দেশের এক সময়ের জনপ্রিয় ‘ইকোনো’ বলপেনের প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান জি কিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ব্যবসায়িক মন্দার মধ্যেও শেয়ারবাজারে অবিশ্বাস্য এক উত্থান ঘটিয়েছে। টানা আট বছর লোকসান এবং ক্রমাগত বিক্রি কমলেও গত আট মাসে কোম্পানিটির শেয়ারদর ২০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক বিস্ময় ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। যেখানে কোম্পানিটির বার্ষিক বিক্রির পরিমাণ মাত্র ২ কোটি টাকার আশেপাশে, সেখানে তাদের বর্তমান বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৪৭৬ কোটির বেশি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৩০ জুন কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ১৬৯ টাকা ৬০ পয়সা, যা গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বেড়ে ৫৩২ টাকায় ঠেকেছে।
১৯৮১ সালে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটি একসময় বাংলাদেশের মানুষের হাতে হাতে ‘ইকোনো’ কলম পৌঁছে দিয়ে বিপ্লব ঘটিয়েছিল। প্রায় তিন দশক দাপটের সাথে ব্যবসা করার পর ২০১২ সাল থেকে আধুনিক রিফিল কলমের সাথে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে শুরু করে কোম্পানিটি। ২০১৫ সালেও তাদের বার্ষিক বিক্রির পরিমাণ ছিল ২২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। কিন্তু ২০১৭ সালের পর থেকে টানা লোকসানের বৃত্তে বন্দি হয়ে পড়ে জি কিউ বলপেন। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তাদের বিক্রি তলানিতে ঠেকে মাত্র ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে এবং শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১ কোটি ৮৩ লাখ। বর্তমানে কোম্পানিটির ৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের বিপরীতে ৬০ শতাংশ শেয়ারই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।
ব্যবসায়িক এই ধসের কারণ হিসেবে কারখানার পুরনো যন্ত্রপাতি এবং সাধারণ সরাসরি-কালিযুক্ত কলমের পরিবর্তে আধুনিক রিফিল কলমের দিকে গ্রাহকদের ঝুঁকে পড়াকে দায়ী করা হয়েছে। তবে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক উজ্জ্বল কুমার সাহা জানিয়েছেন, কারখানায় বর্তমানে আধুনিকায়ন বা বিএমআরই কার্যক্রম চলছে। এই সংস্কার কাজের কারণেই উৎপাদন ও বাজারে পণ্যের সরবরাহ সাময়িকভাবে কমে গেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আধুনিকায়ন শেষ হলে বাজারে আবার শক্ত অবস্থানে ফিরবে ইকোনো। গত অর্থবছরে মূলত প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতাদের কাছেই তাদের বেশিরভাগ পণ্য বিক্রি হয়েছে।
সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় হলো, গত আট বছর ধরে টানা লোকসানে থাকলেও জি কিউ বলপেন নিয়মিত ডিভিডেন্ড দিয়ে আসছে। বিভিন্ন বছরে ২.৫ শতাংশ থেকে শুরু করে ১২.৫৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে তারা। এমনকি সর্বশেষ ২০২৫ অর্থবছরেও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদান করেছে কোম্পানিটি। বাজারের এই মন্দা দশা কাটিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পুনরায় নিজেদের হারানো আধিপত্য ফিরে পাওয়াই এখন কোম্পানিটির প্রধান লক্ষ্য।
https://sharenews24.com/article/116043/index.html
GQBALLPEN


