April 5, 2025 10:17 pm
April 5, 2025 10:17 pm
Home Industry News ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক কী ও কেন, কী প্রভাব পড়বে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে

ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক কী ও কেন, কী প্রভাব পড়বে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে

by fstcap

সেই বহুল আলোচিত ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যে ঘোষণার মধ্য দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্বাধীনতা’ ঘোষণা করবেন বলে এত দিন ধরে নানা আওয়াজ তুলেছেন—সেই রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পাল্টা শুল্কের ঘোষণা অবশেষে দিলেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ট্রাম্প এই ঘোষণা দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত সত্যনিষ্ঠ। এত দিন ধরে শুল্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ–সংক্রান্ত যত অঙ্গীকার করেছেন, তার প্রায় শতভাগ তিনি বাস্তবায়ন করেছেন। প্রথম জমানায় যেমন করেছেন, তেমনি দ্বিতীয় জমানায়ও করছেন; এ ধারা চলতি জমানায় অব্যাহত থাকবে বলেই  ধারণা করা যায়।

যে দেশ আমেরিকার পণ্যে যতটা শুল্ক চাপিয়ে থাকে, ২ এপ্রিল থেকে সেই দেশের পণ্যে পাল্টা তার উপযুক্ত হারে শুল্ক আরোপের কথা জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দিনটিকে আগেই আমেরিকার ‘স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেন তিনি। বুধবার আমেরিকার স্থানীয় সময় অনুযায়ী বিকেল চারটায় (বাংলাদেশের রাত দুইটা) এই ‘পাল্টা’ বা ‘পারস্পরিক শুল্ক’ সম্পর্কে বিস্তারিত জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানে তিনি যা যা বলেন, তা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে রীতিমতো বোমাবর্ষণের শামিল।

কথা ছিল যে দেশ মার্কিন পণ্যে যত শুল্ক আরোপ করে, সেই দেশের পণ্যে ঠিক ততটাই শুল্ক আরোপ করা হবে। কিন্তু ঘোষণায় ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তা করতে পারতাম; কিন্তু তাতে অনেক দেশ কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়বে।’ চীনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, চীন মুদ্রা কারসাজিসহ বাণিজ্যবাধা সব মিলিয়ে মার্কিন পণ্যে ৬৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে; যুক্তরাষ্ট্র করবে তার প্রায় অর্ধেক, অর্থাৎ ৩৪ শতাংশ। সব দেশের বেলায় কমবেশি এই নীতি অবলম্বন করা হয়েছে। ফলে এ ঘটনায় বিপর্যস্ত হওয়ার কিছু নেই বলে মনে করেন ট্রাম্প। সব দেশের পণ্যে গড়ে ন্যূনতম ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

 

বাংলাদেশের ওপর প্রভাব

বাংলাদেশের পণ্যে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এখন দেখতে হবে, বাংলাদেশের প্রতিযোগীদের ওপর ঠিক কী হারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। বিষয়টি হলো ভিয়েতনাম, চীন ও কম্বোডিয়ার শুল্ক বাংলাদেশের চেয়ে বেশি হবে, সে কারণে হয়তো আরএমজি শিল্প অতটা আক্রান্ত হবে না, এমন ধারণা কেউ কেউ করছেন। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রতিযোগীদের মধ্যে তুরস্কের ওপর ১০ শতাংশ, ভারতের ওপর ২৭ শতাংশ, পাকিস্তানের ওপর ৩০ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার ওপর ৪৪ শতাংশ, ভিয়েতনামের ওপর ৪৬ ও কম্বোডিয়ার ওপর ৪৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।‍

দেখা যাচ্ছে, ভারত, পাকিস্তান ও তুরস্কের ওপর শুল্ক আমাদের চেয়ে কম। এই ফাঁকে ভারত হয়তো লাভবান হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, মূল্যবৃদ্ধির কারণে মার্কিন ভোক্তারা এমনিতেই কিনবে কম; এর জেরে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।‍

 

তবে শুল্কের হিসাবে ফাঁকি আছে। ধরা যাক, বাংলাদেশে বানানো বড় কেনাো ব্র্যান্ডের শার্ট যুক্তরাষ্ট্রের দোকানে এতদিন ২০ ডলারে বিক্রি হতো। সেই ব্র্যান্ড হয়তো  বাংলাদেশের গার্মেন্টস কোম্পানি থেকে সেই শার্ট কিনছে পাঁচ ডলার ইউনিট প্রাইসে (বা ক্রয়মূল্যে)। শুল্কের হিসাবের ফাঁকটা হলো, এটি আরোপ করা হয় বন্দরে আমদানির সময়ের ক্রয়মূল্যের ওপর, বাজার মূল্যের ওপর নয়। এখন হিসেব করলে দেখা যাবে, সেই পাঁচ ডলারের শার্টের ওপর আগে শুল্ক আসত ৭৫ সেন্ট, এখন আসবে ২ ডলার ৬০ সেন্ট। আগের চেয়ে বেশি দিতে হবে ১ ডলার ৮৫ সেন্ট। ফলে ২০ ডলারের ওই শার্টের দাম প্রায় দুই ডলার বাড়িয়ে সেই ব্র্যান্ড অনেকটাই সামাল দিতে পারবে।

আরেকটি সুবিধা হলো, বাংলাদেশ মূলত মধ্যম ও কম দামের পণ্য রপ্তানি করে। এসব পণ্যের দাম যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ২০ থেকে ৬০ ডলারের মধ্যে। অন্যদিকে ভিয়েতনাম, চীন বা এমনকি ভারত এখন উচ্চ মূল্যের পোশাক রপ্তানি করছে। ফলে তারা যতটা আক্রান্ত হবে, বাংলাদেশ ততটা হবে না বলেই ধরে নেওয়া যায়।     

তারপরও অনেকে বলছেন, বাংলাদেশের উচিত মার্কিন পণ্যের শুল্ক কমানো, সেটা হলে আমাদের পণ্যে মার্কিন শুল্ক কমে যাবে।

বাংলাদেশের উচিত, মার্কিন পণ্যের ওপর প্রচলিত শুল্কের হার ৭৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনা। এর ফলে বাংলাদেশি পণ্যে মার্কিন শুল্ক হবে ১৫ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমাদের আমদানি এবং বাংলাদেশ থেকে সেখানে রপ্তানি যোগ–বিয়োগ এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার দিকে তাকালে দেখা যাবে, এই প্রক্রিয়ায় আমরা লাভবান হব।

https://www.prothomalo.com/business/analysis/oce07ca0el

You may also like