Home Industry News আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ১৫ পরিচালকের বেশি নয়

আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ১৫ পরিচালকের বেশি নয়

by fstcap

দেশের ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সর্বোচ্চ ১৫ জনকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো বোর্ডে সর্বনিম্ন দুজন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিতে হবে। এসব পরিচালকের সর্বনিম্ন বয়স হবে ৩০ বছর। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়, কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিচালক পদে নিয়োগ পেতে হলে অন্যূন ১০ বছরের ব্যবস্থাপনা বা ব্যবসায়িক বা পেশাগত অভিজ্ঞতা

থাকতে হবে। কোনো ব্যক্তির বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তার কোনো কাজের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ফৌজদারি অপরাধে দন্ডিত হতে পারবেন না কিংবা কোনো জাল-জালিয়াতি, আর্থিক অপরাধ বা অন্য অবৈধ কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না বা জড়িত নন, এমন নিশ্চয়তা থাকতে হবে। তার সম্পর্কে কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলায় আদালতের রায়ে বিরূপ পর্যবেক্ষণ বা মন্তব্য থাকতে পারবে না; আর্থিক খাতসংশ্লিষ্ট কোনো নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের বিধিমালা, প্রবিধান, নীতিমালা বা নিয়মাচার লঙ্ঘনের কারণে দন্ডিত হওয়া যাবে না।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হতে আগ্রহী ব্যক্তি এমন কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না,যার নিবন্ধন বা লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে বা প্রতিষ্ঠানটি অবসায়িত হয়েছে; তার নিজের কিংবা স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণের জন্য খেলাপি নন।

পরিচালক হতে গেলে অন্য কোনো ব্যাংক-কোম্পানি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানি বা তেমন কোম্পানিগুলোর কোনো সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক বা উপদেষ্টা বা পরামর্শক বা অন্য কোনোভাবে লাভজনক পদে নিয়োজিত থাকা যাবে না। এ ছাড়া তিনি একই কোম্পানির বহিঃহিসাব নিরীক্ষক, আইন উপদেষ্টা, উপদেষ্টা, পরামর্শক বা অন্য কোনো লাভজনক পদে থাকতে পারবেন না।

পরিচালকের যোগ্যতা সম্পর্কে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, তিনি কোনো সময়ে আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত হননি; তিনি ব্যক্তিগতভাবে অথবা তার ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বা অংশীদারি প্রতিষ্ঠানের জন্য কর খেলাপি হতে পারবেন না।

এ ছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কোনো পদে চাকরিরত থাকলে চাকরি অবসায়নের পাঁচ বছর অতিক্রম না হলে সেই ব্যক্তি কোম্পানির পরিচালক হতে পারবেন না। কোনো কোম্পানি কর্তৃক বা ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩-এর আওতায় প্রতিষ্ঠিত কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা হিসেবে তালিকাভুক্ত হলে সেই তালিকা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর পাঁচ বছর না পেরোলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পরিচালক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবেন না।

স্বতন্ত্র পরিচালকদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে এসব শর্ত ছাড়াও স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগসংক্রান্ত নীতিমালা পরিপালিত হবে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিকল্প পরিচালক নিয়োগ : ফাইন্যান্স কোম্পানির কোনো পরিচালক বিদেশে অন্যূন তিন মাস মেয়াদে নিরবচ্ছিন্নভাবে অবস্থানের কারণে বিকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালক পর্ষদ কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ১০১ ধারার বিধান পরিপালন সাপেক্ষে পরিচালকের বিপরীতে কোনো এক বছরে সর্বোচ্চ একবার একাদিক্রমে তিন মাসের জন্য একজন বিকল্প পরিচালক নিযুক্ত করতে পারবে।

এ ক্ষেত্রে পরিচালক নিয়োগের যোগ্যতা ও উপযুক্ততাসংক্রান্ত বিধানাবলী প্রযোজ্য হবে। বিকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে ফাইন্যান্স কোম্পানিকে মূল পরিচালকের বিদেশ গমন এবং দেশে প্রত্যাবর্তনসংক্রান্ত দালিলিক প্রমাণাদি সংগ্রহ ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। এর কোনো ব্যত্যয় হলে প্রধান নির্বাহী কর্তৃক বিষয়টি তাৎক্ষণিক লিখিতভাবে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে হবে। কোনো ব্যক্তি কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি থেকে কোনোরূপ ঋণসুবিধা গ্রহণ করলে তিনি উক্ত ফাইন্যান্স কোম্পানিতে বিকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্তির জন্য যোগ্য হবেন না। বিকল্প পরিচালক পদে দায়িত্ব পালনকালে বিকল্প পরিচালকের নিজের নামে কিংবা তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে কোনোরূপ ঋণসুবিধা প্রদান করা যাবে না, পূর্বে প্রদত্ত ঋণসুবিধার মেয়াদ বা সীমা বৃদ্ধি করা যাবে না কিংবা কোনো সুদ মওকুফ বা সুদারোপ রহিতকরণ সুবিধা দেওয়া যাবে না। তাছাড়া আইন, বিধি বা নির্দেশনাবলে ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালকের জন্য প্রযোজ্য সব ঋণ নিয়ামাচার কিংবা নিষেধাজ্ঞা বিকল্প পরিচালকের মেয়াদকালে তার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। এ ছাড়া একজন পরিচালক নিয়োগে যেসব যোগ্যতা তা বিকল্প পরিচালকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক/প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ : ফাইন্যান্স কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি সুদৃঢ়করণ এবং আমানতকারীদের আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে ফাইন্যান্স কোম্পানি ব্যবস্থাপনায় সৎ, দক্ষ, অভিজ্ঞ ও উপযুক্ত প্রধান নির্বাহী বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ করা পরিচালক পর্ষদের অন্যতম দায়িত্ব। ফাইন্যান্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সময়ে সময়ে জারিকৃত এতদসংক্রান্ত নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণপূর্বক বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদনক্রমে পরিচালক পর্ষদ একজন উপযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ করবে।

পরিচালক পর্ষদের চেয়ারম্যান ও পরিচালকের দায়িত্ব ও কর্তব্য : পরিচালক পর্ষদের সদস্যদের মধ্য থেকে একজন সর্বোচ্চ দুই বছরের জন্য চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হবেন। পরিচালক পদের মেয়াদ থাকা সাপেক্ষে চেয়ারম্যান পদে তিনি পুনর্নির্বাচনের জন্য যোগ্য হবেন।

পরিচালক পর্ষদের চেয়ারম্যান বা পর্ষদ কর্তৃক গঠিত কোনো কমিটির চেয়ারম্যান বা কোনো পরিচালক এককভাবে বা ব্যক্তিগতভাবে কোনো নীতিনির্ধারণী অথবা নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগের এখতিয়ার রাখেন না বিধায় তিনি ফাইন্যান্স কোম্পানির প্রশাসনিক কিংবা পরিচালনাগত দৈনন্দিন কাজে অংশগ্রহণ বা হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না।

পর্ষদের পরিবীক্ষণ দায়িত্বের আওতায় পরিচালক পর্ষদের চেয়ারম্যান বা পরিচালক পর্ষদ কর্তৃক গঠিত অন্য কোনো কমিটির চেয়ারম্যান ফাইন্যান্স কোম্পানির কোনো শাখা বা অর্থায়ন কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করতে পারবেন। তবে প্রধান নির্বাহী সম্পর্কে কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হলে তা পর্ষদের মাধ্যমে প্রধান নির্বাহীর বক্তব্যসহ বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে হবে।

source: deshrupantor.com

 

economic company directors limit

You may also like