Stock Market
শেয়ারবাজারে ভয়াবহ জালিয়াতি
ভুয়া বিও অ্যাকাউন্টে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
৭০ লাখ ৫০ শেয়ার আত্মসাৎ * তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে বিএসইসি
মনির হোসেন
২৩ জুলাই ২০২৩, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ
https://www.jugantor.com/todays-paper/last-page/698914/
দেশের শেয়ারবাজারে জাল কাগজ দিয়ে ভুয়া বিও অ্যাকাউন্ট খুলে মাস্টার ফিড অ্যাগ্রোটেক নামে একটি এসএমই কোম্পানির মৃত পরিচালকের শেয়ার বিক্রি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভয়াবহ এ জালিয়াতির ঘটনায় ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করেছে ফার্স্ট ক্যাপিটাল নামে একটি ব্রোকারেজ হাউজ।
কমিশন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। ১৮ জুলাই ফার্স্ট ক্যাপিটালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাউসার আল মামুন এ ব্যাপারে মতিঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেছেন।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল করিম শনিবার যুগান্তরকে বলেন, ফার্স্ট ক্যাপিটালের অভিযোগ আমরা খতিয়ে দেখছি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অভিযোগের সত্যতা পেলে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফার্স্ট ক্যাপিটালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাউসার আল মামুন স্বাক্ষরিত বিএসইসিতে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মাস্টার ফিড অ্যাগ্রোটেকের পরিচালক ছিলেন রফিকুল আলম। সম্প্রতি তিনি মারা যান। তার নামে বরাদ্দ ৭০ লাখ ৫০ শেয়ার আত্মসাৎ করছে একটি চক্র।
এই শেয়ারের বর্তমান বাজারমূল্য ৯ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে চলতি বছরের ৫ মার্চ উম্মে হাবিবা ইয়াসমিন নামে একজন নারী পাসপোর্ট এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের চেক দিয়ে ফার্স্ট ক্যাপিটালে বিও অ্যাকাউন্ট খোলেন। দুই মাস পর ওই অ্যাকাউন্টে মাস্টার ফিড অ্যাগ্রোটেকের ১৭ লাখ ৬২ হাজার ৫০০টি শেয়ার জমা হয়। এরপর ৪ এপ্রিল থেকে ২৩ মের মধ্যে ১৫ লাখ ৩৫ হাজার ৭০৮টি শেয়ার বিক্রি করে ১ কোটি ১৮ লাখ টাকা নিয়ে যায়।
পরপর বড় অঙ্কের টাকা তুলে নেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে অ্যাকাউন্টের তথ্য তলব করা হয়। এক্ষেত্রে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় যে মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে, তা উম্মে হাবিবার নয়। তিনি নিজেকে উম্মে হাবিবার বোন ইভা আকতার বলে দাবি করেন। উম্মে হাবিবা নিজেকে মৃত পরিচালক রফিকুল ইসলামের স্ত্রী দাবি করেন।
কিন্তু বিও অ্যাকাউন্ট খোলার সময় যে পাসপোর্ট নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানে তার স্বামীর নাম মো. মোকাদ্দেস হোসাইন। দুজনের ঠিকানায়ও মিল নেই। এছাড়াও অ্যাকাউন্টের পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেওয়া হয়েছে মাস্টার ফিডের বর্তমান কোম্পানি সেক্রেটারি আবুল বাসারকে।
এক্ষেত্রে গ্রাহক পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ও নমিনিকেও চেনেন না। এমনকি উম্মে হাবিবা তার শ্বশুরের নামও বলতে পারেননি বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন ডকুমেন্টের ক্ষেত্রেও জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।
এ অবস্থায় মাস্টার ফিডের কোম্পানি সেক্রেটারি আবুল বাসার ব্রোকারেজ হাউজে ফোন করে জানান, গ্রাহক উম্মে হাবিবা অসুস্থ। তাকে ছাড়াই পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমেই লেনদেন নিষ্পত্তি করতে হবে। এতে ব্রোকারেজ হাউজ রাজি না হওয়ায় ১৬ জুলাই মাস্টার ফিডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কবির হোসেন ৪/৫ জনকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে সশরীরে গিয়ে লেনদেন নিষ্পত্তি করতে বলেন।
সে সময়ে বোরকা পরা অবস্থায় শুধু চোখ খোলা একজনকে উম্মে হাবিবা হিসাবে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে অ্যাকাউন্টের ডকুমেন্ট চাইলে তারা গ্রহণযোগ্য কোনো তথ্য দিতে পারেননি। ফার্স্ট ক্যাপিটালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাউসার আল মামুন যুগান্তরকে চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
উম্মে হাবিবার নামে বিও অ্যাকাউন্টে যে মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়েছে, সেখানে যুগান্তরের পক্ষ থেকে বারবার কল করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।
তবে মাস্টার ফিডের কোম্পানি সেক্রেটারি আবুল বাসার যুগান্তরকে বলেন, এখানে কোনো কাগজপত্র জালিয়াতি করা হয়নি। সব বৈধ কাগজের মাধ্যমেই অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। তিনি বলেন, রফিকুল আলম আমাদের কোম্পানি পরিচালক ছিলেন। গত বছর তিনি মারা যান। তার মোট শেয়ারের ২৫ শতাংশ স্ত্রী উম্মে হাবিবাকে নমিনি হিসাবে দিয়েছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর তার স্ত্রীর নামের ২৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে তিনি (হাবিবা) টাকা নিতে চেয়েছেন।
পাসপোর্ট এবং ন্যাশনাল আইডি কার্ডে উম্মে হাবিবার স্বামীর নাম দুই রকম থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, উম্মে হাবিবার আগে একটি বিয়ে হয়েছিল। পাসপোর্টে সেই স্বামীর নাম রয়েছে। পরে তিনি রফিকুল আলমকে বিয়ে করেন। সেই সময় এনআইডি কার্ডে স্বামীর নাম পরিবর্তন করা হয়। তবে ব্রোকারেজ হাউজকে তিনি কোনো ধরনের হুমকি দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন।
https://www.sharenews24.com/article/66483/index.html
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ২১ কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করার জন্য পরিচালনা বোর্ড সভার তারিখ জানিয়েছে। সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কোম্পানিগুলো হলো- সোনার বাংলা ইন্সুরেন্স, রূপালী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, বার্জার পেইন্টস, ব্যাংক এশিয়া, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, মাইডাস ফাইন্যাান্সিং, প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্স, বিডি ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ন্যাশনাল হাউজিং, আইএফআইসি ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ইন্সুরেন্স, ইউনিয়ন ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ব্রাক ব্যাংক, ইউনাইটেড ফাইন্যান্স লিমিটেড, সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স, এনসিসি ব্যাংক এবং ইসলামি কমার্সিয়াল ইন্সুরেন্স।
কোম্পানিগুলোর মধ্যে সোনার বাংলা ইন্সুরেন্সের বোর্ড সভা আগামী ২৬ জুলাই বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে, রূপালী ব্যাংকের আগামী ৩১ জুলাই বিকেল ৩টায়, এক্সিম ব্যাংকের আগামী ২৭ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টায়, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের আগামী ৩০ জুলাই দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে, বার্জার পেইন্টসের আগামী ২৭ জুলাই বিকেল ৫টায়, ব্যাংক এশিয়ার আগামী ২৭ জুলাই বিকেল ৩টায়, আইপিডিসি ফাইন্যান্সের আগামী ৩১ জুলাই বিকেল ৩টায়, মাইডাস ফাইন্যাান্সিংয়ের আগামী ৩০ জুলাই বিকেলে ৩টায়।
প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্সের আগামী ৩০ জুলাই বিকেল ৪টায়, বিডি ফাইন্যান্সের আগামী ৩০ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টায়, প্রিমিয়ার ব্যাংকের আগামী ৩০ জুলাই বিকেল ৩টায়, ন্যাশনাল হাউজিংয়ের আগামী ২৭ জুলাই বিকেল ৪টায়, আইএফআইসি ব্যাংকের আগামী ৩০ জুলাই বিকেল ৫টায়, মার্কেন্টাইল ইন্সুরেন্সের আগামী ৩১ জুলাই ২টা ৪৫ মিনিটে, ইউনিয়ন ব্যাংকের আগামী ৩০ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টায়, ঢাকা ব্যাংকের আগামী ৩১ জুলাই দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে,ব্রাক ব্যাংকের আগামী ৩০ জুলাই বিকেল ৩টায়, ইউনাইটেড ফাইন্যান্স লিমিটেডের আগামী ২৭ জুলাই দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে, সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্সের ৩ আগস্ট বিকেল ৩টায়, এনসিসি ব্যাংকের আগামী ৩০ জুলাই বিকেল ৩টায় এবং ইসলামি কমার্সিয়াল ইন্সুরেন্সের আগামী ৩০ জুলাই বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে।
শেয়ারনিউজ, ২৪ জুলাই ২০২৩
https://www.sharenews24.com/article/66488/index.html
রাষ্ট্রায়াত্ব বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে যাতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক কর্মক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শেয়ারবাজারে সাপোর্ট জোরদার করা যায়। এই লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি গত ১৭ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বার্ষিক কর্মক্ষমতা চুক্তি (এপিএ) স্বাক্ষর করেছে।
চুক্তি অনুসারে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শেয়ারবাজারের সেকেন্ডারি মার্কেটে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা, শেয়ারবাজারে তারল্য প্রবাহ জোরদার করতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মার্জিন ঋণ হিসাবে ৩৫০ কোটি টাকা বিতরণ করা এবং প্রতিদিন অন্যুন ২০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে শেয়ারবাজারের টার্নওভারে বৃদ্ধিতে অবদান রাখা।
শেয়ারবাজারের মন্দা, তারল্য সংকট এবং রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য স্টক মার্কেটের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতাসহ বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জের কারণে আইসিবির স্টক মার্কেট বিনিয়োগ আগের অর্থবছরের তুলনায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫০ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৭২ কোটি টাকা হয়েছে। এর আয়ও ৪৯ শতাংশ কমে ৭১৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা হয়েছে।
এছাড়া, প্রতিষ্ঠানটি মার্জিন ঋণ হিসাবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ৩৮১ কোটি টাকা বিতরণ করেছে এবং গত অর্থবছরে ৩৮২ কোটি টাকা আদায় করেছে, যা ২০২১-২২ অর্থবছরের তুলনায় যথাক্রমে ৬৩ শতাং এবং ৭২ শতাংশ কম।
শেয়ারবাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য, আইসিবি দশ বছরের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ পাওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে। এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সফট লোন হিসেবে ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা চেয়েছে।
আইসিবির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবু তাহের মোহাম্মদ আহমেদুর রহমান শেয়ারনিউজকে বলেন, ‘আমরা ব্যাংক থেকে ধার নিয়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করছি। এ কারণে আমাদের তহবিলের ব্যয় অনেক বেশি। আর এভাবে চলতে থাকলে কোম্পানির শেয়ারবাজারকে সমর্থন করার কোনো সক্ষমতা থাকবে না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছে স্বল্প সুদে ঋণ চেয়েছি কারণ এই সময়ে আমাদের স্বল্প খরচে দীর্ঘমেয়াদী তহবিল দরকার। সরকারও আমাদের সমর্থনে আন্তরিকতা দেখিয়েছে। তাই, আমরা ঋণ পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।’
আইসিবি সূত্রে জানা যায়, কর্পোরেশন নিজেদের স্বার্থ বিবেচনা না করে ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তহবিল ও নিজস্ব তহবিলের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে সহায়তা করে আসছে।
কিন্তু গত কয়েক বছরে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচকগুলো ক্রমাগত পতনের মুখে পড়েছে। এমতাবস্থায় বাজারকে সাপোর্ট দিতে বিভিন্ন ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চ সুদে ১১ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে আইসিবি। ফলে তহবিলের ব্যয় বেড়েছে। আইসিবি ঋণের বিশাল সুদ ত্রৈমাসিক পরিশোধ করছে।
আহমেদুর রহমান বলেন, ‘স্টক মার্কেট থেকে আয় যাই হোক না কেন আমাদের নিয়মিত সুদ দিতে হবে। শুধুমাত্র স্বল্পমূল্যের তহবিলই এখন আমাদের বাঁচাতে পারে।’
সরকার ১৯৭৬ সালে শেয়ারবাজারে অর্থায়নের জন্য আইসিবি গঠন করে। কর্পোরেশন বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে একটি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বেসরকারি খাতে অর্থ ঋণ দেয়।
শেয়ারনিউজ, ২৪ জুলাই ২০২৩
২৩ জুলাই ২০২৩, ০৭:৩৪ পিএম
https://www.dhakapost.com/economy/stock-market/210354
মাস্টার ফিড এগ্রোটেক লিমিটেডের সাবেক পরিচালক রফিকুল আলমের নামের শেয়ার বিক্রি করে টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, এক নারীকে মৃত রফিকুলের স্ত্রী বানিয়ে তার নামে থাকা কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করা হচ্ছে। অভিযুক্তের তালিকায় রয়েছেন বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কবির হোসেনসহ কোম্পানিটির কিছু কর্মকর্তা।
গত বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানের কাছে আসা এক অভিযোগপত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। লিখিত এ অভিযোগপত্রটি জমা দিয়েছেন ফার্স্ট ক্যাপিটাল সিকিউরিটিজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা(সিইও) কাউসার আল মামুন।
অভিযোগপত্রে কাউসার আল মামুন জানিয়েছেন, চক্রটি রফিকুল আলমের নামে বরাদ্দকৃত ৭০ লাখ ৫০ হাজার শেয়ার (যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৯ কোটি টাকা) আত্মসাৎ করেছে। সাড়ে ৭০ লাখ শেয়ারের মধ্যে ২৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক তার স্ত্রীর। আর বাকি ৭৫ শতাংশের মালিক তারা রফিকুল আলমের বাবা।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, চক্রটি উম্মে হাবিবা নামের এক নারীকে রফিকুল আলমের স্ত্রী বানিয়ে তার মোট শেয়ারের ২৫ শতাংশ হাতিয়ে নিয়েছেন। সেসব শেয়ার থেকে ১৫ লাখের বেশি শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে ১ কোটিও বেশি টাকা তুলে নিয়েছেন তারা। এছাড়া আরেক জনকে বাবা বানিয়ে তার কাছে রফিকুল আলমের ৭০ শতাংশ শেয়ার ইতোমধ্যে হস্তান্তর করেছে। এই চক্রের পেছনে রয়েছে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কবির হোসেন এবং কোম্পানি সচিবসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা।
কোম্পানিসূত্রে জানা গেছে, রফিকুল আলমের বাবা সেই ৭০ শতাংশ শেয়ার তার ছেলে তৌহিদুল আলমকে উপহার হিসেবে দিয়েছেন। পরে তৌহিদুল আলমও মারা যান। বর্তমানে রফিকুল আলমের বিও অ্যাকাউন্টে কোনো শেয়ার নেই।
কাউসার আল মামুনের এ অভিযোগটি আমলে নিয়েছে বিএসইসি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ডিএসইর পক্ষ থেকে একটি পরিদর্শন টিম গঠন করতে নির্দেশনা দিয়েছে বিএসইসি।
বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। তিনি বলেন, আমার কাছে একটি অভিযোগ এসেছে। কমিশন থেকে ডিএসইকে পরিদর্শন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে মার্কেট অপারেশন বিভাগের প্রধান আব্দুল জলিল ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিএসইসি থেকে এ সংক্রান্ত কোনো চিঠি এখনো পাইনি। তবে কমিশন পাঠালে পেয়ে যাব।
বিএসইসিকে পাঠানো কাউসার আল মামুনের অভিযোগপত্রে যা ছিল-
উম্মে হাবিবা ইয়াসমিন আমার অফিসে বেনিশিয়ারি ওনার্স (বিও) অ্যাকাউন্টধারী বিনিয়োগকারী। চলতি বছরের ৫ মার্চ মাস্টার ফিড এগ্রোটেকের বিও থেকে উম্মে হাবিবা ইয়াসমিনের বিও অ্যাকাউন্টে ১৭ লাখ ৬২ হাজার ৫০০টি শেয়ার জমা হয়। এর প্রায় এক মাস পর ৪ মে থেকে ২৩ মে- এ সময়ের মধ্যে ১৫ লাখ ৩৫ হাজার ৭০৮টি শেয়ার বিক্রি করে। অর্থাৎ শেয়ার বিক্রি করে তিন দফায় ১ কোটি ১৮ লাখ তুলে নেন। বাকি শেয়ার বর্তমানে বিও হিসাবে সংরক্ষিত আছে। পরপর বড় বড় অ্যামাউন্টের টাকা উত্তোলন করায় বিষয়টি আমার নজরে আসায় CAMLCO হিসাবে আমি বিও অ্যাকাউন্টের সকল তথ্য যাচাই করতে শুরু করি।
দেখা যায়, উম্মে হাবিবার বিও অ্যাকাউন্টে তার স্বামীর নাম মোকাদ্দেস হোসাইন। এখন তিনি তার স্বামী দাবি করছেন রফিকুল আলমকে। কোম্পানির ঠিকানা অনুসারে রফিকুল আলমের বাসা উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরে। কিন্তু ওই বাড়িওয়ালা জানিয়েছেন- রফিকুল আলম নামে কেউ এখানে থাকে না, কখনো ছিল না। আর উম্মে হাবিবার বাসার ঠিকানা ১৭৯, কাওলা মসজিদ রোড, রোড নং-৩, খিলক্ষেত, দক্ষিণ খান।
বিও অ্যাকাউন্টের দেওয়া মোবাইল নম্বরটিতে ফোন করলে আমার সন্দেহ আরও বাড়তে শুরু করে। এই ফোনটিও হাবিবা ইয়াসমিনের না। তার বোন ইভা আকতারের। আর আশ্চর্য হই যখন উম্মে হাবিবার বিও অ্যাকাউন্টের পাওয়ার অফ অ্যাটোর্নি আবুল বাশার। আর নমিনি পিয়ার উদ্দিন তাদেরকে চেনেন না। অথচ বিও অ্যাকাউন্টের নমিনির সঙ্গে সম্পর্ক উল্লেখ করেছেন চাচাতো ভাই।
পরে জানতে পারি- আবুল বাশার হচ্ছেন মাস্টার ফিডের কোম্পানি সচিব আর পিয়ার উদ্দিন হচ্ছেন কোম্পানি কর্মকর্তা। আমার সন্দেহ যখন আরও বাড়ে তখন উম্মে হাবিবাকে বলি- আপনি পাসপোর্ট এবং জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে করে নিয়ে আসবেন। ডিএসইতে যেসব কাগজপত্র জমা দিয়েছেন তা দেবেন কিন্তু কিছু আনেনি, নিয়ে আসেনি।
তার প্রায় ২ মাস পর গত ১৬ জুলাই হঠাৎ করে মাস্টার ফিডের এমডি কবির হোসেন একজন নারীসহ ৪-৫ জন লোকসহ অফিসে আসেন। তিনি বলেন- ইনি উম্মে হাবিবা, উনাকে এনআইডির সঙ্গে ভেরিফাই করেন। তবে অন্য কোনো বিষয় জিজ্ঞেস করতে পারবেন না। আমি তার দাখিলকৃত বিও অ্যাকাউন্ট ডকুমেন্টসের উপরে প্রশ্ন করতেই তারা সবাই আমার উপর ক্ষেপে যায় এবং মারমুখী আচরণ করে এবং আমাকে হুমকি-ধামকি দিয়ে অফিস থেকে চলে যায়। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ১৮ জুলাই মতিঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি (যার নাম্বার ১০৯৭, তাং ১৮/০৭/২০২৩)।
লিখিত অভিযোগে তিনি আরও উল্লেখ করেন, কবির হোসেন ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের ব্যবহার এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ গুলিস্থানের হকারদেরকেও হার মানিয়েছে।
এ বিষয়ে কাউসার আল মামুন বলেন, আমার ২৯ বছরের পেশাগত জীবনে বহু কোম্পানির এমডি চেয়ারম্যান ডিরেক্টরদের সঙ্গে কথা হয়েছে। কিন্তু এমন নিম্নমানের ব্যবহারের এমডি কখনো দেখি নাই। এটা আমাদের পুঁজিবাজারের জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয়।
এ বিষয়ে মাস্টার ফিড এগ্রোটেক লিমিটেডের কবির হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, রফিকুল আলমের ডাক নাম তপু। তিনি উত্তরার বাসাতেই মারা গেছেন। সবাই তাকে তপু নামেই চেনেন। এজন্য হয়ত বাড়িওয়ালা চিনেন নাই। উনি যে মারা গেছেন তার সব কাগজপত্র কোম্পানিতে রয়েছে। তার কপি ডিএসই ও বিএইসিকে দিয়েছি।
রফিকুল আলম উম্মে হাবিবার দ্বিতীয় স্বামী বলেও জানান তিনি।
কবির বলেন, কোম্পানির পক্ষ থেকে মামুনের এমন হয়রানির কথা জানিয়ে আমি বিএসইসি ও ডিএসইর কাছে মৌখিক অভিযোগ করেছি। আজকে লিখিত অভিযোগ করব। তার অভিযোগের জন্য আমাদের কোম্পানির সুনাম নষ্ট হয়েছে। আর পরিচালকের স্ত্রীর মর্যাদা হানি হয়েছে।
এ বিষয়ে উম্মে হাবিবা বলেন, রফিকুল আলম আমার স্বামী। আমার সঙ্গে উত্তরার বাসায় থাকতেন। ৪২ বছর বয়সে তিনি মারা যান। এখন আমি কাওলার বাসায় থাকি। আমাকে অযথা হয়রানি করা হচ্ছে।
কাউসার আল মামুন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমার কাছে মনে হয়েছে- মাস্টার ফিডের একটি চক্র রফিকুল আলমকে মৃত দেখিয়ে তার শেয়ার বিক্রি করে টাকা তুলে নিচ্ছে। কারণ, রফিকুল আলম যে বাসায় ছিলেন উত্তরার সেই বাসার মালিক জানান এই নামের কেউ কখনো এখানে ছিলো না।
তিনি আরও বলেন, উম্মে হাবিবার পাসপোর্ট আর জাতীয় পরিচয়পত্রের ঠিকানার আলাদা। বিও হিসাবে পেশা লিখেছেন গৃহিণী আর জাতীয় পরিচয়পত্রে লিখেছেন ছাত্রী। পাসপোর্টে তার স্বামীর নাম একজন এখন দাবি করছেন আরেকজন। কোথাও মিলছে না। আমি সত্য উদঘাটনের চেষ্টা করায় আমাকে বিএসইসি ও ডিএসইর লোকজনকে দিয়েও হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে।
আমি সত্যি ঘটনা জানতে চেয়ে কমিশনের কাছে আবেদন করেছি, কমিশন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এমআই/এমজে




Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.