রেপো রেট ০.২৫% কমাল বাংলাদেশ ব্যাংক

in মার্কেট আপডেটস by

করোনার ধাক্কা থেকে অর্থনীতিকে বাঁচাতে এবার নীতি সুদহারে (রেপো রেট) হাত দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ৬ থেকে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে রেপো রেট। এক্ষেত্রে সুদহার কমানো হয়েছে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ। আজ থেকে রেপোর নতুন সুদহার কার্যকর হবে। একই সঙ্গে নগদ জমা সংরক্ষণের হারও (সিআরআর) শূন্য দশমিক ৫ শূন্য শতাংশ কমিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকাল মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে জারীকৃত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশনা দেয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১ এপ্রিল থেকে ব্যাংকগুলোর দ্বিসাপ্তাহিক নগদ জমা সংরক্ষণের গড় হার হবে ৫ শতাংশ, যা বর্তমানে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। একইভাবে ১ এপ্রিল থেকে ব্যাংকগুলোর দৈনিক ভিত্তিতে নগদ জমা সংরক্ষণ করতে হবে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হারে। বর্তমানে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে দৈনিক ভিত্তিতে সিআরআর হিসেবে ৫ শতাংশ হারে নগদ জমা সংরক্ষণ করতে হয়।

উল্লেখ্য, যে সুদহারে বাংলাদেশ ব্যাংক তফসিলি ব্যাংকগুলোকে ঋণ দেয়, তা-ই রেপো রেট বা নীতি সুদহার। বাজারে নগদ তারল্যের জোগান দিতেই মুদ্রানীতির এ গুরুত্বপূর্ণ টুলসটি ব্যবহার করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অন্যদিকে বাজার থেকে অতিরিক্ত তারল্য তুলে নিতে বাংলাদেশ ব্যাংক যে হারে ঋণ নেয়, সেটি হলো রিভার্স রেপো।

নভেল করোনাভাইরাসের ধাক্কায় নড়বড়ে হয়ে গেছে বৈশ্বিক অর্থনীতির ভিত। এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা কিংবা আফ্রিকার সব দেশের অর্থনীতিরই এখন টালমাটাল অবস্থা। এ অবস্থায় নীতি সুদহারে কাটছাঁটসহ নাগরিকদের আর্থিক সুরক্ষা দিতে বিপুল অর্থ নিয়ে এগিয়ে এসেছে বিভিন্ন দেশের সরকার। নাগরিকদের জন্য এখন পর্যন্ত অন্তত ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের তহবিলের ঘোষণা এসেছে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে। যদিও বাংলাদেশে সরকার থেকে এখনো কোনো রাজস্ব সহায়তার ঘোষণা পাওয়া যায়নি। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে বেশকিছু নীতিসহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।

এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘোষণা দিয়েছে, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ঋণের অর্থ পরিশোধ না করলেও কোনো ঋণগ্রহীতাকে খেলাপি করা হবে না। একই সঙ্গে রফতানির অর্থ দেশে আনা ও আমদানি দায় পরিশোধের মেয়াদ ৬০ দিন করে বাড়ানো হয়েছে। ১৮০ দিন বাড়ানো হয়েছে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির আওতায় স্বল্পমেয়াদি সাপ্লায়ার্স ও বায়ার্স ক্রেডিটের মেয়াদ। রফতানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) থেকে নেয়া ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে ৯০ দিন। চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসব সুযোগ-সুবিধা কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গ্রাহকরা টাকা জমা না দিলে স্বাভাবিকভাবেই তারল্য সংকটে পড়বে ব্যাংকগুলো। এ অবস্থায় বাজারে তারল্যের জোগান দিতে ব্যাংকের হাতে থাকা অতিরিক্ত সরকারি সিকিউরিটিজ কিনে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে সহজে বিনিময়যোগ্য সম্পদ (এসএলআর) সংরক্ষণের পর অতিরিক্ত সরকারি সিকিউরিটিজ থাকলে তা প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বাজারমূল্যে বিক্রি করতে বলা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এসব উদ্যোগের মধ্যেও রেপোর সুদহার কমানোর দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যাংক নীতি সুদহার নামিয়ে এনেছে শূন্য থেকে সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশে। নীতি সুদহার শূন্য দশমিক ৫ শূন্য শতাংশে নামিয়েছে কানাডা। জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়া নীতি সুদহার নামিয়েছে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশে। বিশ্বের অন্যান্য দেশও প্রয়োজন অনুযায়ী নীতি সুদহারে কাটছাঁট করেছে।

দেশের ব্যাংক নির্বাহীরাও রেপোর সুদহার সর্বোচ্চ ৩ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক রেপোর সুদহার না কমানোর পক্ষেই ছিল। অবশেষে সে নীতি থেকে সরে এসে গতকাল রেপোর সুদহার শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ কমাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

Source: https://bonikbarta.net

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*