- রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ: সরকারি ব্যাংকগুলো মূলত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
- পরিচালক নিয়োগের অনিয়ম: এই ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যান এবং পরিচালক পর্ষদ নিয়োগ দেওয়া হয় রাজনৈতিক বিবেচনায়। ফলে পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত না নিয়ে রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করে।
- ঋণ খেলাপি: ব্যাংকিং রীতিনীতি না মেনেই ঢালাওভাবে ঋণ বিতরণ করার কারণে সেই অর্থ আর ফেরত আসছে না, যার ফলে ব্যাংকগুলোর আর্থিক পরিস্থিতি চরম নাজুক হয়ে পড়েছে।
- জনগণের অর্থের অপচয়: বেসিক ব্যাংককে বাঁচানোর জন্য সরকার জনগণের করের অর্থ থেকে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে পদ্মা ব্যাংককেও মূলধন জোগান দিয়েছিল। কিন্তু অনিয়ম-দুর্নীতির ক্ষত কাটিয়ে উঠতে না পারায় এর ফলাফল শূন্য হয়েছে।
Banking
জামানত ছাড়া বড় ধরনের ঋণ জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে একীভূত হওয়া পাঁচ ইসলামী ব্যাংকে। এই পাঁচ ব্যাংকের ৭৫ শতাংশ ঋণের বিপরীতে কোনো জামানত নেই। ব্যাংকগুলো ন্যূনতম শর্ত পূরণ ছাড়াই ঋণ বিতরণ করেছিল। ফলে খেলাপি হওয়ার পর ব্যাংকগুলো অর্থ আদায়ে ব্যর্থ হয়। এতে আমানতকারীদের অর্থও ফেরত দিতে পারছে না।
আর এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোকে একীভূত করার মতো সিদ্ধান্ত নিতে হয় সরকারকে। ইতোমধ্যে আমানত বিমা তহবিল থেকে এসব ব্যাংকের গ্রাহকদের প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
আলোচ্য পাঁচ ব্যাংক হলো— এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত ডিসেম্বর শেষে পাঁচ ব্যাংকের ঋণ স্থিতি ছিল ১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বিতরণ করা এসব ঋণের বিপরীতে জামানত রয়েছে মাত্র ৪৭ হাজার ৯০০ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের মাত্র ২৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ। বর্তমানে এই পাঁচ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৮৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
এ পাঁচ ব্যাংকের ১ লাখ ১ হাজার ৬০৪ কোটি টাকা একাই নিয়েছে এস আলম গ্রুপ, যা মোট ঋণের ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ, যার বেশির ভাগ ছিল জামানত ছাড়া। এছাড়া নজরুল ইসলাম মজুমদারের প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ ১ হাজার ৭৯৬ কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, এসব ব্যাংক থেকে এস আলম, নজরুল ইসলামসহ যারা ঋণ নিয়েছিলেন তা জামানত ছাড়াই। এতে ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তাদেরও সহযোগিতা ছিল। তা না হলে মাত্র ২৫ শতাংশ জামানত রেখে ঋণ বিতরণ কীভাবে সম্ভব! ঋণ নেওয়ার সময় জামানত অতিমূল্যায়ন দেখানো হয়েছে, যার ফলে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬৩ হাজার কোটি টাকা। এসব ঋণের বিপরীতে জামানত রয়েছে মাত্র ৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের মাত্র আট দশমিক ৫৭ শতাংশ। এই ব্যাংকের বর্তমান খেলাপি ঋণ ৬১ হাজার কোটি টাকা বা ৯৬ দশমিক ৮২ শতাংশ।
ইউনিয়ন ব্যাংকের ২৮ হাজার কোটি টাকার ঋণের বিপরীতে জামানত মাত্র ৪ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের মাত্র ১৪ দশমিক ২৮ শতাংশ। এই ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার কোটি টাকা বা ৯৬ দশমিক ৪২ শতাংশ।
এক্সিম ব্যাংকের মোট ঋণ ৫২ হাজার কোটি টাকা। এসব ঋণের বিপরীতে জামানত ২১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৪০ দশমিক ৩৮ শতাংশ। বর্তমানে এ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৩৭ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ৩৭ হাজার কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে জামানত রয়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ৪৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। ব্যাংকের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ৩১ হাজার কোটি টাকা বা ৮৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ। আর গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের মোট ঋণ ১৫ হাজার কোটি টাকা। এসব ঋণের বিপরীতে জামানত রয়েছে মাত্র দেড় হাজার কোটি টাকা বা ১০ শতাংশ। এ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের ৯৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
জানা গেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এক্সিম ব্যাংক ছিল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে এবং বাকি চারটি ছিল চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপের কর্ণধার ও বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলমের নিয়ন্ত্রণে। তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকার সময় জামানত ছাড়াই ব্যাংকগুলোতে ব্যাপক লুটপাটের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নামে হাতিয়ে নেওয়া হয়। এতে আর্থিক সংকট সৃষ্টি হওয়ায় ব্যাংকগুলো আমানতকারীদের অর্থও ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়। এমন অবস্থায় গত বছর অন্তর্বর্তী সরকার শরিয়াহভিত্তিক এ পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করে।
ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়া হবে। এর বাইরে আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিল থেকে আমানতকারীদের ১২ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রথম দফায় দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে এ তহবিল থেকে আট লাখ ২২ হাজার আমানতকারীকে তিন হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। শুধু ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের তিন লাখ ৫০ হাজার গ্রাহকের এক হাজার ৬০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে সংকটে পড়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ব্যাংকগুলোকে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ৫৯ হাজার কোটি টাকা ধার দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংকগুলোর টাকা পরিশোধের মাধ্যমে একটা স্থিতিশীল পর্যায় নিয়ে আসা গিয়েছিল। এর মধ্যে নতুন ব্যাংকে আমানতকারীরা অর্থও জমা করছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের ব্যাংক রেজুলেশন আইন সংশোধন করে একটি ধারা যুক্ত করা হয়। যার মাধ্যমে আগের মালিকদের ফেরার সুযোগ রাখা হয়েছে। এতে নতুন করে ব্যাংকগুলোয় আমানতকারীদের টাকা তোলার চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে নতুন ব্যাংকটিতেও আস্থার সংকট তৈরি হয়। এছাড়া এই ব্যাংকগুলো একীভূত নিয়ে সরকার থেকে স্পষ্ট কোনো বার্তা না পাওয়ায় সংকট আরো গভীর হচ্ছে। তাই দ্রুত সরকারকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া উচিত।
https://www.dailyamardesh.com/business/bank-financial-institutions/amdi5mvvaaesy
দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক পিএলসি ভয়াবহ আর্থিক চাপে পড়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে ব্যাংকটি ২৮৮ কোটি টাকা লোকসান গুনেছে। একইসঙ্গে খেলাপি ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি ও মূলধন সংকট—সব মিলিয়ে ব্যাংকটির আর্থিক ভিত্তি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ব্যাংকটির প্রকাশিত প্রাইস সেনসিটিভ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে এক টাকা ৭৯ পয়সা।
ইসলামী ব্যাংক বলছে, বিনিয়োগ বা ঋণ থেকে আয় কমে যাওয়া, আমানতের বিপরীতে ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং খেলাপি ঋণের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি—এই তিন কারণেই ব্যাংকটি বড় ধরনের লোকসানে পড়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই লোকসান কেবল একটি প্রান্তিকের দুর্বল পারফরম্যান্স নয় বরং, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, গোপন ঋণ এবং দুর্বল ব্যবস্থাপনার জমে থাকা প্রভাব এখন দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।
খেলাপি ঋণে রেকর্ড
ব্যাংকটির সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪ হাজার ৩২২ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে যা বেড়েছে প্রায় ৪৪ শতাংশ। বর্তমানে ব্যাংকটির মোট বিনিয়োগের ৫১ শতাংশই খেলাপি, যা দেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে একক কোনও ব্যাংকের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ১৭ শতাংশই এখন ইসলামী ব্যাংকের দখলে। অর্থাৎ, দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকির বড় অংশ বহন করছে ব্যাংকটি একাই।
ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগের ব্যবস্থাপনার সময়ে এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিপুল পরিমাণ ঋণ প্রকৃত অবস্থার তুলনায় কম দেখানো হয়েছিল। নতুন ব্যবস্থাপনা দায়িত্ব নেওয়ার পর ধীরে ধীরে প্রকৃত চিত্র প্রকাশ পাচ্ছে।
প্রভিশন ঘাটতি ৮৪ হাজার কোটি টাকা
ব্যাংকটির অডিট রিপোর্টে আরও উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, মন্দ ঋণের বিপরীতে ইসলামী ব্যাংকের ৯২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা সঞ্চিতি বা প্রভিশন রাখার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু, বাস্তবে রাখা হয়েছে মাত্র সাত হাজার ৯২২ কোটি টাকা। ফলে প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার ৬১৫ কোটি টাকা।
নিরীক্ষকদের মতে, এই ঘাটতি পূর্ণাঙ্গভাবে সমন্বয় করা হলে ব্যাংকটির প্রকৃত আর্থিক অবস্থা আরও ভয়াবহ আকারে সামনে আসতো। এমনকি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত ছাড় না থাকলে ২০২৫ সালে ইসলামী ব্যাংকের লোকসান ৮৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেত।
অডিট রিপোর্টে ব্যাংকটির আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে ‘কোয়ালিফাইড ওপিনিয়ন’ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সতর্ক করা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ সহায়তা অব্যাহত না থাকলে ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
মূলধন সংকট আরও গভীর
নিয়ম অনুযায়ী ইসলামী ব্যাংকের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে প্রায় ১৯ হাজার ২০০ কোটি টাকা মূলধন থাকার কথা। কিন্তু, বর্তমানে ব্যাংকটির রিপোর্ট করা মূলধন রয়েছে মাত্র ৯ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা। দৃশ্যমান ঘাটতি ৯ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা হলেও, প্রভিশন ঘাটতি পূর্ণ বিবেচনায় নিলে প্রকৃত মূলধন ঘাটতি প্রায় ৯৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে মনে করছেন নিরীক্ষকরা।
এছাড়া ব্যাংকটির মূলধন পর্যাপ্ততার হার (সিআরএআর) নেমে এসেছে ছয় দশমিক ৪২ শতাংশে, যেখানে নিয়মানুযায়ী ন্যূনতম ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ থাকার কথা।
এস আলম গ্রুপের ঋণই বড় ঝুঁকি
ব্যাংকটির আর্থিক সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে এস আলম গ্রুপের বিপুল ঋণ। অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, গ্রুপটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে ইসলামী ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা আটকে আছে। এর মধ্যে এস আলম স্টিলস ও রিফাইনড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের ঋণ ১০ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা, এস আলম ভেজিটেবল অয়েলের ঋণ ১৪ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা এবং এস আলম সুপার এডিবল অয়েলের ঋণ ১২ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে এস আলম গ্রুপ সংশ্লিষ্ট প্রায় ৮৩ শতাংশ শেয়ার বাজেয়াপ্ত করেছে।
শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব
টানা দ্বিতীয় বছরের মতো লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ইসলামী ব্যাংককে পুঁজিবাজারে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের আস্থাও তলানিতে নেমেছে।
বর্তমানে ব্যাংকটির শেয়ার দর ফ্লোর প্রাইসে আটকে রয়েছে। একইসঙ্গে ২০২৫ সালে ব্যাংকটির নিট বিনিয়োগ আয়ও আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কমে এক হাজার ৮৪৭ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান সংকট শুধু একটি ব্যাংকের সংকট নয়; এটি দেশের ব্যাংকিং খাতের দুর্বল সুশাসন, রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়ন্ত্রিত ঋণ বিতরণের বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে। এখন ব্যাংকটিকে টিকিয়ে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তার পাশাপাশি কার্যকর পুনর্গঠন, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারে কঠোর পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে।
Islamibank
https://www.banglatribune.com/business/news/946433/২৮৮-কোটি-টাকার-লোকসানে-ইসলামী-ব্যাংক-সামনে-বড়
Bangladesh Bank Governor Mostaqur Rahman has called the administrators of the state-owned Sammilito Islami Bank (SIB) to a meeting on Wednesday.The meeting, scheduled for 2pm at the BB Headquarters, comes amid growing uncertainty among depositors and employees about the bank’s operational structure and recent legislative changes, bdnews24.com reports.The SIB was formed on Dec 21 last year by merging five financially troubled Shariah-based private banks: Exim Bank, First Security Islami Bank, Global Islami Bank, Union Bank, and Social Islami Bank (SIBL).
https://thefinancialexpress.com.bd/economy/bangladesh/central-bank-calls-meeting-amid-uncertainty-over-sib
এস আলম গ্রুপসহ ৬টি বড় শিল্পগোষ্ঠীর ঋণের কারণে বাংলাদেশের ২৮টি ব্যাংক বর্তমানে ঝুঁকিতে
১. এস আলম গ্রুপ
২. বেক্সিমকো গ্রুপ
৩. নাসা গ্রুপ
৪. শিকদার গ্রুপ
৫. ওরিয়ন গ্রুপ
৬. সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন গ্রুপ
- খেলাপি ঋণ: প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গ্রুপগুলো রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়েছে, যার একটি বড় অংশ বর্তমানে খেলাপি হয়ে পড়েছে।
- ব্যাংকের নাম: সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, সন্মিলিত ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ও অগ্রণী ব্যাংক।
- তদারকি: পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে কয়েকটি ব্যাংককে লিড ব্যাংক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে যাতে তারা আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় এই অর্থ পুনরুদ্ধারের সমন্বয় করতে পারে।
দেশের ব্যাংকিং খাতে ক্রমবর্ধমান মূলধন ঘাটতি দূর করতে তারল্য সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গতি ফেরাতে ‘ট্রেড সাপোর্ট’ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি)। ব্যাংকিং খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে আইএফসি ব্যাংকভিত্তিক সমীক্ষা চালাবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পুঁজি জোগান দেওয়ার মাধ্যমে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে শক্তিশালী করতে কাজ করবে। এতে বাজারে তারল্য সংকট কমবে এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
ওয়াশিংটনে চলমান বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকে যোগ দেওয়া অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এমন তথ্য দিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী জানান, আইএফসি বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের বড় ধরনের মূলধন ঘাটতি এবং বেসরকারি খাতে টাকার অবমূল্যায়নের ফলে সৃষ্ট মূলধন ক্ষয়ের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। এ প্রেক্ষাপটে সংস্থাটি ব্যাংকগুলোকে তারল্য সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
তিনি বলেন, ‘আইএফসি শুধু ব্যাংকিং খাতেই নয়, বেসরকারি খাতের যেসব কোম্পানি মূলধন সংকটে পড়েছে, তাদের সহায়তা দিতে চায়। একই সঙ্গে বন্ধ প্রতিষ্ঠান বৈদেশিক বিনিয়োগের মাধ্যমে ফের চালু করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।’
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, সরকারের বড় সম্পদগুলো সিকিউরিটাইজেশনের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে ব্যবহার করে অগ্রিম অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনাও আলোচনায় এসেছে। এর ফলে সরকারকে প্রতিটি প্রকল্পে সরাসরি অর্থায়নের চাপ কমবে এবং মুক্ত হওয়া অর্থ নতুন বিনিয়োগে ব্যবহার করা যাবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাত ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, আইএফসির বিনিয়োগ ও কারিগরি সহায়তা তা কাটিয়ে উঠতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর ফলে শুধু ব্যাংক খাতই শক্তিশালী হবে না, বরং দেশে নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে।
এর আগে দিনের শুরুতে অর্থমন্ত্রী ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ বৈঠকে দেশের পুঁজিবাজার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার বর্তমানে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে বন্ডসহ নতুন নতুন আর্থিক পণ্য চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘জেপি মরগানের অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দেবে এবং দেশের ফ্ল্যাগশিপ কোম্পানিগুলোর প্রতি আস্থা বাড়াবে।’
আইওএমের সঙ্গে বৈঠকে বিদেশগামী শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়ানো এবং তাদের আর্থিক শোষণ কমানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়াগামী শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ ও সুরক্ষার বিষয়ে করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপ, জাপানসহ নতুন শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার একটি ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। গ্রামীণ কুটিরশিল্প, তাঁতি, কামার ও কুমারদের উৎপাদিত পণ্যকে বাণিজ্যযোগ্য পণ্যে রূপান্তর করে দেশি-বিদেশি বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া খেলাধুলা ও সংস্কৃতিনির্ভর অর্থনীতিকেও ভবিষ্যতে জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, গত এক দশকে পুঁজিবাজারে যে অনিয়ম হয়েছে, তা দূর করে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। আমরা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে পরিবর্তন আনা এবং বাংলাদেশকে ফ্রন্টিয়ার মার্কেট থেকে ইমার্জিং মার্কেটে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি।
অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারের প্রতিটি বিনিয়োগ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে রিটার্ন, ভ্যালু ফর মানি, কর্মসংস্থান এবং পরিবেশগত বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি বলেন, কর্মসংস্থান ছাড়া তারা কোনো প্রকল্প হাতে নেবেন না।
Islami Bank Bangladesh Limited has sought the recovery of nearly Tk10,000 crore owed by five Shariah-based banks, raising the issue during a meeting with Bangladesh Bank Governor Mostaqur Rahman on Tuesday (31 March).
The meeting was held at the central bank’s headquarters at 11:30am, where the governor met the bank’s board. It was attended by the bank’s chairman, board members, the managing director and other senior officials.
According to sources, Islami Bank Bangladesh Chairman M Zubaidur Rahman urged the prompt recovery of outstanding dues during the discussion.
Sources said Islami Bank also has dues pending from state-owned Janata Bank Limited. In addition, the bank informed the central bank that around Tk1,000 crore in remittance incentives remains pending and requested the release of the funds from Bangladesh Bank.
The lender also sought regulatory support in recovering large loans, relaxation in provisioning requirements under special circumstances, and guidance on maintaining relations with major industrial groups.
In response, Moshtaqur assured the board that the issues would be examined seriously and that decisions on support would be communicated soon, while also pledging full support for smooth operations.
A senior Bangladesh Bank official told The Business Standard that the governor also asked about the bank’s operational challenges and instructed relevant departments to review the matters.
The discussion comes as Islami Bank continues efforts to recover from a prolonged governance crisis.
On 17 February, Bangladesh Bank removed board member Md Abdul Jalil and appointed accountant SM Abdul Hamid in his place.
From 2017 until August 2024, before the fall of the Awami League government, the bank was effectively controlled by the S Alam Group.
During that period, nearly Tk1.2 lakh crore was withdrawn under various names and roughly 10,000 officials were irregularly appointed, pushing the bank into a deep crisis.
After the interim government assumed office in 2024, the bank’s board was restructured, with several senior officials leaving the country. Md Abdul Jalil was later appointed to the reconstituted board.
Tuesday’s meeting marked Governor Moshtaqur’s second discussion with the board.
During the first meeting, he noted that Islami Bank had once been a strong institution but had suffered governance lapses in recent years. He also assured full support from the central bank to restore stability, stressing that the bank must not serve the interests of any single group, political party or family.
Meanwhile, A report submitted by Bangladesh Bank to the Anti-Corruption Commission alleged that the S Alam Group had taken nearly Tk1.9 lakh crore in loans from four of the eight banks it controlled.
Of that amount, Islami Bank alone accounted for about Tk1.05 lakh crore.
The Bangladesh Financial Intelligence Unit reported that more than Tk93,000 crore was laundered through fraudulent companies.
According to the findings, Saiful Alam Masud, head of the S Alam Group, and related entities used their influence to secure the loans either directly or through intermediaries.
https://www.tbsnews.net/economy/governor-assures-islami-bank-board-assistance-smooth-operations-1399251
The shareholders of Pakistan-based Bank Alfalah Limited have approved the sale and transfer of its Bangladesh operations to Dhaka-based Bank Asia Limited for approximately $47.5 million (equivalent to around Tk 5.80 billion), reports UNB.
A source at Bank Asia confirmed that as part of the acquisition, an internal audit of Bank Alfalah’s Bangladesh operations has already been completed. The process, which began several months ago, is now nearing its final stages following the approval by the Pakistani bank’s shareholders. Bank Asia will soon officially take over the assets and operations of Bank Alfalah in Bangladesh.
The decision was announced by the stock-market-listed Bank Alfalah during its recently held Annual General Meeting (AGM). The records of the meeting were submitted to the Pakistan Stock Exchange (PSX) on Friday.
According to the approved resolution, Bank Alfalah has been authorised to transfer its Bangladesh business to Bank Asia Limited. The base consideration for the transaction is set at approximately Tk 5.80 billion, which stands at around $47.5 million at current market rates.
However, the final sale price is subject to standard closing adjustments in accordance with applicable laws and regulations during the merger. The entire acquisition process remains contingent upon the final regulatory approvals from the central banks of both countries-the State Bank of Pakistan and Bangladesh Bank.
Bank Asia, which began its operations in 1999, has a history of expanding its footprint by acquiring the local operations of foreign banks. Previously, it successfully acquired the Bangladesh operations of the Bank of Nova Scotia (Scotiabank) and Muslim Commercial Bank Limited (MCB).
On the other hand, Bank Alfalah is one of Pakistan’s leading commercial banks, operating over 1,000 branches across 200 cities. It also maintains an international presence in Afghanistan, Bangladesh, Bahrain, and the UAE.
Earlier this year, Bank Alfalah also initiated moves to divest its investments from Afghanistan. The State Bank of Pakistan and the Central Bank of Afghanistan have already approved Ghazanfar Bank to begin the necessary due diligence for that transaction.
https://today.thefinancialexpress.com.bd/first-page/bank-asia-to-acquire-bank-alfalahs-local-operations-for-475m-1774718379
The share of defaulted loans in the banking sector for loans has risen to over 31% in the past year.
The central bank published a banking “update” report this month, which shows that by the end of the December quarter, the default rate for loans stood at 31.20%, up from 19.90% during the same period the previous year.
In monetary terms, a 31.20% default rate for such large loans amounts to Tk5,54,486 crore.
According to data from Bangladesh Bank, the increase is largely due to the adoption of international standards for loan classification starting in 2025. Under the revised rules, loans not repaid within a specified period are considered overdue, and if unpaid for more than 90 days, they are classified as defaulted, down from the previous threshold of 180 days. This stricter 90-day rule has contributed to the rise in defaulted loans.
A senior central bank official said that counting loans as defaulted after 90 days has increased the volume of non-performing loans since last year. However, due to various policy support measures introduced by Bangladesh Bank toward the end of 2025, the level of defaulted loans declined slightly in the December quarter compared to September.
One such measure allows banks to write off bad loans earlier. Previously, loans could only be written off after remaining classified as bad for two consecutive years. Under the new framework, write-offs can occur sooner.
Bangladesh Bank data shows that the default rate for loans stood at 36.30% at the end of September.
Another senior official noted that many institutions have restructured their defaulted loans following policy support from the central bank. As a result, a significant amount has been removed from the default list; otherwise, the December figure would have been even higher.
Bankers say the rise in defaulted loans over the past one and a half years reflects the exposure of previously hidden bad loans. The practice of showing loans as regular without actual repayment is no longer allowed.
They also noted that foreign audit firms have reviewed loan portfolios of several banks. In particular, the five Islamic banks undergoing consolidation – now merged into a single entity – have seen a sharp increase in defaulted loans.
According to bankers, the current situation reflects years of irregularities, fraud, and corruption in the banking sector during the Awami League government’s 15-and-a-half-year tenure. Major groups such as S Alam Group, Beximco Group, Nasa Group, Bismillah Group, and Hall-Mark Group, along with scandals involving BASIC Bank, have contributed to the rise in defaulted loans.
Islamic banks have been the most affected, though several conventional banks have also experienced major loan irregularities.
https://www.tbsnews.net/economy/banking/defaulted-loans-rises-12-december-quarter-1396286
সহযোগী প্রতিষ্ঠান এমক্যাশ লিমিটেডে বিদেশি কৌশলগত বিনিয়োগকারী অন্তর্ভুক্ত করার পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত থেকে আপাতত সরে এসেছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ জানিয়েছে, যথাযথ যাচাই-বাছাই বা ডিউ ডিলিজেন্স প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে না। আজ রবিবার (১৫ মার্চ) দেশের দুই প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ইসলামী ব্যাংকের ৩৯৬তম পরিচালনা পর্ষদ সভায় বিস্তারিত পর্যালোচনার পর এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) সেবা সম্প্রসারণে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বি১০০ হোল্ডিংস এলএলসি-কে কৌশলগত ইক্যুইটি বিনিয়োগকারী হিসেবে যুক্ত করার বিষয়টি আপাতত স্থগিত রাখা হবে। গত ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত এই সভায় পর্ষদ সদস্যরা বিষয়টি পুনরায় খতিয়ে দেখে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর জোর দেন।
এর আগে গত ৯ মার্চ ডিএসইর মাধ্যমে ব্যাংকটি জানিয়েছিল, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কার্যক্রমের পরিধি বাড়াতে তারা এমক্যাশে বিদেশি বিনিয়োগকারী যুক্ত করতে যাচ্ছে। তবে নতুন সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় ডিউ ডিলিজেন্স শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগের সেই ঘোষণাটি কার্যকর থাকবে না। মূলত বিনিয়োগের স্বচ্ছতা ও সঠিক মূল্যায়নের লক্ষ্যেই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
১৯৮৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ১ হাজার ৬০৯ কোটি ৯৯ লাখ ১০ হাজার টাকা। ব্যাংকটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১৬০ কোটি ৯৯ লাখ ৯০ হাজার ৬৬৮টি। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ব্যাংকটির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে মাত্র ০.১৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। অন্যদিকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৭৫.০৬ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে ১৭.৯১ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে অবশিষ্ট শেয়ার রয়েছে।
https://sharenews24.com/article/116539/index.html
Islamibank
