রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে ও অক্টোবর–ডিসেম্বর প্রান্তিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের আয় ও মুনাফায় শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ওষুধের বিক্রি বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ হ্রাস, অর্থায়ন ব্যয়ের চাপ কমা, চলতি মূলধনের দক্ষ ব্যবস্থাপনা, স্থিতিশীল চাহিদা, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে স্থিতিশীলতা ও পরিচালন দক্ষতার কারণে এই সাফল্য এসেছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় দেশের অন্যতম শীর্ষ ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রেনাটা পিএলসির মুনাফা বেড়েছে ২৫ শতাংশ। জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে প্রতিষ্ঠানটির সমন্বিত মুনাফা আগের বছরের ১২৫.০৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৬.২৬ কোটি টাকা। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ১০.৮৩ টাকা থেকে বেড়ে ১৩.৫৮ টাকা হয়েছে, সমন্বিত আয় ৬.৫৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২২৩.৮৪ কোটি টাকা।
রেনাটার মোট আয়ের ৮০.৭ শতাংশই এসেছে ওষুধপণ্য থেকে, যা গত বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। মূলত বিক্রির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় এই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। তবে পশুখাদ্য ও ওষুধ খাতের আয় আগের মতোই ছিল। অন্যদিকে, রপ্তানি আয় ১০.১ শতাংশ ও চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন থেকে আয় ২৮.৪ শতাংশ কমেছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রেনাটার রপ্তানি আয় ৮.২ শতাংশ বাড়লেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা ২৩.৪ শতাংশ কমেছে। মূলত ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর ঢাকা বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ডে রপ্তানির জন্য রাখা মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক অর্ডার পিছিয়ে যায়। তবে মূলধন পুনর্গঠনের ফলে প্রতিষ্ঠানটির অর্থায়ন ব্যয় ৭.৩ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধির ফলে তাদের সুদ, কর ও অবচয়-পূর্ববর্তী মুনাফা ২০.৬ শতাংশ বেড়েছে।
দেশের বৃহত্তম ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসও ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রেখেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে প্রতিষ্ঠানটির সমন্বিত আয় আগের বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এ সময়ে নিট মুনাফা ১৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা ও ইপিএস দাঁড়িয়েছে ১৬.৫৬ টাকা।
শুধু অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে স্কয়ারের রাজস্ব আয় ৯ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা ও নিট মুনাফা ১০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২৭ কোটি টাকা। এ খাতে সামগ্রিক খরচ বাড়লেও স্থানীয় বাজারে ওষুধের ব্যাপক চাহিদাই প্রতিষ্ঠানটির এই ধারাবাহিক সাফল্যের মূল কারণ।
স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে তাদের কেনিয়াভিত্তিক বিদেশি সাবসিডিয়ারি স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস কেনিয়া ইপিজেড লিমিটেড ও স্থানীয় সাবসিডিয়ারি স্কয়ার লাইফ সায়েন্সেস লিমিটেড-এর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। এর পাশাপাশি তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান—স্কয়ার টেক্সটাইলস, স্কয়ার ফ্যাশনস ও স্কয়ার হাসপাতালের আয়ও এই শক্তিশালী অবস্থানে বড় ভূমিকা রেখেছে।
অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (এসিআই) চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে তাদের সমন্বিত আয়ে ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে তাদের রাজস্ব আগের বছরের ৬ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৭ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। গত বছরের একই সময়ে ৬৪ কোটি টাকা সমন্বিত নিট লোকসানে থাকলেও এবার ৩০ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এসিআই জানিয়েছে, তাদের মূল ব্যবসাগুলোর শক্তিশালী পারফরম্যান্সের কারণে পরিচালন ব্যয়ের তুলনায় মোট মুনাফার প্রবৃদ্ধি বেশি ছিল। তবে সুদহার বৃদ্ধি এবং চলতি মূলধন ও কৌশলগত বিনিয়োগের জন্য বাড়তি অর্থায়নের প্রয়োজন হওয়ায় তাদের ঋণের খরচ কিছুটা বেড়েছে।
অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবসায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। বিক্রি বৃদ্ধি, মুনাফার মার্জিন বাড়া, অর্থায়ন ব্যয় কমা ও শক্তিশালী নগদ প্রবাহের কারণে কোম্পানিটি লোকসানের শঙ্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এই প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস গত বছরের ১ টাকা থেকে ৬৫ শতাংশ বেড়ে ১.৬৫ টাকা হয়েছে।
অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে একমির আয় বেড়েছে ১৫.৭৫ শতাংশ। এই সময়ে তাদের ইপিএস ২.৮৬ টাকা থেকে বেড়ে ৩.১০ টাকা হয়েছে। আর জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস ৫.৪৭ টাকা থেকে বেড়ে ৬.১১ টাকা হয়েছে
অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে বিকন ফার্মাসিউটিক্যালসের মুনাফা বেড়েছে ২৯.৩২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে তাদের ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৪.৭৩ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩.৪৭ টাকা।
https://www.tbsnews.net/bangla/Economy/news-details-447386


