহমান মজুমদারসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
DSE
ইরানে যুদ্ধকে ঘিরে বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তায় প্রভাব রয়েছে শেয়ারবাজারে। এর প্রভাব পড়ছে লেনদেনে। গতকাল সোমবার শুরুতে ঢাকার শেয়ারবাজারে অধিকাংশ শেয়ারের দর বাড়লেও শেষে ছিল বিপরীত চিত্র। এর মধ্যে ব্যাংক ও বীমা খাতের শেয়ারের দর কমেছে। মিশ্রধারা ছিল উৎপাদন ও সেবা খাতে।
দিন শেষের তথ্য অনুযায়ী ডিএসইতে ১৯৬ কোম্পানির শেয়ারের দর হারিয়েছে। এর বিপরীতে ১১৪টির দর বেড়েছে। অপরিবর্তিত ছিল ৪২টির দর। এতে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১৫ পয়েন্ট হারিয়ে ৫২৩২ পয়েন্টে নেমেছে।
লেনদেনের প্রথম ঘণ্টায় আড়াই শতাধিক কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের দর বাড়ে। দর হারায় ৫০টির মতো। প্রথম ১০ মিনিটে সূচক ২০ পয়েন্ট বেড়ে ৫২৬৭ পয়েন্ট ছাড়ায়। মাঝে অধিকাংশ শেয়ার দর হারানোয় সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে ৪৪ পয়েন্ট হারিয়ে ৫২২৩ পয়েন্ট পর্যন্ত নেমেছিল।
বাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারও কারও মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের একটা প্রভাব শেয়ার বাজারে রয়েছে। সর্বশেষ দেশে জ্বালানি তেলের দর বৃদ্ধিও প্রভাব ফেলতে পারে। কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের অবসান হবে বা ফের যুদ্ধ শুরু হবে। এছাড়া দেশের অর্থনীতি বর্তমানে চাপে রয়েছে। সরকার আর্থিক সংকটে রয়েছে। এসবের প্রভাব বাজারে রয়েছে।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গতকাল অধিকাংশ ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বীমা কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে। সিমেন্ট এবং টেলিযোগাযোগ খাতের দশ কোম্পানির মধ্যে ৯টিই দর হারিয়েছে। অন্য সব খাতে ছিল মিশ্রধারা। গতকাল ডিএসইতে সোয়া আটশ কোটি টাকা মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, যা রোববারের তুলনায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা বেশি। যদিও ব্যাংক, বীমা এবং প্রকৌশল খাতের লেনদেন কমেছে সাড়ে ৬১ কোটি টাকার।
চলতি হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি’২৬-মার্চ’২৬) সমন্বিতভাবে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি ১ টাকা ৩২ পয়সা আয় হয়েছে। গত বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি ৩৭ পয়সা আয় হয়েছিল।
অন্যদিকে তিন প্রান্তিক মিলিয়ে সমন্বিতভাবে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪ টাকা ৩৭ পয়সা। গতবছর একই সময়ে ১ টাকা ৮৩ পয়সা আয় হয়েছিল।
প্রথম তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি ক্যাশফ্লো ছিল ৪ টাকা ৫০ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৯৯ পয়সা।
গত ৩১ মার্চ, ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ৪১ টাকা ৬২ পয়সা।
অর্থসূচক/
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ক্রমেই বাড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে। এমন অবস্থায় শনিবার সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে পরিবহন ব্যয় থেকে শুরু করে কৃষি উৎপাদন ও শিল্প খাতের কাঁচামাল পরিবহনÑ সব ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি শুধু ব্যয়ই বাড়াবে না, বরং ধাপে ধাপে মূল্যস্ফীতি উসকে দিয়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরও সংকুচিত করবে। একই সঙ্গে উৎপাদন খরচ বেড়ে শিল্প ও কৃষি খাতের গতি মন্থর হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে এক মাসেই দ্বিতীয়বারের মতো বাড়ল ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম। এবার প্রতিকেজিতে বেড়েছে ১৭ টাকা ৬২ পয়সা। এর আগে এপ্রিলের শুরুতে বেড়েছিল ৩২ টাকা ৩০ পয়সা। এতে বাজারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের
নতুন দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। ১২ কেজিতে দাম বাড়ল ২১২ টাকা। এতে করে উৎপাদন, পরিবহন, বিপণনে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে মনে করে বিশেষজ্ঞরা।
দেশে এখন ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন। এর প্রায় ২৪ শতাংশ, অর্থাৎ ১০ লাখ ৪৪ হাজার টন ব্যবহার হয় কৃষিকাজে। দেশের ৮০ শতাংশ সেচ কার্যক্রমও ডিজেলনির্ভর। পাশাপাশি ক্ষেত প্রস্তুত থেকে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্তও ডিজেল লাগে। সরকার লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোয় কৃষকের খরচ বাড়বে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।
এদিকে জ্বালানির দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাস ভাড়া ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে মালিক সমিতি।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারম অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, জ্বালানি তেলের মজুদদাররাসহ সব ব্যবসায়ী দাম বাড়ানোর জন্য সরকারকে নানাভাবে চাপ দিয়ে আসছিলেন। জ্বালানি তেলের সঙ্গে নিত্যপণ্যসহ সবকিছুই সরাসরি জড়িত। এতে সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও বাড়বে।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে শিল্প ও রপ্তানি খাতে প্রভাব পড়বে। উৎপাদন খরচ বাড়বে। তবে আমাদের এখন দামের চেয়ে স্বাভাবিক সরবরাহটা বেশি জরুরি। কারণ জ্বালানির সরবরাহ না থাকলে সবকিছুুই ব্যাহত হয়।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে শিল্পে প্রভাব পড়বে, মূল্যস্ফীতি বাড়বেÑ এগুলো স্বাভাবিক ঘটনা। বাংলাদেশেও তেলের দাম বাড়বে, সেটা অনুমেয় ছিল। কিন্তু দাম বাড়লেও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের সরবরাহে বড় দুর্বলতা আছে। সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, পর্যাপ্ত মজুদ আছে। কিন্তু তেলের পাম্পের যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখলে প্রতিফলিত হয় না। ফলে সরকারের এখন তেলের মজুদ, সাপ্লাই চেইনে কঠোর মনিটরিং করার পরামর্শ দেন তিনি।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গতকাল বলেছেন, ‘দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে মূলত বিশ্ববাজারের অস্থিরতার কারণে। সারা দুনিয়ায় তেলের দাম বেড়েছে। আমেরিকায় দাম দ্বিগুণ হয়েছে, শ্রীলংকায় বেড়েছে ২৫ শতাংশ। জাতীয় তহবিলের ওপর তীব্র চাপ থাকা সত্ত্বেও আমরা দেশের জনগণের স্বার্থে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দাম না বাড়িয়ে ধরে রেখেছিলাম। কিন্তু বাজেট ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মসূচি সচল রাখতে অত্যন্ত নগণ্য হারে এই মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে।’
মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তেলের দাম সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্কেটের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। মূল্যস্ফীতি মূলত সরবরাহ ও চাহিদার ওপর নির্ভর করে। সরকার তেলের পর্যাপ্ত মজুদ ও সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে জনগণের ওপর এর প্রভাব সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করছে।
https://www.dainikamadershomoy.com/details/019d3abf97064
The country’s capital market began the week on a sluggish note today (19 April), as investors remained cautious following the recent adjustment in domestic fuel prices and ongoing uncertainty regarding the Middle East conflict.
The benchmark DSEX index of the Dhaka Stock Exchange (DSE) edged down by approximately 9 points to settle at 5,247.
Market participants remained cautious, refraining from taking fresh positions and instead adopting a wait-and-see stance amid lingering geopolitical and macroeconomic uncertainties that continued to weigh on market momentum.
Despite a relatively steady performance during the mid-session, the early optimism failed to hold as mounting selling pressure in major large-cap scrips eventually eroded the initial gains.
EBL Securities, in its daily market review, noted that the recent hike in domestic fuel prices further reinstated investor caution.
While the benchmark index fell, the blue-chip DS30 index saw a marginal uptick, closing at 1,990. However, the overall market breadth remained bearish, with 223 issues declining against 125 advancing, while 56 remained unchanged.
Trading activity on the premier bourse saw a slight upward trend compared to previous sessions, with total turnover rising to Tk819 crore.
On the sectoral front, the engineering sector dominated market participation, accounting for 18.9% of the total turnover, followed by the textile and general insurance sectors.
However, the majority of sectors recorded negative returns. The paper and printing sector faced the steepest correction, dropping by 1.7%, while the travel and leisure and jute sectors declined by 1.5% and 1.1%, respectively.
In contrast, the general insurance sector emerged as a rare bright spot, posting a 2.2% gain, while the textile and tannery sectors also managed to end the day with marginal positive returns.
Several high-cap stocks acted as significant index draggers during the session, including Islami Bank, Walton Hi-Tech Industries, National Bank, ACI, and Beacon Pharmaceuticals.
On the other hand, turnover leaders included City Bank, Paramount Textile, Khan Brothers PP Woven Bag, Runner Auto, and Acme Pesticides.
Among individual stocks, Runner Auto and Janata Insurance emerged as the top gainers, both surging by 9.94%, while Sonar Bangla Insurance and Prime Textile also posted significant gains.
Conversely, Popular Life First Mutual Fund and Meghna Cement were among the top losers of the session, facing notable price corrections.
The bearish sentiment was mirrored at the Chittagong Stock Exchange (CSE), where the key indices both closed in negative territory.
The CSCX ended 5 points lower at 9,035, while the CASPI shed 9 points to settle at 14,751. Turnover at the port city bourse, however, saw an increase, reaching Tk41 crore
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ক্রমেই বাড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে। এমন অবস্থায় শনিবার সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে পরিবহন ব্যয় থেকে শুরু করে কৃষি উৎপাদন ও শিল্প খাতের কাঁচামাল পরিবহনÑ সব ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি শুধু ব্যয়ই বাড়াবে না, বরং ধাপে ধাপে মূল্যস্ফীতি উসকে দিয়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরও সংকুচিত করবে। একই সঙ্গে উৎপাদন খরচ বেড়ে শিল্প ও কৃষি খাতের গতি মন্থর হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে এক মাসেই দ্বিতীয়বারের মতো বাড়ল ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম। এবার প্রতিকেজিতে বেড়েছে ১৭ টাকা ৬২ পয়সা। এর আগে এপ্রিলের শুরুতে বেড়েছিল ৩২ টাকা ৩০ পয়সা। এতে বাজারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের
নতুন দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। ১২ কেজিতে দাম বাড়ল ২১২ টাকা। এতে করে উৎপাদন, পরিবহন, বিপণনে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে মনে করে বিশেষজ্ঞরা।
দেশে এখন ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন। এর প্রায় ২৪ শতাংশ, অর্থাৎ ১০ লাখ ৪৪ হাজার টন ব্যবহার হয় কৃষিকাজে। দেশের ৮০ শতাংশ সেচ কার্যক্রমও ডিজেলনির্ভর। পাশাপাশি ক্ষেত প্রস্তুত থেকে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্তও ডিজেল লাগে। সরকার লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোয় কৃষকের খরচ বাড়বে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।
এদিকে জ্বালানির দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাস ভাড়া ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে মালিক সমিতি।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারম অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, জ্বালানি তেলের মজুদদাররাসহ সব ব্যবসায়ী দাম বাড়ানোর জন্য সরকারকে নানাভাবে চাপ দিয়ে আসছিলেন। জ্বালানি তেলের সঙ্গে নিত্যপণ্যসহ সবকিছুই সরাসরি জড়িত। এতে সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও বাড়বে।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে শিল্প ও রপ্তানি খাতে প্রভাব পড়বে। উৎপাদন খরচ বাড়বে। তবে আমাদের এখন দামের চেয়ে স্বাভাবিক সরবরাহটা বেশি জরুরি। কারণ জ্বালানির সরবরাহ না থাকলে সবকিছুুই ব্যাহত হয়।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে শিল্পে প্রভাব পড়বে, মূল্যস্ফীতি বাড়বেÑ এগুলো স্বাভাবিক ঘটনা। বাংলাদেশেও তেলের দাম বাড়বে, সেটা অনুমেয় ছিল। কিন্তু দাম বাড়লেও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের সরবরাহে বড় দুর্বলতা আছে। সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, পর্যাপ্ত মজুদ আছে। কিন্তু তেলের পাম্পের যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখলে প্রতিফলিত হয় না। ফলে সরকারের এখন তেলের মজুদ, সাপ্লাই চেইনে কঠোর মনিটরিং করার পরামর্শ দেন তিনি।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গতকাল বলেছেন, ‘দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে মূলত বিশ্ববাজারের অস্থিরতার কারণে। সারা দুনিয়ায় তেলের দাম বেড়েছে। আমেরিকায় দাম দ্বিগুণ হয়েছে, শ্রীলংকায় বেড়েছে ২৫ শতাংশ। জাতীয় তহবিলের ওপর তীব্র চাপ থাকা সত্ত্বেও আমরা দেশের জনগণের স্বার্থে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দাম না বাড়িয়ে ধরে রেখেছিলাম। কিন্তু বাজেট ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মসূচি সচল রাখতে অত্যন্ত নগণ্য হারে এই মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে।’
মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তেলের দাম সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্কেটের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। মূল্যস্ফীতি মূলত সরবরাহ ও চাহিদার ওপর নির্ভর করে। সরকার তেলের পর্যাপ্ত মজুদ ও সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে জনগণের ওপর এর প্রভাব সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করছে।
অংশগ্রহণ বাড়লেও সূচকের পতনেই সপ্তাহের শুরু পুঁজিবাজার উন্নয়নে জেএসডিএ-ডিবিএ কৌশলগত চুক্তি
মন্দা বাজারে সচরাচর বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ হ্রাস পেলেও এবার ঘটছে উল্টোটা। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যেও বিনিয়োগকারীরা বাজারের সাথেই রয়েছেন, প্রতিদিনের লেনদেনই তার প্রমাণ। প্রায় প্রতিদিনই দেশের পুঁজিবাজারগুলোতে লেনদেন একটি সম্মানজনক অবস্থান ধরে রেখেছে। গতকাল সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। সূচকের মিশ্র আচরণ সত্ত্বেও লেনদেন বেড়েছে দুই বাজারেই। পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তার কারণে পুঁজিবাজারে সাময়িক নেতিবাচক আচরণ থাকলেও সামনের দিনগুলোতে বাজার আবার স্বাভাবিক আচরণে ফিরবে- এমনটিই প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের।
বরাবরের মতো গতকালও সূচকের উন্নতি দিয়েই দিন শুরু করে দেশের দুই পুঁজিবাজার। কিন্তু এবারো বিক্রয়চাপের কারণে তা ঠিক থাকেনি। লেনদেন শুরুর প্রথম এক ঘণ্টা বেশ ক’বার সূচকের ওঠানামার পর বেলা ১১টার দিকে দুই বাজারেই সূচকের উল্লেখযোগ্য উন্নতি রেকর্ড করা হয়। কিন্তু বেলা ১১টার পর আবারো সৃষ্টি হয় বিক্রয়চাপ যা লেনদেনের শেষ পর্যন্ত বজায় ছিল। এতে দিনশেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৯ দশমিক ২০ পয়েন্ট অবনতির শিকার হয়। সকালে পাঁচ হাজার ২৫৬ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করা সূচকটি রোববার দিনশেষে নেমে আসে পাঁচ হাজার ২৪৭ দশমিক ৫৩ পয়েন্টে। এ সময় বাজারটির বিশেষায়িত দু’টি সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচকটি দশমিক ০৮ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখলেও ডিএসই শরিয়াহ সূচকটি হারায় ৪ দশমিক ২২ পয়েন্ট।
দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক এ দিন ৯ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট অবনতির শিকার হয়। ১৪ হাজার ৭৬১ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট থেকে শুরু করা সূচকটি ওইদিন বিকালে ১৪ হাজার ৭৫১ দশমিক ৭৭ পয়েন্টে স্থির হয়। একই সময় বাজারটির বিশেষায়িত দুই সূচকের মধ্যে সিএসই-৩০ সূচকটি ২২ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখলেও সিএসসিএক্স সূচকটির অবনতি রেকর্ড করা হয় ৫ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট।
সূচকের মিশ্র আচরণ সত্ত্বেও গতকাল দুই পুঁজিবাজারেই লেনদেনের কমবেশি উন্নতি ঘটে। ডিএসই গতকাল ৮১৯ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে যা আগের দিন অপেক্ষা ১৩ কোটি টাকা বেশি। গত বৃহস্পতিবার ডিএসইর লেনদেন ছিল ৮০৬ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে এ দিন ৪১ কোটি টাকার লেনদেন হয় যা আগের দিন অপেক্ষা ১০ কোটি টাকা বেশি। বৃহস্পতিবার বাজারটির লেনদেন ছিল ৩১ কোটি টাকা।
এ দিকে শেয়ারবাজারের টেকসই উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। জাপানের জাপান সিকিউরিটিজ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (জেএসডিএ) সাথে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। সম্প্রতি জেএসডিএর চেয়ারম্যান ও সিইও তাকাশি হিবিনো এবং ডিবিএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। গতকাল ডিবিএর সেক্রেটারি মো: দিদারুল গনী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ডিবিএর ইতিহাসে এটি প্রথমবারের মতো কোনো আন্তর্জাতিক স্বনিয়ন্ত্রক সংস্থার (এসআরও) সাথে আনুষ্ঠানিক চুক্তি, যা সংগঠনটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ দেশের পুঁজিবাজারকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করার পথে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। চুক্তির আওতায় দুই সংগঠন শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করবে। এর মধ্যে রয়েছে আইন ও বিধিবিধান বিনিময়, স্বনিয়ন্ত্রক সংস্থার শাসনব্যবস্থা উন্নয়ন, তদারকি ও কমপ্লায়েন্স কার্যক্রম শক্তিশালী করা, আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, নতুন বিনিয়োগ পণ্য উদ্ভাবন এবং বিনিয়োগকারী শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ। এ ছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রেও তথ্য আদান-প্রদান ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে উভয় পক্ষ।
সম্পাদিত চুক্তি প্রসঙ্গে ডিবিএ প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, এই সমঝোতা স্মারক বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি। জেএসডিএর মতো অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করার মাধ্যমে পুঁজিবাজারের কাঠামোগত উন্নয়ন, সুশাসন ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি আরো বলেন, এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে, যা দেশের শেয়ারবাজারকে আরো আধুনিক, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব করে তুলবে।
ডিবিএর পক্ষ থেকে এ চুক্তি বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য জেএসডিএ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরো ফলপ্রসূ অংশীদারত্ব গড়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, জেএসডিএর উদ্যোগে গঠিত এশিয়া সিকিউরিটিজ ফোরাম (এএসএফ) এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম। ডিবিএ ২০২৩ সাল থেকে এই ফোরামের সদস্য হিসেবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে আসছে, যা দেশের পুঁজিবাজার উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
গতকাল ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানি ছিল ব্যাংকিং খাতের সিটি ব্যংক। ৩৬ কোটি ৩১ লাখ টাকায় কোম্পানিটির এক কোটি ১৫ লাখ ৬০ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়। ২২ কোটি ২৫ লাখ টাকায় শেয়ার বেচাকেনা করে টেক্সটাইলস খাতের কোম্পানি প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলস উঠে আসে লেনদেনের দ্বিতীয় স্থানে। গতকাল ডিএসইর লেনদেনে শীর্ষ ১০ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে- খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, রানার অটোমোবাইলস, একমি পেস্টিসাইডস, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস, গোল্ডেন সন, টেকনোড্রাগস, ইস্টার্ন ব্যাংক ও মীর আখতার হোসাইন।
মাসের পর মাস, এমনকি বছর ঘুরেও মিলছে না বীমাদাবির টাকা। পলিসির মেয়াদ শেষ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমাসহ সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরও অপেক্ষার শেষ নেই গ্রাহকের। এক সময় নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া বীমা এখন অনেকের কাছে হয়ে উঠেছে অনিশ্চয়তার প্রতীক। দাবির টাকা পেতে বছরের পর বছর দৌড়ঝাঁপ, অজুহাত আর প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পড়ে বিপাকে পড়ছেন লাখো মানুষ। ফলে ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে এই খাতের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা।
সাম্প্রতিক চিত্র আরও উদ্বেগজনক। দেশে প্রায় ১২ লাখ গ্রাহক বিভিন্ন বীমা কোম্পানির কাছে তাদের প্রাপ্য প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। বীমা আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে দাবি নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। বরং মাসের পর মাস, কখনও বছর পার করেও দাবি ঝুলে থাকছে। অনেক কোম্পানি তারল্য সংকটে পড়েছে, আবার কোথাও দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রকট; সব মিলিয়ে দাবি পরিশোধে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের বীমা খাতে নানা অনিয়ম ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। শেখ হাসিনার সরকারের সময় রাজনৈতিক বিবেচনায় একের পর বীমা কোম্পানি লাইসেন্স দিয়েছে। বীমা খাতে শুরুতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও পরে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করলেও ২০১০ সালে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়। তবে দুর্নীতিতে নিমজ্জিত বীমা কোম্পানিগুলোর দাপটের কারণে আইডিআরএর কোনো চেয়ারম্যান স্বস্তিতে মেয়াদ শেষ করতে পারেননি।
বিশেষজ্ঞরা জানান, বীমা খাতের উন্নয়নের প্রথম ধাপ হলো প্রতিটি কোম্পানিকে তাদের নিজস্ব সমস্যা চিহ্নিত করা, সমস্যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা এবং সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। খোদ বীমা কোম্পানির নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএর সংস্কার প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে শক্তিশালী করার মতো কঠোর উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি বীমা কোম্পানি এবং বীমাসংশ্লিষ্ট অন্য দপ্তরের অভ্যন্তরীণ সংস্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কয়েকটি বীমা কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকরা বিনিয়োগের নাম করে গ্রাহকদের জমা করা প্রিমিয়ামের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। কাগজে-কলমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের কথা বললেও বাস্তবে তারা কোথাও তা বিনিয়োগ করেননি।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় এত বেশি প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে, যা দেশের চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত। এই খাতে পেশাদারত্ব ও জনসাধারণের আস্থার অভাব আছে। কেননা, অনেক প্রতিষ্ঠানকে কেবল রাজনৈতিক পছন্দের ভিত্তিতে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে।
নজরুল ইসলাম খান নামের এক বীমাগ্রাহক ২০০৮ সালে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে বীমা করেন। ২০২০ সালে মেয়াদ পূর্ণ হয়। এরপর দুই বছর ঘুরে মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু বীমা দাবির টাকা ফেরত পাননি। পরবর্তী সময়ে তিনি মারা গেলে তার ছেলে কোম্পানির সঙ্গে যখনই টাকা ফেরত চাইতে যোগাযোগ করেন, তখন আজ না কাল বলে ঘোরাতে থাকে। নানা অজুহাত দেয়।
জাহিদুল ইসলাম নামের আরেক গ্রাহক জানান, তার শ্বশুরের দুটি বীমার মেয়াদ পূর্ণ হলেও তিনি টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। অথচ বীমা আইন ২০১০ অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় সব নথি পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে বীমা কোম্পানিগুলোকে দাবি নিষ্পত্তি করতে হয়। শুধু তারাই নয়, তার মতো ১২ লাখ গ্রাহক বীমা দাবির টাকা পাচ্ছেন না।
আইডিআরএর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩২টি বীমা কোম্পানির প্রায় ১২ লাখ গ্রাহকের মেয়াদ পূর্ণ হলেও এখনও অর্থ পাননি। তার মধ্যে সাতটি কোম্পানি বকেয়া পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত ছয় বছরে পুঞ্জীভূত অনিষ্পন্ন দাবির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪০৩ কোটি টাকায়। ২০২৩ সালে প্রায় ১০ লাখ গ্রাহক ২৯টি কোম্পানির কাছ থেকে বীমা দাবির টাকা পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন এবং বকেয়া দাবির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৫০ কোটি টাকা। এরপর সময় যত গড়িয়েছে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক বছরে জীবন বীমা কোম্পানিগুলো ৮ হাজার ৭৫৪ কোটি টাকার দাবি নিষ্পত্তি করেছে, যা মোট দাবির ৬৬ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। অথচ আইডিআরএর তথ্য অনুযায়ী, জীবন বীমা খাতে দাবি নিষ্পত্তির হার ২০২০ সালেও ছিল ৮৫ শতাংশ। যেখানে বীমা দাবি নিষ্পত্তির বৈশ্বিক গড় প্রায় ৯৭-৯৮ শতাংশ এবং প্রতিবেশী ভারতে ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই হার ছিল প্রায় ৯৮ শতাংশ।
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সু্যুরেন্সে ৩ হাজার ৪৪২ কোটি টাকার বীমা দাবি থাকলেও পরিশোধ করেছে মাত্র ২১৪ কোটি টাকা। ফলে তাদের ৫ লাখ ৬৬ হাজার গ্রাহকের এখনও ৩ হাজার ২২৮ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। ২০২১ সালের এপ্রিলে আইডিআরএর নির্দেশে সিরাজ খান বসাক অ্যান্ড কোম্পানি পরিচালিত এক নিরীক্ষায় দেখা যায়, কোম্পানিটির ২ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৪৩২ কোটি টাকার হিসাবে অনিয়ম রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, অতিমূল্যে জমি কেনা এবং কোম্পানির মুদারাবা টার্ম ডিপোজিট রিসিপ্টস (এমটিডিআর) বন্ধক রেখে ব্যাংক ঋণ নেওয়ার মাধ্যমে মূলত অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সু্যুরেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রহিম ভূইয়া আমাদের সময়কে বলেন, প্রিমিয়াম আদায় বৃদ্ধি এবং জমি-জায়গা বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকার জায়গায় কোটেশন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও যেসব টাকা আত্মসাৎ হয়েছে, সেগুলো পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মামলা করা হয়েছে। চার্জশিটও দেওয়া হয়েছে।
পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্সু্যুরেন্স ২৮০ কোটি ৮১ লাখ টাকার বিপরীতে মাত্র ১১ কোটি ২১ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। আর প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ২০৭ কোটি ১৫ লাখ টাকার মধ্যে ৪৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা নিষ্পত্তি করেছে।
প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুল আমীন আমাদের সময়কে বলেন, তারল্য সংকটে বীমা দাবি পরিশোধ করা যাচ্ছে না। ইতোমধ্যে বিষয়টি পরিচালনা পর্ষদে আনা হয়েছে। আমাদের অ্যাসেট বিক্রি করে বীমা দাবি পরিশোধ করা হবে। তবে এতদিন কাগজপত্রে জটিলতা ছিল। সেটি অনেকখানি গুছিয়ে আনা হয়েছে।
গোল্ডেন লাইফ ইন্সু্যুরেন্স ৫২ কোটি ৪৪ লাখ টাকার মধ্যে ৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে এবং সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্সু্যুরেন্স কোম্পানি ২৩৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকার মধ্যে ১২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা নিষ্পত্তি করেছে। বায়রা লাইফ ইন্সু্যুরেন্স কোম্পানি ৮০ কোটি ৬১ লাখ টাকার মধ্যে মাত্র ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা দিতে পেরেছে।
ফলে বায়রা লাইফের ৩৩ হাজার ১৩১ জন, গোল্ডেন লাইফের ১৮ হাজার ৩৩১ জন, পদ্মা লাইফের ২ লাখ ৩৫ হাজার, প্রগ্রেসিভ লাইফের ৪২ হাজার ১৬২ জন এবং সানফ্লাওয়ার লাইফের ৮৪ হাজার ৯৪৩ জন বিমাকারীর টাকা এখনো পরিশোধ করা বাকি।
গোল্ডন লাইফ ইন্সু্যুরেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুমল কান্তি দাস আমাদের সময়কে বলেন, আমরা গ্রাহকের দাবি পরিশোধের চেষ্টা করছি। বীমা দাবি পরিশোধ বাড়ানোর বিষয়ে আইডিআরএ এবং ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের উদদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম জাহীদ বলেন, দেশের বীমা শিল্পের প্রতি মানুষের আস্থা তলানিতে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষ বীমা থেকে আরও মুখ ফিরিয়ে নেবেন। এ ক্ষেত্রে আইডিআরএকে আরও কঠোর ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। বেশ কয়েকটি বীমা কোম্পানি অলাভজনক অবস্থায় প্রচুর বীমা দাবি ঝুলিয়ে নিয়ে বসে আছে। আবার অনেক কোম্পানি দাবি নিষ্পত্তি করতে চায় না। কারণ তারা মনে করে এর পরও তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের পরামর্শক সাইফুননাহার ?সুমি বলেন, বীমা খাতে তারল্য সংকট কাটাতে কঠোর হচ্ছে আইডিআরএ। কোম্পানির গ্রেডিং চালু, দুর্বলদের বিশেষ অডিট, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হচ্ছে।
https://www.dainikamadershomoy.com/details/019da249fb111
প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারীর সঙ্গে বিএসইসির সভা
প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) তানভীর গনির সঙ্গে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসির কার্যালয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ, কমিশনার মু. মোহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ ও মো. সাইফুদ্দিন, সিএফএ এবং বিএসইসির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বিএসইসির ভূমিকা, সামগ্রিক কার্যাবলি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও সক্ষমতা, পুঁজিবাজারের ইকোসিস্টেম ও রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক, পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বিএসইসি কর্তৃক বাস্তবায়িত উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম ও অর্জিত সাফল্য এবং নির্বাচনী ইশতাহার বাস্তবায়নে বিএসইসির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরে একটি প্রেজেন্টেশন প্রদান করা হয়। পুঁজিবাজারের সংস্কার ও টেকসই উন্নয়নে সাম্প্রতিক সময়ে বিএসইসি কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে বিশেষ সহকারীকে অবহিত করা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী পুঁজিবাজারের বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেন। —বিজ্ঞপ্তি
https://bonikbarta.com/economy/07oI17YxBfp5rCNz
Stocks closed flat this week as investors remained cautious amid lingering uncertainty surrounding ceasefire negotiations between the US and Iran, keeping overall market sentiment subdued.
Market participants said the bourse is currently in a consolidation phase, as investors lack strong directional conviction due to mixed macroeconomic signals and geopolitical tensions.
“The market direction will largely hinge on developments in the Middle East, particularly any clarity on the US-Iran ceasefire,” said a leading stockbroker.
He added that investors have become increasingly sensitive to external shocks, especially potential disruptions in energy supply and volatility in global oil prices.
Despite the cautious sentiment, trading activity reflected a two-sided market. Opportunistic investors engaged in bargain hunting, targeting undervalued stocks, while risk-averse investors continued to offload shares — particularly large-cap stocks — keeping the benchmark index largely unchanged.
The week began on a positive note, supported by buying interest in December-closing stocks amid expectations of favourable corporate earnings. However, the momentum proved short-lived as the absence of tangible progress in ceasefire negotiations triggered renewed selling pressure.
Although later sessions witnessed intermittent recovery attempts driven by bargain hunters and optimism over possible diplomatic progress, persistent selling in major large-cap stocks capped gains.
Investors also remained watchful ahead of corporate earnings announcements for the January-March quarter, and December-closing companies.
The market operated for four sessions during the week, with a session closed on Tuesday for Pahela Baishakh. Of the four sessions, three ended higher while one closed lower.
DSEX, the benchmark index of the Dhaka Stock Exchange (DSE) inched down by nearly 1 point, or 0.02 per cent, to settle the week at 5,257. It had gained 38 points in the previous week.
The DS30 index, comprising blue-chip stocks, fell 12 points to 1,990. However, the DSES index, which tracks Shariah-compliant securities, gained 3 points to close at 1,066.
Analysts believe any concrete progress in US-Iran negotiations could help restore investor confidence and trigger a short-term rally. Conversely, further escalation may intensify risk aversion, particularly in large-cap stocks.
At the same time, the ongoing corporate earnings season is expected to play a crucial role in shaping near-term market direction. Strong earnings — especially from banking and pharmaceutical sectors — could attract fresh buying interest.
However, persistent inflationary pressure and the risk of energy price shocks due to global oil market volatility may limit upside momentum.
This week, the major index pullers were Beacon Pharma, Pioneer Insurance, Mir Akther Hossain Ltd, Dominage Steels and Paramount Textile while major index draggers were Islami Bank, Pubali Bank, LafargeHolcim, BRAC Bank and Square Pharma.
Market liquidity, however, improved this week. Total turnover on the DSE stood at Tk 32.73 billion, slightly lower than Tk 33.50 billion in the previous week, but with one fewer trading session.
As a result, average daily turnover jumped 22 per cent to Tk 8.18 billion, up from Tk 6.70 billion a week earlier.
Sector-wise, engineering dominated turnover, accounting for 17.2 per cent, followed by pharmaceuticals (11.6 per cent) and general insurance (10.3 per cent).
Market breadth remained positive, with 213 issues advancing, 142 declining, and 35 remaining unchanged out of 390 traded securities.
Major sectors showed mixed performance. Engineering, pharmaceuticals, and textile sectors posted gains, while banking, food, telecom, and power sectors ended lower.
Khan Brothers PP Woven Bag Industries topped the turnover chart with Tk 1.5 billion, followed by Acme Pesticides, City Bank, Lavello Ice-Cream, and Dominage Steel.
The Chittagong Stock Exchange (CSE) also ended the week flat. Its All Shares Price Index (CASPI) declined 12 points to 14,761, while the Selective Categories Index (CSCX) edged up 1 point to 9,040.
The port city bourse recorded a turnover of Tk 1.50 billion, with 36.1 million shares and mutual fund units changing hands.


