May 11, 2026 3:35 pm
Home Stock Market চলতি বছরই চালু হবে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ: সিএসই চেয়ারম্যান

চলতি বছরই চালু হবে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ: সিএসই চেয়ারম্যান

by fstcap

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান এ কে এম হাবিবুর রহমান বলেছেন, সব প্রস্তুতি শেষ করে চলতি বছরের মধ্যেই দেশের প্রথম কমোডিটি এক্সচেঞ্জে ডেরিভেটিভস লেনদেন (পণ্যভিত্তিক আগাম লেনদেন) চালু করা সম্ভব হবে।

আজ রোববার সিএসই ও পুঁজিবাজার–বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত ‘কমোডিটি এক্সচেঞ্জ: বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিত’ শীর্ষক এক কর্মশালার উদ্বোধনী অধিবেশনে এ কথা জানান হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার ফারজানা লালারুখ।

রাজধানীর বিজয়নগরে অবস্থিত সিএমজেএফ কার্যালয়ে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। সিএমজেএফ সভাপতি মনির হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার।

 
 

অনুষ্ঠানে সিএসই চেয়ারম্যান এ কে এম হাবিবুর রহমান জানান, নতুন এই সেগমেন্ট (ডেরিভেটিভস) চালু করতে সিএসই ইতিমধ্যে প্রায় ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। কার্যক্রমটি পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু করতে আরও কিছু বিনিয়োগ করতে হবে। মূলত ২০২৩ সাল থেকেই প্রস্তুতি চলছে। যদিও লক্ষ্য ছিল গত বছরের মধ্যে এটি চালু করার, কিন্তু কিছু কারণে তা সম্ভব হয়নি। কমোডিটি এক্সচেঞ্জ সম্পর্কে এখনো অনেকেরই ধারণা পরিষ্কার নয়। কমোডিটি এক্সচেঞ্জ মানে এখানে সাধারণ পণ্য কেনাবেচা হবে না। এখানে মূলত নিয়ন্ত্রক সংস্থা অনুমোদিত নির্দিষ্ট পণ্যের ‘ফিউচার কন্ট্রাক্ট’ লেনদেন হবে। কন্ট্রাক্টের মেয়াদ শেষে সেটেলমেন্ট বা নিষ্পত্তির দুটি পদ্ধতি রয়েছে। এক. ক্যাশ সেটেলমেন্ট। এতে নির্ধারিত হারে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে কন্ট্রাক্টটি শেষ হবে। দুই. স্পট বা ফিজিক্যাল সেটেলমেন্ট; যেখানে সরাসরি পণ্য সরবরাহ বা ডেলিভারি দেওয়া হয়। সাধারণত ১০ থেকে ১৫ শতাংশ সরাসরি পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়; বাকিগুলো অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে।

সিএসই চেয়ারম্যান আরও জানান, শুরুতে জটিলতা এড়াতে ক্যাশ সেটেলমেন্ট পদ্ধতিতেই থাকবে সিএসই। ফিজিক্যাল ডেলিভারির ক্ষেত্রে ওয়ারহাউস (গুদামজাতকরণ) এবং পণ্যের আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করার মতো বড় বিনিয়োগ ও প্রস্তুতির বিষয় থাকে, যা সিএসই তাদের দ্বিতীয় পর্যায়ের পরিকল্পনায় রেখেছে। তবে বর্তমান প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি এমনভাবে নেওয়া হয়েছে, যাতে খুব সামান্য পরিবর্তনের মাধ্যমেই ভবিষ্যতে ফিজিক্যাল ডেলিভারি সুবিধা যুক্ত করা যায়।

 

অনুষ্ঠানে বিএসইসি কমিশনার ফারজানা লালারুখ বলেন, ‘ডেরিভেটিভস বাজারকে এগিয়ে নিতে কমিশন কাজ করছে। যেহেতু এটি একটি নতুন ধারণা, তাই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শেষ করতে সময় লাগছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি ও সমস্যাগুলো বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সিএসইর প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে দ্রুত কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু করা হবে। আমাদের পুঁজিবাজারের তিনটি প্রধান পিলারের মধ্যে ইকুইটি মার্কেট এক জায়গায় আটকে গেছে। দুই বছর ধরে আইপিও আসছে না। বন্ড মার্কেট কিছুটা আশার আলো দেখালেও আমরা এখন তৃতীয় পিলার হিসেবে কমোডিটি ডেরিভেটিভস মার্কেটকে শক্তিশালী করতে চাই।’

সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, সিএসইর প্রস্তুতি অনুযায়ী কমোডিটি এক্সচেঞ্জ এখন থেকে দেড়-দুই বছর আগে চালু করা সম্ভব ছিল। এটি বাংলাদেশে ২০২৩ সালে শুরুর কথা থাকলেও যথাযথ প্রস্তুতির অভাবে সেটি করা সম্ভব হয়নি। কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বা ডেরিভেটিভস নতুন কিছু নয়। এটি বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাজারের পরিচিত পণ্য। তবে যেহেতু বাংলাদেশে এটি নতুন ধারণা, তাই অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হচ্ছে। এ জন্য দেরি হচ্ছে।

https://www.prothomalo.com/business/market/fh59d6t566

 

You may also like