ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি টিকে থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে ভর্তুকির চাপ কমাতে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যুদ্ধ পরিস্থিতি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারেও। গতকাল প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) পয়েন্ট হারিয়েছে সূচক। বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির চাপে এদিন এক্সচেঞ্জটির লেনদেন বেড়েছে।
ডিএসইতে গতকাল ৮১৯ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৮০৬ কোটি টাকা। গতকাল এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ৪০৪টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১২৫টির, কমেছে ২২৩টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ৫৬টির।
খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে প্রকৌশল খাত। ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ দখলে নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বস্ত্র খাত। সাধারণ বীমা খাত ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার তৃতীয় অবস্থানে ছিল। ১২ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ স্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা ব্যাংক খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ১১ দশমিক ৬ শতাংশ।
গতকাল ডিএসইতে পাঁচটি বাদে সব খাতের শেয়ারে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ৭ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে কাগজ ও মুদ্রণ খাতে। এছাড়া ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে ১ দশমিক ৫ ও পাট খাতে ১ দশমিক ১ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। গতকাল সাধারণ বীমা খাতে সবচেয়ে বেশি ২ দশমিক ২ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন ছিল। এছাড়া এ সময়ে বস্ত্র খাতে দশমিক ৪ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে।
দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স গতকাল ৫ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ৩৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইর সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই এদিন ১০ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৭৫২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ১৯৮টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৫৮টির, কমেছে ১০৮টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ৩২টির। গতকাল সিএসইতে ৪১ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৩১ কোটি টাকা।


