Home National বেক্সিমকোর সম্পত্তি নিলামে তুলছে রূপালী ব্যাংক

বেক্সিমকোর সম্পত্তি নিলামে তুলছে রূপালী ব্যাংক

by fstcap

খেলাপি ঋণ আদায়ে এবার বেক্সিমকো লিমিটেডের বন্ধক রাখা জমি নিলামে তুলছে রূপালী ব্যাংক। ব্যাংকটির কাছে বেক্সিমকো টেক্সটাইলের ঋণ ১৯০ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এই ঋণ আদায়ে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে বন্ধক রাখা ২৬ একর জমি ও সম্পত্তি নিলামে ডাকা হয়েছে। গত শুক্রবার এই নিলাম বিজ্ঞপ্তির কথা জানানো হয়। রূপালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেক্সিমকো টেক্সটাইলের কাছে রূপালী ব্যাংকের সর্বশেষ পাওনা ১৯০ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এর মধ্যে অনাদায়ী সুদ অন্তর্ভুক্ত নয়। ব্যাংকের পাওনা, অন্যান্য খরচ এবং আদালতের সুদসহ আদায়ের জন্য তফসিলে বর্ণিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি যে অবস্থায় আছে, সে অবস্থায় নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঋণগ্রহীতা হিসেবে সর্বশেষ বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেডের (বেক্সিমকো লিমিটেড) নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আগে বেক্সটেক্স লিমিটেড নামে পরিচিত ছিল। বেক্সিমকো লিমিটেডের সঙ্গে পদ্মা টেক্সটাইল মিলস এবং বেক্সিমকো নিটিং একীভূত হয়েছে।

এ বিষয়ে বেক্সিমকো লিমিটেডের কোম্পানি সেক্রেটারি আসাদ উল্লাহ আমার দেশকে বলেন, রূপালী ব্যাংকের এই নিলামের কথা আমি জানি না। তবে কোম্পানি বন্ধ করে দিলে আমরা ঋণ পরিশোধ করব কীভাবে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত আমরা কোনো ঋণখেলাপি ছিলাম না। এরপর ড. ইউনূস সরকার আমাদের কোম্পানি বন্ধ করে দেয়। তার মতে, ‘কোম্পানি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে ব্যবসা করার জন্য। ব্যবসা না করতে পারলে টাকা আসবে কীভাবে। কোম্পানি বন্ধ থাকায় হাজার হাজার শ্রমিক বেকার। এখন কোম্পানিগুলোতে শুধু লোহালক্কড় পড়ে আছে। এমন পরিস্থিতি হলে আমরা ব্যাংকের টাকা কীভাবে দেব।’

বিজ্ঞাপন
 

নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে গাজীপুরের জয়দেবপুর, কালিয়াকৈর ও কাপাসিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক তফসিলের জমির বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এসব জমির মধ্যে কোথাও একরের হিসাবে, আবার কোথাও শতাংশের হিসাবে জমির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে। গাজীপুরের একটি তফসিলে ২.১৯ একর, আরেকটিতে ৪৮ শতাংশ এবং অন্য এক তফসিলে ৩.৬৬ একর জমির উল্লেখ রয়েছে। আরো কয়েকটি তফসিলে দশমিক একর ও শতাংশ হিসাবে জমি রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে গাজীপুর মৌজার সরাবো, থানা ও জেলা গাজীপুর এলাকায় ৮.৫৫ একর জমির পৃথক বিবরণও দেওয়া হয়েছে। সেখানে সিএস খতিয়ানের বিভিন্ন দাগে মোট জমির পরিমাণ ৮.৫৫ একর উল্লেখ করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের তারাবো ও যাত্রামুড়া মৌজাতেও বেক্সিমকোর বন্ধক রাখা জমি নিলামের তালিকায় রয়েছে। তারাবো মৌজার দুটি অংশে মোট ৮.৩৯ একর জমি রয়েছে। এর মধ্যে একটি অংশে ৪.৫২ একর এবং অন্য অংশে ৩.৮৭ একর জমির বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যাত্রামুড়া মৌজার আরেক তফসিলে ৯.২ একর জমি রয়েছে। অর্থাৎ, শুধু এ তিনটি তফসিলেই নারায়ণগঞ্জে ১৭.৪১ একর জমি রয়েছে। গাজীপুরের ৮.৫৫ একরসহ তফসিলে মোট ২৫.৯৬ একর জমির বিবরণ রয়েছে।

জানা গেছে, নিলামে অংশ নিতে আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর বেলা ২টার মধ্যে নির্ধারিত কার্যালয়ে দরপত্র জমা দিতে হবে। ওইদিন বেলা ২টা ৫ মিনিটে দরপত্রদাতাদের উপস্থিতিতে দরপত্র খোলা হবে। নিলামে অংশগ্রহণকারীদের প্রস্তাবিত দরের ওপর নির্ধারিত হারে জামানত দিতে হবে। ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত দর হলে এর ওপর ২০ শতাংশ; ১০ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে ১৫ শতাংশ; ৫০ লাখ টাকার বেশি হলে ১০ শতাংশ হারে জামানত দিতে হবে। তবে সম্পত্তির প্রস্তাবিত মূল্য অস্বাভাবিকভাবে কম বা অপর্যাপ্ত মনে হলে কর্তৃপক্ষ দরপত্র বাতিল করতে পারবে।

বেক্সিমকোর আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদি ঋণের মধ্যে রূপালী ব্যাংকের ছিল ৪৮২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। তবে বর্তমান নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে যে ১৯০ কোটি ৯২ লাখ টাকা পাওনার কথা বলা হয়েছে, সেটিই এ নিলাম প্রক্রিয়ার জন্য প্রাসঙ্গিক পাওনা। সার্বিকভাবে রূপালী ব্যাংকের এই নিলাম বেক্সিমকোর ঋণ আদায়ে বড় ধরনের পদক্ষেপ। প্রায় ১৯১ কোটি টাকা পাওনা আদায়ে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে বন্ধক রাখা সম্পত্তি বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেবেচিন্তেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে নিলামে সম্পত্তির সঠিক মূল্য না পাওয়ার আশঙ্কা থাকায় গ্রাহক ও ব্যাংকের পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান হওয়াই সবচেয়ে ভালো।

https://www.dailyamardesh.com/business/bank-financial-institutions/amd0coo9p7f3t

Beximco

You may also like