Home Industry News পুঁজিবাজার থেকে অর্থায়নের পরিমাণ দেশের মোট স্থায়ী মূলধনের মাত্র ৬ শতাংশ

পুঁজিবাজার থেকে অর্থায়নের পরিমাণ দেশের মোট স্থায়ী মূলধনের মাত্র ৬ শতাংশ

by fstcap

২০২৬ সালের মার্চ শেষে দেশের পুঁজিবাজারের ইস্যুকৃত মূলধনের পরিমাণ ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। অর্থাৎ পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের কাছে এখন পর্যন্ত ১ লাখ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে।

 

দেশের গ্রস ফিক্সড ক্যাপিটাল ফরমেশন বা মোট স্থায়ী মূলধনের সঙ্গে তুলনা করলে এর পরিমাণ দাঁড়ায় মাত্র ৬ শতাংশে।

 

দেশের পুঁজিবাজারের যাত্রা সাত দশক আগে, ১৯৫৬ সালে। স্বাধীনতার পর ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে আনুষ্ঠানিক লেনদেন চালু হয়। সেই হিসেবেও পুঁজিবাজারের যাত্রা পাঁচ দশকের। অথচ পুঁজির জোগানের দিক থেকে এখনো তলানিতে রয়ে গেছে পুঁজিবাজার। অর্থনীতির আকার বিবেচনায় নিলে দেখা যায় যে বিশ্বের আর কোথাও পুঁজিবাজার থেকে এত কম অর্থায়ন হয়নি। তার ওপর গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে নতুন কোনো কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসছে না।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে দেশের পুঁজিবাজারে ইস্যুকৃত মোট মূলধনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা। গতকালের দর অনুযায়ী প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা হিসাবে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৮৪১ কোটি বা ৮ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বাংলাদেশের গ্রস ফিক্সড ক্যাপিটাল ফরমেশনের (জিএফসিএফ) আকার ছিল ১৩৮ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে গত পাঁচ দশকে পুঁজিবাজার থেকে অর্থায়নের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মোট স্থায়ী মূলধনের ৬ শতাংশে।

 

জিএফসিএফ বা মোট স্থায়ী মূলধন গঠন হলো জাতীয় পরিসরে নিট বিনিয়োগের ধারণা, যা সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে অ-আর্থিক সম্পদে ব্যয় পরিমাপ করে। মোটা দাগে কোনো দেশে উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানোর জন্য যেসব সম্পদ (অবকাঠামো, ভবন ও যন্ত্রপাতি) নতুন করে তৈরি বা কেনা হয়, তার মোট মূল্যই হলো গ্রস ফিক্সড ক্যাপিটাল ফরমেশন। এর হিসাবায়নের ক্ষেত্রে সরকারি বিনিয়োগের (অবকাঠামো, মেগা প্রকল্প) পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও বিদেশী বিনিয়োগকেও (এফডিআই) আমলে নেয়া হয়।

 

সারা বিশ্বে শিল্পায়নে মূলধনের জোগান আসে পুঁজিবাজার থেকে। যদিও বাংলাদেশে এ মূলধনের প্রধান উৎস ব্যাংক খাত। এক্ষেত্রে পুঁজিবাজারের অবদান যৎসামান্য। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ব্যাংক ঋণের ৪৩ শতাংশ বা ৭ লাখ ৬৫ হাজার ১১৭ কোটি টাকা অর্থায়ন করা হয়েছে শিল্প খাতে। এর মধ্যে ৪ লাখ ২৩ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা মেয়াদি ঋণ এবং ৩ লাখ ৪১ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা চলতি মূলধন। দেখা যাচ্ছে শিল্প খাতে পুঁজিবাজারের তুলনায় ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হয়েছে সাত গুণেরও বেশি অর্থ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি টাকা, যার প্রায় ৩১ শতাংশই শিল্প খাতে। স্বল্পমেয়াদি আমানতের অর্থ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে শিল্প খাতে ঋণ বিতরণ করার কারণে ব্যাংকগুলোকেও সমস্যায় পড়তে হয়েছে। এক্ষেত্রে পুঁজিবাজার থেকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন করা হলে সেটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর তহবিল সংগ্রহ ব্যয়কেও অনেকাংশে কমিয়ে দিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ইকুইটি বা কোম্পানিনির্ভর হলেও বৈশ্বিক চিত্র এর বিপরীত। বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর পুঁজিবাজার বেশ বৈচিত্র্যময়। সেখানে কোম্পানির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বন্ড, ডেরিভেটিভস, কমোডিটি ও অবকাঠামো প্রকল্পের অর্থায়নও পুঁজিবাজারের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। বাংলাদেশে সিকিউরিটাইজেশনের মাধ্যমে অবকাঠামো প্রকল্পের অর্থায়ন পুঁজিবাজারের মাধ্যমে সংগ্রহ করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও সেটি কখনো আলোর মুখ দেখেনি। তবে সম্প্রতি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে বাজেট আলোচনায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সিকিউরিটাইজেশনের মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়নের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বিষয়টি নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্যানুসারে, আইপিওর মাধ্যমে সর্বশেষ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে নয়টি কোম্পানি পুঁজিবাজার থেকে ৮৪১ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল। এ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিক থেকে এখন পর্যন্ত আইপিওর মাধ্যমে নতুন কোনো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়নি। দেশের পুঁজিবাজারে এত দীর্ঘ সময় ধরে আইপিও না আসার নজির আর কখনো দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, ২০২২ সালের শুরুতেই দেশের পুঁজিবাজারে মন্দা ভাব দেখা যায়, যা বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে। পুঁজিবাজারের এ নিম্নমুখিতার কারণে উদ্যোক্তারা কোম্পানিকে আইপিওতে আনতে আগ্রহ দেখান না। নিম্নমুখী বাজারে শেয়ারের প্রত্যাশিত দাম পাওয়া নিয়ে তাদের সংশয় থাকে। তাছাড়া বিগত সময়ে দেশের পুঁজিবাজারে যেভাবে অনিয়ম ও কারসাজির ঘটনা ঘটেছে তাতে অনেক ভালো কোম্পানি আগ্রহ হারিয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার (সাবেক) ক্ষমতা নিলে অনেকে প্রত্যাশা করেছিলেন যে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে। যদিও সে প্রত্যাশার বাস্তবায়ন হয়নি। তার ওপর সে সময়ের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে কোনো বিনিয়োগে যাননি উদ্যোক্তারা

https://bonikbarta.com/economy/AnrJw6Tja42uS5XY

You may also like