বাংলাদেশের শেয়ারবাজার সংস্কার এবং শক্তিশালী ‘বন্ড গ্যারান্টি ফান্ড’ গঠনে কারিগরি সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সম্প্রতি আগারগাঁওয়ে বিএসইসি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এডিবির একটি প্রতিনিধি দল এই প্রস্তাব দেয়। মূলত ফিক্সড-ইনকাম সিকিউরিটিজ বা বন্ডে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে একটি কার্যকর মডেল তৈরির লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডি করার প্রস্তাব দিয়েছে এই দাতা সংস্থাটি।
বৈঠকে এডিবি প্রতিনিধিরা জানান, এই বিশেষ ফান্ডটি বাস্তবায়ন ও পরিচালনার জন্য একটি উপযুক্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান খুঁজে বের করতেও তারা সহযোগিতা করবেন। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বন্ড গ্যারান্টি ফান্ড গঠিত হলে দেশের বন্ড মার্কেট আরও শক্তিশালী হবে এবং দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের নতুন পথ উন্মোচিত হবে।
বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে এডিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন সিনিয়র ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর স্পেশালিস্ট ও মিশন লিডার মানোহারি গুনাবর্ধনে। বৈঠকে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী তিন বছরের মধ্যে শেয়ারবাজারের বাজার মূলধন ও জিডিপি-র অনুপাত বর্তমান ১০ শতাংশ থেকে অন্তত ৪০ শতাংশে উন্নীত করার এক উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই লক্ষ্য অর্জনে বিএসইসি একটি বিস্তৃত ‘ক্যাপিটাল মার্কেট ডায়াগনস্টিক’ বা বাজার বিশ্লেষণ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই উন্নয়নে কাজ করবে। এছাড়া বড় কোম্পানি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে প্রয়োজনীয় কর কাঠামো এবং নীতিগত সংস্কারের বিষয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (আইওএসসিও) অনুযায়ী স্থানীয় বাজারকে গড়ে তুলতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি তার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিএসইসি বর্তমানে বাজারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশন এবং অটোমেশনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। যাতে লেনদেন এবং তথ্য আদান-প্রদানে কোনো ধরণের অস্পষ্টতা না থাকে এবং বিনিয়োগকারীরা দ্রুত তথ্য পেতে পারেন।
বৈঠকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ছিল বড় ঋণগ্রহীতাদের নিয়ে। এখন থেকে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে শুধু ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল না থেকে অর্থায়নের জন্য শেয়ারবাজারের দিকে ঝুঁকে পড়ে, সেজন্য বিএসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংক যৌথভাবে একটি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনা করছে। এর ফলে ব্যাংক খাতের ওপর চাপ কমবে এবং পুঁজিবাজারে গুণগত মানের সিকিউরিটিজের সরবরাহ বাড়বে।
https://sharenews24.com/article/116689/index.html

The project cost is estimated at Tk 41.51 million, which will come from the company’s own funds.




