Home National জ্বালানি সংকটে শিল্পকারখানায় উৎপাদন ২৪ শতাংশ কমেছে

জ্বালানি সংকটে শিল্পকারখানায় উৎপাদন ২৪ শতাংশ কমেছে

by fstcap

জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের শিল্পকারখানা বড় ধরনের চাপে পড়েছে। জ্বালানি তেল ও গ্যাসের ঘাটতি এবং লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন কমেছে। এর সঙ্গে পরিবহনের বাড়তি ব্যয়ও যুক্ত হয়েছে। গত দুই মাসে তৈরি পোশাক, ইস্পাত, সিমেন্ট, ওষুধ, হিমায়িত মৎস্য, ভোগ্যপণ্য তৈরির কারখানায় উৎপাদন কমেছে গড়ে ২৪ শতাংশ। একই সময়ে পরিচালন ব্যয় বেড়েছে ৩০ শতাংশের বেশি। গত এক সপ্তাহে চট্টগ্রাম, সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খুলনা, মুন্সীগঞ্জের প্রধান শিল্পাঞ্চল ঘুরে এবং তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে। 

দেশের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র চট্টগ্রামে সচল থাকা এক হাজার ৬৭৬টি শিল্পকারখানার মধ্যে পোশাক, রি-রোলিং মিল, জাহাজ ভাঙা ও সিমেন্টের মতো ভারী শিল্পগুলোই প্রধান। জ্বালানি সংকটের কারণে এ ধরনের শিল্পে উৎপাদন প্রায় এক-চতুর্থাংশ কমেছে। এ ছাড়া সাভার-আশুলিয়ায় সাড়ে তিন শতাধিক সচল পোশাক কারখানা ও আনুষঙ্গিক প্রতিষ্ঠান আছে। সেগুলোতে  দৈনিক উৎপাদন এক লাখ পিস থেকে নেমে এসেছে ৮০-৯০ হাজারে। 

 

গাজীপুরে ছোট-বড় প্রায় পাঁচ হাজার শিল্পকারখানা রয়েছে, যার একটি বড় অংশ টেক্সটাইল ও ডাইং। এখানে বিদ্যুৎ ঘাটতি ৩০ শতাংশে পৌঁছে যাওয়ায় উৎপাদন কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ। অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে প্রায় দুই হাজার ছোট-বড় বস্ত্র ও পোশাক কারখানায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। এ ছাড়া কুমিল্লার রপ্তানিমুখী বিভিন্ন ইউনিট, ময়মনসিংহের ভালুকা এলাকার টেক্সটাইল হাব এবং খুলনার সহস্রাধিক হিমায়িত মৎস্য ও পাটজাত পণ্য উৎপাদনকারী কারখানায় উৎপাদন ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। 

উৎপাদন কমার পাশাপাশি দ্রুত বাড়ছে ব্যয়। জ্বালানি সংকটে জেনারেটরনির্ভরতা বাড়ায় অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুতের তুলনায় খরচ দ্বিগুণ হয়েছে। পরিবহন ব্যয় ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় সময়মতো পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অনেক উদ্যোক্তাকে বাড়তি খরচে বিকল্প ব্যবস্থায় যেতে হচ্ছে। এর সঙ্গে কাঁচামালের আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধি যুক্ত হয়ে রপ্তানি খাতেও চাপ তৈরি করছে। 

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করতে না পারা এবং গ্যাস সরবরাহে ঘাটতির কারণে ভারী শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। উৎপাদন সক্ষমতা হ্রাস ও ব্যয় বৃদ্ধির এই দ্বৈত চাপে দেশের শিল্প খাত এখন কঠিন সময় পার করছে। এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। 

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘আমরা বিপিসিকে বলেছি কার কতটুকু জ্বালানি দরকার, সেই তালিকা অনুযায়ী বিজিএমইএ সদস্যদের জ্বালানি কার্ড দিতে। এই কার্ড দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা যে কোনো পাম্প থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল নিতে পারবেন।’ সংকট থেকে উত্তরণে শিল্প কারখানাগুলোকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তিনি সৌর প্যানেল বসানোর ওপরেও গুরুত্ব আরোপ করেন।

https://samakal.com/bangladesh/article/349068/জ্বালানি-সংকটে-শিল্পকারখানায়-উৎপাদন-২৪-শতাংশ-কমেছে

You may also like