পুঁজিবাজারে অনিয়ম প্রতিরোধ এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রায় ১০০টি ব্রোকারেজ হাউজ পর্যায়ক্রমে পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ব্রোকারেজ হাউজগুলোর তদারকি আরও জোরদার করতেই এ উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
রোববার বিএসইসির সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য অনিয়ম আগেভাগে শনাক্ত করতেই কমিশন তদারকি কার্যক্রম জোরদার করছে। কমিশনের লক্ষ্য অনিয়ম সংঘটিত হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া নয়, বরং ঝুঁকি আগে থেকেই চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধ করা। এতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ আরও ভালোভাবে সুরক্ষিত হবে।
তিনি বলেন, নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর পুঁজিবাজারে লেনদেন বেড়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাও ধীরে ধীরে ফিরছে। এ ধারা ধরে রাখতে নজরদারি আরও বাড়ানো হচ্ছে।
বিএসইসি সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে ১০টি ব্রোকারেজ হাউজ পরিদর্শনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পরিদর্শনের জন্য নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো শ্যামল ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট, ভিশন ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট, হাওলাদার ইক্যুইটি সার্ভিসেস, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ, এরশাদ সিকিউরিটিজ, আর চৌধুরী সিকিউরিটিজ, এসএআর সিকিউরিটিজ এবং এমএএইচ সিকিউরিটিজ। এছাড়া লাইসেন্স নবায়নের অংশ হিসেবে আজম সিকিউরিটিজ ও সিনথিয়া সিকিউরিটিজও পরিদর্শনের আওতায় আসবে।
বিএসইসি জানিয়েছে, প্রতিটি পরিদর্শন দলকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। পরিদর্শনের সময় ব্রোকারেজ ও ডিলার কার্যক্রম, সিকিউরিটিজ আইন ও বিধি পরিপালন, গ্রাহকের অর্থ ও শেয়ারের নিরাপত্তা, কনসোলিডেটেড কাস্টমার অ্যাকাউন্ট (সিসিএ) পরিচালনা এবং অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ (এএমএল/সিএফটি) সংক্রান্ত বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা হবে।
এদিকে, বিএসইসি ইতোমধ্যে অনুমোদিত ভেন্ডরের মাধ্যমে সব ব্রোকারেজ হাউজে অভিন্ন ও সম্পাদন-অযোগ্য (আনএডিটেবল) ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে। কমিশনের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির পাশাপাশি নিয়মিত মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন চালু হলে ব্রোকারেজ খাতে সুশাসন ও জবাবদিহি আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে গ্রাহকের অর্থ ও শেয়ার আত্মসাতের মতো অনিয়ম প্রতিরোধেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সম্প্রতি এক বৈঠকে বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, ব্রোকারেজ হাউজগুলোর তদারকি আরও কার্যকর করতে কমিশন নিয়মিত অডিট ও পরিদর্শনের ব্যবস্থা করছে। এর মাধ্যমে বড় ধরনের অনিয়ম ঘটার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।


