দেশের টেলিকম খাতের বহুল প্রতীক্ষিত ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গ নিলাম থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত দ্বিতীয় বৃহত্তম অপারেটর রবি আজিয়াটা। এর ফলে আগামী ২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নিলামে শীর্ষ অপারেটর গ্রামীণফোনই এখন একমাত্র অংশগ্রহণকারী হিসেবে টিকে রইল। রবির চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার শাহেদ আলম এক বিবৃতিতে জানান, কৌশলগত ও কারিগরি পর্যালোচনার পর তারা বর্তমান নিলাম প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও এই ব্যান্ডটি নেটওয়ার্কের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে রবির বর্তমান অগ্রাধিকার এবং বাজার পরিস্থিতির সাথে এই নিলামের সময়টি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে কোম্পানিটি মনে করছে।
বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী রবির সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ২০২৪ সাল থেকে চলমান প্রস্তুতির কারণে বিটিআরসি পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী নিলাম কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। রবি আজিয়াটা বর্তমানে অন্য একটি ব্যান্ড থেকে তরঙ্গের জন্য আবেদন করেছে, যা কমিশন বিবেচনা করতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য যে, নিলামে অংশ নিতে গ্রামীণফোন ও রবি শুরুতে আবেদন করলেও তৃতীয় বৃহত্তম অপারেটর বাংলালিংক এবং রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিটক কোনো আবেদন জমা দেয়নি। রবি নিলামের সময়সীমা এক মাস বাড়ানোর অনুরোধ জানালেও শেষ পর্যন্ত তারা প্রতিযোগিতা থেকে সড়ে দাঁড়াল।
নিলামে মাত্র একজন বিডার থাকতে পারে—এমন পূর্বাভাস পেয়ে বিটিআরসি আগেই তাদের নীতিমালায় পরিবর্তন এনেছে। কোনো একটি অপারেটর যেন প্রতিযোগিতার অভাবের সুযোগ নিয়ে এককভাবে বিশাল পরিমাণ তরঙ্গ দখল করতে না পারে, সেজন্য স্পেকট্রাম গ্রহণের সর্বোচ্চ সীমা ১৫ মেগাহার্টজ থেকে কমিয়ে ১০ মেগাহার্টজ করা হয়েছে। বিটিআরসি চেয়ারম্যানের মতে, ছোট অপারেটরদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় রাখতেই এই সংশোধন আনা হয়েছে। তবে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড নিয়ে জটিলতা শুধু এখানেই শেষ নয়; ২০০৭ সালে ‘অলওয়েজ অন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ লিমিটেড’-কে দেওয়া একটি বরাদ্দের কারণে এই ব্যান্ডের ২০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ বর্তমানে দীর্ঘস্থায়ী আইনি বিরোধে আটকে আছে।
এদিকে মোবাইল অপারেটরদের দাবির মুখে সরকার ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গের ভিত্তিমূল্য ১০ শতাংশ হ্রাস করেছে। ১৫ বছর মেয়াদী লাইসেন্সের জন্য প্রতি মেগাহার্টজ তরঙ্গের দাম ২৬৩ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ২৩৭ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই মূল্য কমানোর পরেও অপারেটররা মনে করছেন যে, তরঙ্গের এই দাম আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় এখনো অনেক বেশি। উচ্চমূল্য এবং কারিগরি অগ্রাধিকারের কারণেই মূলত রবির মতো বড় অপারেটর এই নিলাম থেকে পিছিয়ে গেল বলে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এখন দেখার বিষয়, একক অংশগ্রহণকারী হিসেবে গ্রামীণফোন কতটুকু তরঙ্গ সংগ্রহ করে এবং এটি দেশের ফাইভ-জি বা উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবায় কী প্রভাব ফেলে।
https://sharenews24.com/article/113970/index.html


