Home Stock Market নির্দিষ্ট খাত নির্ভরতায় চলছে পুঁজিবাজার

নির্দিষ্ট খাত নির্ভরতায় চলছে পুঁজিবাজার

by fstcap

বিনিয়োগকারীদের পছন্দ ও বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের ওপর ভর করেই প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে পুঁজিবাজারের আচরণ। সাম্প্রতিক সময়ে বাজার বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে সুনির্দিষ্ট কিছু কোম্পানি ও নির্দিষ্ট কয়েকটি খাতকে কেন্দ্র করেই বাজারের গতি নির্ধারিত হচ্ছে। বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং বিনিয়োগ ঝুঁকির মাত্রার ওপর নির্ভর করেই সাধারণত তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। বিশ্লেষকদের মতে, যতক্ষণ পর্যন্ত বাজারে পূর্ণাঙ্গ আস্থা ফিরে না আসছে, ততক্ষণ এ ধরনের প্রবণতাই অব্যাহত থাকবে।

এক সময় পুঁজিবাজারে মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির প্রতিই বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেশি ছিল। বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বড় একটি অংশ দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে এসব কোম্পানির লভ্যাংশকে প্রাধান্য দিতেন। কিন্তু পরবর্তীতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়লেও বাজারের গভীরতা সেই অনুপাতে বাড়েনি। অর্থাৎ চাহিদার বিপরীতে ভালো শেয়ারের সরবরাহ বৃদ্ধি পায়নি। এমনকি গত তিন বছরে ভালো বা খারাপ- কোনো ধরনের উল্লেখযোগ্য কোম্পানিই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়নি।

 

এ পরিস্থিতির জন্য দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের চেয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অক্ষমতাকেই বেশি দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে ভালো শেয়ারের অভাবে বিনিয়োগের সুযোগ ক্রমেই সীমিত হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। এর ফলেই প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে নির্দিষ্ট খাত বা কিছু নির্বাচিত স্ক্রিপ্টের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

যেকোনো মূল্যে বাজার থেকে মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতা বর্তমানে পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক আচরণকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে মনে করছেন অনেক ব্যক্তি বিনিয়োগকারী। তাদের মতে, বাজারের প্রধান শক্তি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নিজেদের সক্ষমতা ব্যবহার করে বাজারকে প্রভাবিত করতে পারেন, যেখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সে ক্ষমতা নেই।

ফলে দেখা যায়, নির্দিষ্ট কোনো কোম্পানি বা খাতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা দর বাড়িয়ে মুনাফা তুলে নিতে সক্ষম হন- তা কোম্পানি ভালো হোক বা খারাপ। বিষয়টি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে অনৈতিক মনে হলেও তাদের করার কিছু থাকে না। একই সাথে শেয়ারের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির এই খেলায় অংশ নিতে গিয়ে অনেক বিনিয়োগকারী ঝুঁকির মুখে পড়েন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পূবালী ব্যাংক সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহসান উল্যা নয়া দিগন্তকে বলেন, বাজার আচরণের ওপর নির্ভর করেই ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেয়। বর্তমানে নির্দিষ্ট স্ক্রিপ্ট ও খাতভিত্তিক বিনিয়োগে আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, বিনিয়োগকারীরা একটি খাত বা কোম্পানি থেকে মুনাফা তুলে অন্য খাতে স্থানান্তর করছেন। এতে বাজারের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে কি না- এ প্রশ্নে তিনি জানান, বাজারে পূর্ণ আস্থা ফিরে এলে ধীরে ধীরে সব খাতেই বিনিয়োগ ছড়িয়ে পড়বে এবং বাজার স্বাভাবিক আচরণে ফিরবে।

গতকাল রোববার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের দুই পুঁজিবাজারেই সূচক ও লেনদেন বেড়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৭ দশমিক ৫৯ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৯৮ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট থেকে দিনশেষে ৫ হাজার ৩১৬ দশমিক ১৮ পয়েন্টে দাঁড়ায়। দিনের শুরুতে সূচকটি ৪০ পয়েন্টের বেশি বাড়লেও পরবর্তীতে বিক্রয়চাপের মুখে পড়ে এবং শেষ দিকে সেই বৃদ্ধির বড় অংশ হারায়। এদিন ডিএসই-৩০ সূচক ১১ দশমিক ৩৬ পয়েন্ট বাড়লেও ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট কমে যায়।

 

অন্য দিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪৪ দশমিক ৭২ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৮৭৬ দশমিক ৪৪ পয়েন্টে দাঁড়ায়। সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচক যথাক্রমে ৭৭ দশমিক ৪১ ও ৩৫ দশমিক ৪০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। লেনদেনের ক্ষেত্রেও উন্নতি দেখা গেছে। ডিএসইতে মোট ৯৮২ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ৯৮ কোটি টাকা বেশি। আগের কার্যদিবসে লেনদেন ছিল ৮৮৪ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম বাজারে লেনদেন হয়েছে ২৩ কোটি টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় ২ কোটি টাকা বেশি।

ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে ছিল প্রকৌশল খাতের ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস। কোম্পানিটির ৪৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকার ৭২ লাখ ৬৫ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল সিটি ব্যাংক, যার ৩৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকার ১ কোটি ৭ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

লেনদেনের শীর্ষ দশে থাকা অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- পিপলস লিজিং, লাভেলো আইসক্রিম, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, একমি পেস্টিসাইডস, সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ এবং আনোয়ার গ্যালভানাইজিং।

মূল্য বৃদ্ধিতে শীর্ষে ছিল এপেক্স ট্যানারি, যার শেয়ারদর ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেড়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, যার দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এ তালিকার অন্য কোম্পানিগুলো হলো- সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, গোল্ডেন সন, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স, সাউথইস্ট ব্যাংক, এপেক্স স্পিনিং এবং বেঙ্গল উইন্ডসর থার্মোপ্লাস্টিকস।

অন্য দিকে দরপতনের শীর্ষে ছিল ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, যার দর ৮ শতাংশ কমেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল পিপলস লিজিং, যার দর কমেছে ৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ। দরপতনের তালিকায় আরো রয়েছে- রিজেন্ট টেক্সটাইলস, প্যামিলিটেক্স, রূপালী ব্যাংক, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, বিডি অটোকারস, এসিআই ফরমুলেশন এবং বঙ্গজ লিমিটেড।

https://dailynayadiganta.com/printed-edition/OxGuJ4JCV80l

You may also like