লুব-রেফ বাংলাদেশ শেয়ারবাজারে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রিমিয়ামে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ১৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল। তবে কোম্পানিটি ভুয়া মুনাফা ও সম্পদ দেখিয়ে এই বিশাল অর্থ উত্তোলন করেছে। পরবর্তীতে এই টাকা ব্যবহার করা হয়েছে পরিচালকদের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য, যেমন রাজধানীর বসুন্ধরায় ফ্ল্যাট ক্রয় এবং সিঙ্গাপুরে অর্থ পাচার।
কোম্পানিটির পর্ষদে চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন রুবাইয়া নাহার, ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তার স্বামী মোহাম্মদ ইউসুফ। শেয়ারহোল্ডার পরিচালক হিসেবে তাদের দুই সন্তান মো. সালাউদ্দিন ইউসুফ ও ড. ইসরাত জাহান দায়িত্বে আছেন।
২০২১ সালে বিতর্কিত ইস্যু ম্যানেজার এনআরবি ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট-এর মাধ্যমে লুব-রেফ শেয়ারবাজারে আসে। প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত খরচ অনুযায়ী ৪৬ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধে, ৬ কোটি টাকা আইপিও খরচে, এবং ৯৮ কোটি টাকা মেশিনারি কেনা ও ইনস্টলেশনে ব্যয় করার কথা ছিল। কিন্তু আইপিও ফান্ড ইউটিলাইজেশন রিপোর্ট অনুযায়ী, ৯৮ কোটি টাকার মধ্যে ৮৫ কোটি টাকা মেশিনারি, জমি উন্নয়ন ও সিভিল কনস্ট্রাকশনে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে নিরীক্ষক সরেজমিনে গিয়ে এসব সম্পদ খুঁজে পাননি।
হিসাববিদ মনোয়ার হোসেন বলেন, “যদি নিরীক্ষক প্রকৃত অবস্থান না পান, তবে বোঝা যায় টাকা ভুয়া সম্পদ দেখানোর মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে।”
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পরিচালক আবুল কালাম জানিয়েছেন, “আইপিও ফান্ডের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম কমিশন সহ্য করবে না। লুব-রেফের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মোহাম্মদ ইউসুফ নেতৃত্বাধীন প্রতারক চক্র বিনিয়োগকারীদের টাকা ভুয়া সম্পদ দেখানোর মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছে। এতে কোম্পানি ধুঁকে ধুঁকে টিকে আছে। কোম্পানিটি বসুন্ধরায় ফ্ল্যাট ক্রয় এবং সিঙ্গাপুরে অর্থ পাচার করেছে। এছাড়া ইউসুফের মেয়ের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারে সহযোগিতা করেছে সাউথইস্ট ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর কবির।
নিরীক্ষকরা আরও প্রকাশ করেছেন যে, ২০২৫ সালের ৩০ জুন কোম্পানির স্থায়ী সম্পদ ৫৮৪.৪০ কোটি টাকা হলেও, সরেজমিনে ১১৪.৯২ কোটি টাকার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। আইপিওর টাকা প্রকল্পে ব্যবহার করা হয়নি, অথচ তা ব্যবহৃত হিসেবে দেখানো হয়েছে।
আইপিওর মাধ্যমে সংগ্রহ করা ১৫০ কোটি টাকার মধ্যে ১৩.১০ কোটি টাকা এখনও অব্যবহৃত ছিল এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত স্যোশাল ইসলামী ব্যাংকে রাখা হয়েছিল। পরে এই অর্থ ফেরত পাওয়া গেছে, কিন্তু তা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।
লুব-রেফের শেয়ারপ্রতি মূল্যও বড় ধাক্কা খেয়েছে। ২০২১ সালে শেয়ারপ্রতি ৩০ টাকায় ইস্যু করা হলেও, বর্তমানে শেয়ারের দাম ৯.২০ টাকায় নেমেছে। শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রদানে অযোগ্যতা এবং আর্থিক অসংগতি বছরের পর বছর ধরে দেখা গেছে।
নিরীক্ষকরা উল্লেখ করেছেন, কোম্পানির জমি উন্নয়ন, কাঁচামাল ক্রয় ও ক্যাপিটাল ওয়ার্ক-ইন-প্রগ্রেসে প্রদত্ত খরচের কোনো বাস্তব প্রমাণ নেই। আইপিওর সময় কোম্পানি প্রিমিয়াম পাওয়ার যোগ্য ছিল না, কিন্তু ভুয়া তথ্য দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
এ ঘটনার ফলে বিনিয়োগকারীরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। বিএসইসির নজরদারিতে কোম্পানিটির ফান্ড ব্যবহারের অনিয়ম তদন্তাধীন রয়েছে।
https://sharenews24.com/article/115103/index.html
LRBD


