অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় ধুঁকতে থাকা ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফআই) অবসায়ন বা লিকুইডেশন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে তিন প্রতিষ্ঠানকে আরো তিন মাসের সময় দিয়ে বাকি ৬ প্রতিষ্ঠানকে অবসায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই তিন প্রতিষ্ঠান হলো- বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি এবং প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।
সভায় উপস্থিত একজন কর্মকর্তা বলেন, এ তিন প্রতিষ্ঠানকে অবসায়ন বা লিকুইডেশন প্রক্রিয়ার মধ্যে রাখা হচ্ছে না। এ তিন প্রতিষ্ঠান আগামী তিন মাস ফান্ড সংগ্রহ করবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জানিয়েছে। তাতে এসব প্রতিষ্ঠান খেলাপি ঋণের বড় ধরনের ফান্ড রিকভারি করতে পারলে তাদের লিকুইডেশন প্রক্রিয়ার মধ্যে রাখা হবে না।
তিনি আরো বলেন, আর এ তিন মাস বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তিন প্রতিষ্ঠানকে কোনো রকমের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে না। যদি এ প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন করতে না পারে, তাহলে সেগুলো লিকুইডেশন প্রক্রিয়ার মধ্যে আনা হবে।
বর্তমানে দেশে ৩৫টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ২০টিকেই সমস্যাগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণের পরিমাণ ২৫ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা, যার মধ্যে ২১ হাজার ৪৬২ কোটি টাকাই খেলাপি (৮৩.১৬ শতাংশ)। বিপরীতে বন্ধকি সম্পদের মূল্য মাত্র ৬ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকা ১৫টি প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার মাত্র ৭.৩১ শতাংশ। গত বছর তারা ১ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা মুনাফা করেছে এবং তাদের ৬ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা মূলধন উদ্বৃত্ত রয়েছে।
সমস্যাগ্রস্ত ২০ প্রতিষ্ঠানে আমানত রয়েছে ২২ হাজার ১২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে গ্রাহকদের নিট ব্যক্তি আমানত প্রায় ৪ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা। অবসায়ন ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় প্রাথমিকভাবে এই অর্থের জোগান প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এছাড়া, অবসায়নের পর কর্মরত কর্মচারীরা চাকরিবিধি অনুযায়ী সব ধরনের সুবিধা পাবেন বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।
৯ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক চিত্র
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আমানতকারীর টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থতা, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং মূলধন ঘাটতি—এই তিন সূচকে ৯টি প্রতিষ্ঠানই ‘অব্যবহারযোগ্য’ অবস্থায় রয়েছে।
এফএএস ফাইন্যান্স: মোট ঋণের ৯৯.৯৩ শতাংশই খেলাপি। পুঞ্জীভূত লোকসান ১ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা;
ফারইস্ট ফাইন্যান্স: ৯৮ শতাংশ ঋণ খেলাপি, লোকসান ১ হাজার ১৭ কোটি টাকা;
বিআইএফসি: খেলাপি ঋণ ৯৭.৩০ শতাংশ, লোকসান ১ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা;
ইন্টারন্যাশনাল লিজিং: খেলাপি ঋণ ৩ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা (৯৬ শতাংশ), যার প্রায় পুরোটাই আদায় অযোগ্য। লোকসান ৪ হাজার ২১৯ কোটি টাকা।
পিপলস লিজিং: খেলাপি ঋণ ৯৫ শতাংশ, লোকসান ৪ হাজার ৬২৮ কোটি টাকা;
আভিভা ফাইন্যান্স: খেলাপি ঋণ ৮৩ শতাংশ, লোকসান ৩ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা;
প্রাইম ফাইন্যান্স: ৭৮ শতাংশ ঋণ খেলাপি, লোকসান ৩৫১ কোটি টাকা;
প্রিমিয়ার লিজিং: খেলাপি ঋণ ৭৫ শতাংশ, লোকসান ৯৪১ কোটি টাকা;
জিএসপি ফাইন্যান্স: খেলাপি ঋণ ৫৯ শতাংশ, লোকসান ৩৩৯ কোটি টাকা।
https://www.tbsnews.net/bangla/Economy/news-details-445111


