যদিও এক-তৃতীয়াংশ শেয়ারের মালিকানা সত্ত্বেও ব্যাংকটির ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি সরকার। বরং অতীতে ব্যাংকটি প্রভাবশালী ও অলিগার্ক শ্রেণীর অনিয়ম-দুর্নীতি এবং লুণ্ঠনের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টানা দেড় দশকের শাসনামলে আইএফআইসি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল তার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের হাতে। যদিও ব্যাংকটিতে তার মালিকানাধীন শেয়ার ছিল মাত্র ২ শতাংশ। ২০১০ সালে চেয়ারম্যান হওয়ার পর এ পদে তিনি বহাল ছিলেন গণ-অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতন হওয়া পর্যন্ত। বেক্সিমকো গ্রুপের এ কর্ণধার অস্তিত্বহীন ও বেনামি ২৮টি কোম্পানির মাধ্যমে সে সময়ে ব্যাংকটি থেকে সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকার বেশি লোপাট করেছেন বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে উঠে এসেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আইএফআইসির কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের মালিকানাধীন শেয়ারের বিপরীতে সবসময়ই ব্যাংকটির পর্ষদে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দুই-তিনজন পরিচালক নিযুক্ত ছিলেন। কিন্তু কোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে তারা বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারেননি। বরং নিজেরাও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও আত্মীয়স্বজনের চাকরির বিনিময়ে সেসবের সহযোগী হয়েছেন।
সালমান এফ রহমানের অবর্তমানে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নিতে নতুন একটি পক্ষ চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন আইএফআইসি ব্যাংকের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তারা বলছেন, নব্বইয়ের দশকের শেষ দিক থেকেই আইএফআইসি ব্যাংক রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ও অলিগার্কদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসছে। যখন যে দল ক্ষমতায় যায়, সে দলের সুবিধাভোগীরা ব্যাংকটির গুরুত্বপূর্ণ পদ দখলে নেন। এক্ষেত্রে মাত্র ২ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা সালমান এফ রহমানের ক্ষেত্রে যথেষ্ট বলে বিবেচিত হয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকটির শেয়ারদর মাত্র ৫ টাকা। সে হিসাবে ২০ কোটি টাকা হলেই ব্যাংকের ২ শতাংশ শেয়ার কেনা যাচ্ছে। এ সুযোগ নিয়ে প্রভাবশালী একটি অংশ পুরো ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আইএফআইসি ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই সময় জ্যেষ্ঠ ব্যাংকার মো. মেহমুদ হোসেনকে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়। এক-তৃতীয়াংশ শেয়ারের মালিকানা সরকারের থাকা সত্ত্বেও আইএফআইসি ব্যাংকের পর্ষদে অলিগার্কদের নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে জানতে চাইলে মেহমুদ হোসেন বলেন, ‘সাধারণত ব্যাংকের মালিকানায় অংশীদারত্ব যার বেশি, তার নিয়ন্ত্রণও বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু আইএফআইসিতে বিগত সময়ে আমরা সেটি দেখিনি। বরং রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা এ ব্যাংকটি নিয়ন্ত্রণ করেছে। এক্ষেত্রে সরকারের প্রতিনিধিরা প্রভাবশালীদের আজ্ঞাবহের ভূমিকা রেখেছে।’
ব্যাংকটিকে এ পরিস্থিতি থেকে বের করে আনা দরকার বলে মনে করেন মেহমুদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘অতীতে সরকারের নিযুক্ত ব্যক্তিরা স্বাধীনভাবে ও সততার সঙ্গে ভূমিকা রাখলে ব্যাংকটি লুণ্ঠনের শিকার হতো না। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটির মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত পরস্পরবিরোধী পরিস্থিতির সুরাহা হওয়া দরকার। অন্যথায় সরকার নিজের শেয়ারের অংশ বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিতে পারে। তাহলে অন্তত ব্যাংক লুটের দায় সরকারের ওপর যাবে না।’
আইএফআইসি ব্যাংকের মোট শেয়ার সংখ্যা এখন ১৯২ কোটি ২০ লাখ ৮৬ হাজার ৬৪৭। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের গত ৩০ জুনের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটির ৩২ দশমিক ৭৫ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা অর্থ মন্ত্রণালয়ের। আর ২১ দশমিক ২৩ শতাংশ শেয়ারের মালিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ৪৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ শেয়ার ছিল সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে। ব্যাংকটির দশমিক ৬৪ শতাংশ শেয়ার বিদেশীদের হাতে রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার আইএফআইসি ব্যাংকের প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ছিল মাত্র ৫ টাকা। যদিও ব্যাংকটির শেয়ারের অভিহিত মূল্যই ১০ টাকা। শেয়ারমূল্যের মতো ব্যাংকটির লভ্যাংশ ঘোষণার পরিস্থিতিও নাজুক। দুই বছর ধরে ব্যাংকটি লোকসানে রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালে ব্যাংকটি নিট লোকসান দিয়েছে ২ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা। আর ২০২৪ সালে ব্যাংকটি ১০২ কোটি টাকা নিট লোকসান দিয়েছিল।
২০২৩ সালের আইএফআইসি ব্যাংকের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বছরের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির মোট শেয়ার সংখ্যা ছিল ১৮৩ কোটি ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭১২। এর মধ্যে সালমান এফ রহমানের হাতে শেয়ার ছিল ৩ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ৪৮০টি, যা ব্যাংকের মোট শেয়ারের মাত্র ২ শতাংশ। ওই সময় ব্যাংকটির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন তার ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান। তিনিও ব্যাংকটির ২ দশমিক ১১ শতাংশ শেয়ারধারী ছিলেন। অন্যদিকে প্রায় ৩৩ শতাংশ শেয়ারের বিপরীতে সরকারের মনোনীত পরিচালক ছিলেন কামরুন নাহার আহমেদ, মো. জাফর ইকবাল ও মো. গোলাম মোস্তফা। তারা তিনজনই সরকারের অতিরিক্ত সচিব ছিলেন। এর মধ্যে গোলাম মোস্তফা এখনো ব্যাংকটির পর্ষদে রয়েছেন।
এক-তৃতীয়াংশ শেয়ারের মালিকানা সত্ত্বেও আইএফআইসি ব্যাংকের পর্ষদের নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে তিনি বলেছেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ব্যাংকটির পর্ষদে পরিচালক মনোনীত করা হয়। অতীতে যেসব অনিয়মের কারণে ব্যাংক খাতে দুর্বলতা তৈরি হয়েছে, সেগুলো আমরা ঠিক করার চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।’
অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে আইএফআইসি ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণ এখন আর ফিরে আসছে না। এ কারণে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ অস্বাভাবিক পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে আইএফআইসি ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণের স্থিতি ছিল ৪৪ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২৭ হাজার ২৫০ কোটি টাকার ঋণ ছিল খেলাপির খাতায়, যা বিতরণকৃত ঋণের ৬১ দশমিক ৪৭ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, খেলাপি হওয়া এসব ঋণের মধ্যে সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা অস্তিত্বহীন বিভিন্ন কোম্পানির নামে বিতরণ করা হয়েছে। এসব ঋণের বিপরীতে তেমন কোনো জামানতও ব্যাংকের কাছে জমা নেই। এগুলো মূলত সালমান এফ রহমানের বেনামি কোম্পানি বলে চিহ্নিত করা হয়। আর সমঝোতার ভিত্তিতে অলিগার্ক হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন ব্যক্তি ও গ্রুপকে ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন সালমান এফ রহমান। সেসব ঋণও এখন আর আদায় না হওয়ায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ ও হার আরো বেড়েছে।
ব্যাংকটির চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিতরণকৃত ঋণের সুদ হিসেবে প্রথম প্রান্তিকে ৩৬২ কোটি টাকা আয় করেছে আইএফআইসি। বিপরীতে একই সময়ে আমানতকারীদের ১ হাজার ১৪০ কোটি টাকার সুদ পরিশোধ করতে হয়েছে। এ কারণে মাত্র তিন মাসে সুদ খাতে ব্যাংকটির লোকসান ছিল ৭৭৭ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে প্রথম প্রান্তিকে ৮৫৭ কোটি টাকা পরিচালন লোকসান দিয়েছে ব্যাংকটি। এ ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে বছর শেষে আইএফআইসির নিট লোকসান গত বছরকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। ২০২৫ সালে ব্যাংকটি ২ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা নিট লোকসান গুনেছে। খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় প্রভিশন বা নিরাপত্তা সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে পারছে না ব্যাংকটি। গত বছর শেষে ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতির পরিমাণ ৪ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘আইএফআইসি অনেক বড় ও পুরনো ব্যাংক। এ ব্যাংকের এক-তৃতীয়াংশ মালিকানাও সরকারের। তার পরও ব্যাংকটিতে যেসব অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে, সেগুলো দুঃখজনক।’
তিনি বলেন, ‘সুশাসনের ঘাটতি থাকার কারণে আমরা ব্যাংকটির পর্ষদ ভেঙে দিয়েছিলাম। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে ব্যাংকটিতে সংঘটিত যাবতীয় অনিয়ম-দুর্নীতি চিহ্নিত করা হয়েছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি ব্যাংকটি যাতে কার্যকর সুশাসনের মধ্য দিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সে চেষ্টা করছে।’
আইএফআইসি ব্যাংকের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল সরকারি-বেসরকারি অর্থায়নে দেশের প্রথম বিনিয়োগ কোম্পানি হিসেবে। ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠালগ্নে এর নাম ছিল ‘ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড কমার্স’ বা আইএফআইসি লিমিটেড। কোম্পানিটির লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশী বিনিয়োগকে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে নিয়ে যাওয়া। লক্ষ্য বাস্তবায়নে শুরুর দিকে বেশ তৎপরতাও ছিল। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে সে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয় আইএফআইসি।
বিনিয়োগ কোম্পানি হিসেবে আইএফআইসির হাত ধরে ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ‘ব্যাংক অব মালদ্বীপ লিমিটেড’। এটি ছিল মালদ্বীপে প্রতিষ্ঠিত প্রথম জাতীয় ব্যাংক। ব্যাংকটির মালিকানার ৪০ শতাংশ ইকুইটির জোগান দিয়েছিল আইএফআইসি। মালদ্বীপের ওই ব্যাংকটির পুরো ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও ছিল আইএফআইসির হাতে। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া কর্মকর্তারা এশিয়ার দ্বীপদেশটির মানুষকে ব্যাংকিং শিখিয়েছেন। যদিও এক সময় ব্যাংকটির মালিকানা থেকে আইএফআইসি ছিটকে পড়েছে। আর ‘ব্যাংক অব মালদ্বীপ লিমিটেড’ এখন সে দেশের সেরা ব্যাংক হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
আইএফআইসিকে ১৯৮৩ সালের ২৪ জুন পূর্ণাঙ্গ তফসিলি ব্যাংকে রূপান্তর করে সরকার। ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন শিল্পোদ্যোক্তা জহুরুল ইসলাম। বাণিজ্যিক ব্যাংকে রূপান্তরের পরও বৈশ্বিক রূপ পাওয়ার চেষ্টা ছিল আইএফআইসির। ১৯৮৫ সালে ব্যাংকটির হাত ধরে প্রতিষ্ঠা পায় ‘ওমান বাংলাদেশ এক্সচেঞ্জ কোম্পানি’। এরপর ১৯৯৩ সালে পাকিস্তানের করাচি ও লাহোরে শাখা খোলে ব্যাংকটি। আর ১৯৯৪ সালে নেপালে ‘নেপাল বাংলাদেশ ব্যাংক লিমিটেড’ ও ১৯৯৯ সালে ‘নেপাল বাংলাদেশ ফাইন্যান্স অ্যান্ড লিজিং কোম্পানি লিমিটেড’ প্রতিষ্ঠা ছিল আইএফআইসি ব্যাংকের বৈশ্বিক যাত্রার উদাহরণ।
নব্বইয়ের দশকের শেষদিক থেকে পথ হারাতে শুরু করে আইএফআইসি ব্যাংক। ওই সময় থেকেই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী অলিগার্করা ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। ক্ষমতাসীন দলের সুবিধাভোগীরা ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদ দখলে নেন। দেশের পুঁজিবাজারে শেয়ারদরের কারসাজিতেও আইএফআইসি ব্যাংকের জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিষ্ঠার প্রথম দুই দশক ছিল আইএফআইসির স্বর্ণালি সময়। তখন প্রতিষ্ঠানটির অভিমুখ ছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। কিন্তু পরে ক্রমেই একটি দেশী ব্যাংকের চরিত্র ধারণ করে। একসময় ব্যাংকটি বৈশ্বিক ব্র্যান্ড হয়ে উঠবে বলে যে প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তা মুখ থুবড়ে পড়ে। আর ২০০৯ সাল-পরবর্তী সময়ে অনিয়ম-দুর্নীতি ও লুণ্ঠনের শিকার হয়ে ব্যাংকটি এখন বড় লোকসান দিচ্ছে।
এক-তৃতীয়াংশ শেয়ারের মালিকানা সত্ত্বেও আইএফআইসি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে না থাকা দুঃখজনক বলে মনে করেন সাবেক অর্থ সচিব এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘সরকার এ ব্যাংকটির ৩৩ শতাংশ শেয়ারের মালিক। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে ব্যাংকটি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীরা নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। এক-তৃতীয়াংশ শেয়ার সরকারের কাছে থাকার পর বাকি শেয়ার রিটেইল বা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকা দরকার ছিল। কিন্তু সেটি না হয়ে প্রভাবশালীরা শেয়ার কিনে ব্যাংকটির পর্ষদের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছেন। অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে ব্যাংকটি থেকে টাকা লোপাট করছেন, এটি হতে পারে না। ব্যাংকটির পর্ষদের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে চেয়ারম্যানসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো যাতে সরকারের নিযুক্ত ব্যক্তিদের হাতে থাকে, সেটিও নিশ্চিত করা দরকার।’
অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিযুক্ত পরিচালকরা কেন অতীতে অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো ভূমিকা রাখতে পারলেন না, এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক এ অর্থ সচিব বলেন, ‘এটি দুঃখজনক বাস্তবতা। সরকারি কর্মকর্তারা সরকারের সামগ্রিক গভর্ন্যান্স নীতির বলি। সরকারের সিগন্যাল বা আশীর্বাদ যদি কোনো মাফিয়া বা অলিগার্কের দিকে থাকে, সেখানে সরকারি কর্মকর্তারা নিরুপায় হয়ে যান।’
IFIC
https://bonikbarta.com/bangladesh/ZgNmfnUHGgUz8r1z


