বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব ও শক্তিশালী প্রবাহের তথ্য জানিয়েছেন ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের বাণিজ্যিক কাউন্সিলর সং ইয়াং। তিনি জানান, ২০২৪ সালের আগস্ট মাস থেকে এখন পর্যন্ত ৩০টিরও বেশি চীনা কোম্পানি বাংলাদেশি অংশীদারদের সাথে বিভিন্ন বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার মোট পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার।
বুধবার (০৪ মার্চ) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিআই) আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে চীনা এন্টারপ্রাইজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ (সিইএবি)-এর নেতৃবৃন্দও আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশে বিনিয়োগের এই ধারা আরও বেগবান হওয়ার ব্যাপারে ব্যাপক আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সিইএবি সভাপতি হান কুন তার বক্তব্যে বলেন, বিনিয়োগ এবং শিল্প সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সমর্থন ও অংশীদারিত্ব অব্যাহত রাখবে। বিসিসিআই সভাপতি খোরশেদ আলম দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিধি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, চীন বর্তমানে বাংলাদেশি পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্কমুক্ত সুবিধা দিচ্ছে, যা দেশের পণ্য রপ্তানির জন্য একটি বিশাল সুযোগ।
এই বিশাল বিনিয়োগের ফলে দেশের বাজারে ক্যাশ প্রবাহ বাড়বে এবং তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতির ভিত্তি আরও মজবুত করবে। শিল্প খাতের এই চাঙ্গাভাব চলতি অর্থবছর-এর জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক হবে এবং এর ইতিবাচক প্রতিফলন দেশের শেয়ারবাজার-এ তালিকাভুক্ত সংশ্লিষ্ট খাতের কোম্পানিগুলোর ওপরও পড়বে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
অনুষ্ঠানে রপ্তানিকারকদের উদ্দেশে বলা হয়, শুল্কমুক্ত সুবিধা কাজে লাগিয়ে ফলমূল, শাকসবজি, চিংড়ি এবং চামড়াজাত পণ্য বেশি করে চীনে রপ্তানি করলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও সমৃদ্ধ হবে। ইফতার মাহফিলে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
https://sharenews24.com/article/116151/index.html


