দীর্ঘ সময়ের সংকট কাটিয়ে পুনরুদ্ধারের পথে এগোতে শুরু করেছে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস। আদালত এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠানটি আবারও পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, উদ্ধারযোগ্য সম্পদ ও মোট দায়ের মধ্যে যে ঘাটতি রয়েছে তা পূরণে ৭৫০ কোটি টাকার সরকারি সহায়তা পাওয়া গেলে পুনরুদ্ধার কার্যক্রম আরও দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
পূর্বে ২০০৩ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের সংকটে পড়ে। পরে হাইকোর্ট একপর্যায়ে অবসায়নের নির্দেশ দিলেও ২০২১ সালে সেই নির্দেশনা স্থগিত করে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়। নতুন পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক পুনর্গঠন ও কার্যক্রম স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ১ হাজার ৯০০ আমানতকারীর কাছে মোট ৮৪ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে কোম্পানির প্রধান কার্যালয় নিজস্ব ফ্লোরে স্থানান্তর করা হয়েছে, যার ফলে প্রতি মাসে প্রায় ১০ লাখ টাকা ভাড়া সাশ্রয় হচ্ছে।
এছাড়া করপোরেট শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত স্থগিত থাকা সাতটি বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) সম্পন্ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কার্যক্রমকে নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে একটি সংস্কার পরিকল্পনাও প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আওতায় বিদ্যমান দায়সমূহকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সুদমুক্ত কিস্তিতে রূপান্তর করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি আমানতকারীদের পাওনার একটি অংশকে কোম্পানির শেয়ারে রূপান্তরের সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে (এসএমই) নতুন করে ঋণ কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। একই সঙ্গে অতীতে আর্থিক অনিয়মে জড়িত সাবেক পরিচালকদের শেয়ার বাজেয়াপ্ত করে নতুন বিনিয়োগকারীদের কাছে ইস্যুর প্রস্তাবও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
পিপলস লিজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সগির হোসেন খান জানিয়েছেন, উচ্চ আদালত ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ৭৫০ কোটি টাকার সহায়তা পাওয়া গেলে ২০২৬ সালের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি আবার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে পারবে। তখন নিয়ম অনুযায়ী নগদ জমা সংরক্ষণ (সিআরআর) এবং সংবিধিবদ্ধ তরল সম্পদ (এসএলআর) বজায় রেখে প্রতিষ্ঠানটিকে একটি স্থিতিশীল ও লাভজনক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।
https://sharenews24.com/article/116529/index.html
PLFSL

Cement sales stood at nearly 39 million tonnes in 2021. Since then, the sector went on witnessing a slight negative growth every year, as sales remained just above 38 million tonnes in 2022 and 2023 before slipping below 38 million tonnes in 2024, according to industry sources.

