শেয়ারবাজারে নতুন ও ভালো মানের কোম্পানি তালিকাভুক্তির সংখ্যা বাড়াতে সরাসরি তালিকাভুক্তি বা ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে ২০২৭ সালের মধ্যে অন্তত ১০টি কোম্পানিকে বাজারে আনার লক্ষ্য নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরকারি, বহুজাতিক ও দেশীয় কোম্পানি থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসইর কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ার এবং ডিএসইর ইনভেস্টরস প্রটেকশন ফান্ডের চেয়ারম্যান নাসরিন বেগমও বক্তব্য দেন।
ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, দুই বছরের বেশি সময় ধরে উল্লেখযোগ্য কোনো আইপিও বাজারে আসেনি এবং নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তিও হয়নি। এ পরিস্থিতিতে শেয়ারবাজারে ভালো কোম্পানি আনার পথ সহজ করতে সরাসরি তালিকাভুক্তির জন্য নতুন বিধিমালার খসড়া তৈরি করা হয়েছে।
নতুন বিধিমালা কার্যকর হলে সরকারি, বহুজাতিক এবং দেশীয় বিভিন্ন কোম্পানির সরাসরি শেয়ারবাজারে আসার সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান তিনি। ডিএসইর লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে অন্তত ১০টি ভালো কোম্পানিকে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে আইপিও প্রক্রিয়া সহজ করার জন্যও নতুন বিধিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানান মমিনুল ইসলাম। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রস্তাবিত বিধিমালা জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রকাশ করা হতে পারে।
ডিএসই চেয়ারম্যান আরও জানান, আইপিও ও লিস্টিংয়ের ক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর ওপর অর্পিত দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালনের জন্য ডিএসইর নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে। পাশাপাশি বন্ড তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে লিস্টিং ফি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে ডাইরেক্ট লিস্টিং বা আইপিওর জন্য আবেদন করা হলে লিস্টিং ফিতে ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে আসতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়াকে আরও আকর্ষণীয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন ডিএসই চেয়ারম্যান। তিনি জানান, বাংলাদেশে বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক আনার বিষয়ে সরকারি পর্যায়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মমিনুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকগুলো বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করলে দেশের করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর পুঁজিবাজারে আসার প্রক্রিয়া আরও সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়লে বাজারে নতুন অর্থপ্রবাহ তৈরির সুযোগও তৈরি হবে।
দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে বিভিন্ন ধরনের চাপ থাকলেও পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, এর ইতিবাচক প্রভাব শেয়ারবাজারেও দেখা যাচ্ছে। নতুন সিকিউরিটিজ বাজারে আনা এবং বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলে শেয়ারবাজারের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে।
শেয়ারবাজারকে আরও দক্ষ ও স্বচ্ছ করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন ডিএসই চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পাশাপাশি সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ (সিডিবিএল), সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ (সিসিবি) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
এ বিষয়ে ডিএসইতে ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ডিএসইর এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘ সময় ধরে নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তির যে ঘাটতি রয়েছে, তা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত হওয়া, জনমত যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই ডাইরেক্ট লিস্টিং ও আইপিও সংক্রান্ত নতুন কাঠামো কার্যকর হবে।
https://sharenews24.com/article/123049/index.html


