চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে মুনাফায় বড় ধরনের পতন হয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টস ব্লেন্ডার্স পিএলসির। একই সময়ে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে কোম্পানিটির আয় । ফলে আগের বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় শেয়ারপ্রতি আয়ও (ইপিএস) উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। পাশাপাশি কোম্পানিটির পরিচালন কার্যক্রমে লোকসান এবং পরিচালন নগদ প্রবাহে নেতিবাচক পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রকাশিত চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৬) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৮০ লাখ ৪১ হাজার টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে মুনাফা হয়েছিল ২ কোটি ৪৮ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা কমেছে ১ কোটি ৬৮ লাখ ৫৮ হাজার টাকা বা প্রায় ৬৭ দশমিক ৭১ শতাংশ।
মুনাফার পাশাপাশি কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয়েও বড় পতন হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ৩৮ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ১৫ টাকা ৬৮ পয়সা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি আয় কমেছে ১২ টাকা ৩০ পয়সা।
আয় কমেছে অর্ধেকের বেশি
কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে আয় হয়েছে ১১ কোটি ৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ২৪ কোটি ৭৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির আয় কমেছে ১৩ কোটি ৭৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির প্রত্যক্ষ ব্যয় হয়েছে ১০ কোটি ৯৯ লাখ ১৮ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এই ব্যয় ছিল ২১ কোটি ৯৭ লাখ ৮৯ হাজার টাকা।
ফলে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির মোট মুনাফা দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫ লাখ ১৬ হাজার টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে মোট মুনাফা ছিল ২ কোটি ৮১ লাখ ৫ হাজার টাকা।
এদিকে প্রশাসনিক ও সাধারণ খাতে চলতি প্রান্তিকে ব্যয় হয়েছে ৫৯ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এ খাতে ব্যয় ছিল ৫৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। অর্থাৎ আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও প্রশাসনিক ও সাধারণ ব্যয় কিছুটা বেড়েছে।
এতে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির পরিচালন লোকসান হয়েছে ৫৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। অথচ আগের অর্থবছরের একই সময়ে পরিচালন মুনাফা ছিল ২ কোটি ২৩ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পরিচালন কার্যক্রমে মুনাফা থেকে লোকসানে চলে গেছে প্রতিষ্ঠানটি।
পরিচালনবহির্ভূত আয়েও নির্ভরতা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির পরিচালনবহির্ভূত আয় হয়েছে ১ কোটি ৫৭ লাখ ১৩ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ১ কোটি ৬ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। অর্থাৎ পরিচালনবহির্ভূত আয় বেড়েছে ৫০ লাখ ২৪ হাজার টাকা।
এই আয় যুক্ত হওয়ার পর চলতি প্রান্তিকে কর্মীদের মুনাফা অংশগ্রহণ তহবিলে অর্থ প্রদান ও কর পরিশোধের আগের মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ মুনাফা ছিল ৩ কোটি ৩০ লাখ ৫৮ হাজার টাকা।
চলতি প্রান্তিকে কর্মীদের মুনাফা অংশগ্রহণ তহবিলে ৫ লাখ ১২ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এ খাতে অর্থের পরিমাণ ছিল ১৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকা।
সব মিলিয়ে কর-পূর্ববর্তী মুনাফা হয়েছে ৯৭ লাখ ২২ হাজার টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে কর-পূর্ববর্তী মুনাফা ছিল ৩ কোটি ১৪ লাখ ৬ হাজার টাকা।
কর সংস্থান ও কর-পরবর্তী মুনাফা
চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির আয়কর সংস্থান বাবদ মোট ব্যয় হয়েছে ১৬ লাখ ৮১ হাজার টাকা। এর মধ্যে চলতি কর বাবদ ব্যয় ১৯ লাখ ৪৪ হাজার টাকা এবং বিলম্বিত কর বাবদ আয় বা সমন্বয় হয়েছে ২ লাখ ৬৩ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, আগের অর্থবছরের একই সময়ে আয়কর সংস্থান বাবদ মোট ব্যয় ছিল ৬৫ লাখ ৭ হাজার টাকা। এর মধ্যে চলতি কর ছিল ৬২ লাখ ৮১ হাজার টাকা এবং বিলম্বিত কর বাবদ ব্যয় ছিল ২ লাখ ২৬ হাজার টাকা।
কর ও অন্যান্য হিসাব সমন্বয়ের পর চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৮০ লাখ ৪১ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ কোটি ৪৮ লাখ ৯৯ হাজার টাকা।
এ ছাড়া বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত উদ্বৃত্ত অবচয় তহবিলে স্থানান্তরের পরিমাণ চলতি প্রান্তিকে ৪ হাজার টাকা এবং আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ লাখ ৫ হাজার টাকা।
ফলে অন্যান্য সমন্বয়সহ চলতি প্রান্তিকে মোট ব্যাপক আয় হয়েছে ৮০ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ২ কোটি ৪৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা।
সম্পদমূল্য ও আর্থিক অবস্থার চিত্র
কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৫ কোটি ১৫ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। ২০২৬ সালের ৩০ জুন শেষে মোট সম্পদ ছিল ৭৮ কোটি ৮২ লাখ ১৬ হাজার টাকা। অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে মোট সম্পদ কমেছে ৩ কোটি ৬৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকা।
৩০ সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানিটির অ-চলতি সম্পদের পরিমাণ ছিল ২ কোটি ২০ লাখ ৯১ হাজার টাকা। এর মধ্যে সম্পত্তি, কারখানা ও যন্ত্রপাতির পরিমাণ ২ কোটি ১২ লাখ ৮ হাজার টাকা। স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগের পরিমাণ ৭৬ লাখ ৮৮ হাজার টাকা এবং লেনদেনের উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত আর্থিক সম্পদের পরিমাণ ৮ লাখ ৮৩ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, চলতি সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭২ কোটি ৯৪ লাখ ৪২ হাজার টাকা। এর মধ্যে মজুত পণ্যের মূল্য ১১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা, পাওনা হিসাব ১ কোটি ৪০ লাখ ৪৭ হাজার টাকা, অগ্রিম ও প্রিপেমেন্ট ৩ কোটি ৪২ লাখ ৬ হাজার টাকা এবং নগদ ও নগদ সমতুল্য অর্থের পরিমাণ ৬৭ কোটি ৯৯ লাখ ৯১ হাজার টাকা।
৩০ জুন ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির চলতি সম্পদের পরিমাণ ছিল ৭৫ কোটি ৭৬ লাখ ২৮ হাজার টাকা। ওই সময় নগদ ও নগদ সমতুল্য অর্থের পরিমাণ ছিল ৬৯ কোটি ৯১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
৩০ সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানিটির মোট শেয়ারহোল্ডারদের ইক্যুইটি ও দায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৫ কোটি ১৫ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। এর মধ্যে শেয়ার মূলধন ২ কোটি ৩৮ লাখ ১৪ হাজার টাকা, সংরক্ষিত আয় ৩৯ কোটি ৫ লাখ ৯৩ হাজার টাকা, অবচয় তহবিল ৩৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা এবং সাধারণ রিজার্ভ ৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।
কোম্পানিটির অ-চলতি দায়ের মধ্যে বিলম্বিত কর দায় রয়েছে ২ লাখ ২ হাজার টাকা। অন্যদিকে, চলতি দায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩ কোটি ২৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা। এর মধ্যে বিক্রয় বাবদ অগ্রিম ৯ কোটি ৭৪ লাখ ৩৯ হাজার টাকা, প্রদেয় হিসাব ১৮ কোটি ৯৭ লাখ ৫৭ হাজার টাকা, রিভলভিং ফান্ড ১ কোটি ২১ লাখ ৭ হাজার টাকা, অদাবিকৃত লভ্যাংশ ৮ লাখ ৭৪ হাজার টাকা, আয়কর সংস্থান ২ কোটি ৫৮ লাখ ৪৬ হাজার টাকা এবং শ্রমিকদের মুনাফা অংশগ্রহণ ও কল্যাণ তহবিলের অর্থ ৬৫ লাখ ৫৮ হাজার টাকা।
৩০ জুন ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির মোট শেয়ারহোল্ডারদের ইক্যুইটি ও দায় ছিল ৭৮ কোটি ৮২ লাখ ১৬ হাজার টাকা। ওই সময়ে ইক্যুইটির পরিমাণ ছিল ৪১ কোটি ৭ লাখ ৯ হাজার টাকা এবং চলতি দায় ছিল ৩৭ কোটি ৭০ লাখ ৪২ হাজার টাকা। বিলম্বিত কর দায় ছিল ৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।
নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে
মুনাফা কমলেও কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) বেড়েছে। ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ১৭৫ টাকা ৮৭ পয়সা। ২০২৬ সালের ৩০ জুন শেষে যা ছিল ১৭২ টাকা ৪৯ পয়সা। অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে ৩ টাকা ৩৮ পয়সা।
ইক্যুইটির পরিবর্তনের বিবরণী
কোম্পানিটির ইক্যুইটির পরিবর্তনের বিবরণীতে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ১ জুলাই শেয়ার মূলধন ছিল ১ কোটি ৫৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, সংরক্ষিত আয় ৩১ কোটি ৩০ লাখ ৫ হাজার টাকা, অবচয় তহবিল ২৯ লাখ ৬ হাজার টাকা এবং সাধারণ রিজার্ভ ৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে ওই সময় মোট ইক্যুইটি ছিল ৩৩ কোটি ২৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকা।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে কর-পরবর্তী মুনাফা হিসেবে ২ কোটি ৪৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা সংরক্ষিত আয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়। পাশাপাশি বিনিয়োগ থেকে ২ লাখ ৫ হাজার টাকা উদ্বৃত্ত অবচয় তহবিলে যোগ হয়। ফলে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে মোট ইক্যুইটি দাঁড়ায় ৩৫ কোটি ৭৩ লাখ ৫৩ হাজার টাকা।
পরবর্তী সময়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কর-পরবর্তী মুনাফা হিসেবে ৯ কোটি ১ লাখ ৯১ হাজার টাকা সংরক্ষিত আয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়। বিনিয়োগ থেকে উদ্বৃত্ত হিসেবে অবচয় তহবিলে যুক্ত হয় ৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নগদ লভ্যাংশ বাবদ ৭৯ লাখ ৩৮ হাজার টাকা এবং স্টক লভ্যাংশ বাবদ ১ কোটি ২৭ লাখ ১ হাজার টাকা সমন্বয় করা হয়।
এসব হিসাবের পর ২০২৬ সালের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির শেয়ার মূলধন দাঁড়ায় ২ কোটি ৩৮ লাখ ১৪ হাজার টাকা, সংরক্ষিত আয় ৩৮ কোটি ২৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা, অবচয় তহবিল ৩৬ লাখ ৭২ হাজার টাকা এবং সাধারণ রিজার্ভ ৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে মোট ইক্যুইটি দাঁড়ায় ৪১ কোটি ৭ লাখ ৯ হাজার টাকা।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে কর-পরবর্তী মুনাফা হিসেবে ৮০ লাখ ৩৭ হাজার টাকা সংরক্ষিত আয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগ থেকে উদ্বৃত্ত হিসেবে ৪ হাজার টাকা অবচয় তহবিলে যুক্ত হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানিটির মোট ইক্যুইটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
পরিচালন নগদ প্রবাহেও নেতিবাচক পরিস্থিতি
কোম্পানিটির নগদ প্রবাহ বিবরণী অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে পরিচালন কার্যক্রম থেকে নিট নগদ প্রবাহের পরিমাণ ঋণাত্মক ২ কোটি ৬৮ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ প্রবাহ ছিল ঋণাত্মক ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অর্থাৎ নগদ প্রবাহের ঘাটতি কিছুটা কমলেও কোম্পানিটির পরিচালন কার্যক্রম এখনো নেতিবাচক অবস্থায় রয়েছে।
চলতি প্রান্তিকে গ্রাহক ও অন্যান্য উৎস থেকে নগদ অর্থ আদায় হয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ ৩৪ হাজার ৬০০ টাকা। অন্যদিকে, সরবরাহকারী ও অন্যান্য খাতে নগদ অর্থ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ১৩ কোটি ৩৯ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। এ ছাড়া আয়কর বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৩২ লাখ ৬ হাজার টাকা।
আগের অর্থবছরের একই সময়ে গ্রাহক ও অন্যান্য উৎস থেকে নগদ অর্থ আদায় হয়েছিল ৪ কোটি ১০ লাখ ১৭ হাজার ৪০০ টাকা। সরবরাহকারী ও অন্যান্য খাতে নগদ অর্থ পরিশোধ হয়েছিল ৪৪ কোটি ১৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। আয়কর বাবদ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ৩২ লাখ ৬ হাজার টাকা।
বিনিয়োগ কার্যক্রম থেকে চলতি প্রান্তিকে মূলধনি ব্যয়ের কোনো পরিমাণ দেখানো হয়নি। তবে স্বল্পমেয়াদি স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৭৬ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। ফলে বিনিয়োগ কার্যক্রম থেকে নিট নগদ প্রবাহ হয়েছে ৭৬ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এ খাতে কোনো নগদ প্রবাহ ছিল না।
অন্যদিকে, অর্থায়ন কার্যক্রমে সিএমএসএফে অদাবিকৃত লভ্যাংশ স্থানান্তর এবং লভ্যাংশ পরিশোধের কোনো অর্থ দেখানো হয়নি। ফলে অর্থায়ন কার্যক্রম থেকে নিট নগদ প্রবাহও শূন্য ছিল।
সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির নগদ ও নগদ সমতুল্য অর্থের নিট হ্রাস হয়েছে ১ কোটি ৯১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে নগদ অর্থের নিট হ্রাস ছিল ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
২০২৬ সালের ১ জুলাই কোম্পানিটির হাতে নগদ ও নগদ সমতুল্য অর্থ ছিল ৬৯ কোটি ৯১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। তিন মাসের কার্যক্রম শেষে ৩০ সেপ্টেম্বর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬৭ কোটি ৯৯ লাখ ৯১ হাজার টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে শুরুতে নগদ অর্থ ছিল ৩৭ কোটি ৮৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা এবং প্রান্তিক শেষে তা দাঁড়িয়েছিল ৩৪ কোটি ৩৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা।
এদিকে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) ঋণাত্মক ১১ টাকা ২৮ পয়সা হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ঋণাত্মক ২২ টাকা ৪ পয়সা। অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহের ঘাটতি কমেছে।
কোম্পানিটির প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনটি প্রাথমিক ও অনিরীক্ষিত। প্রতিবেদনের বিস্তারিত তথ্য কোম্পানিটির ওয়েবসাইট www.elbl.portal.gov.bd-এ পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে।
https://sharenews24.com/article/124746/index.html
Easternlub


