শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ শুরু ও মুনাফা তোলার সঠিক সময়

in মার্কেট আপডেটস by

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের পূর্বে যেই প্রশ্নের উত্তর সব থেকে আগে জানা দরকার সেই প্রশ্নটি হচ্ছে, শেয়ার মার্কেট কোন পরিস্থিতিতে থাকলে বিনিয়োগ শুরু করা উচিত বা বাড়ানো উচিত এবং কোন পরিস্থিতিতে থাকলে বিনিয়োগ কমিয়ে আনা বা তুলে নেওয়া উচিত?

অনেক উপায়েই এই মিলিয়ন ডলার প্রশ্নের উত্তর খোজা যেতে পারে, তার ভিতর দুইটা খুবই গুরুত্ত্বপুর্ন উপায় নিয়ে এই লেখনীতে আলোচনা করা হবে। মুলত ২ টি ফান্ডামেন্টাল ইনডিকেটর ব্যবহার করে যাচাই করে দেখা হবে শেয়ার বাজারে কখন বিনিয়োগ করা উচিত এবং কখন শেয়ার বাজার থেকে বিনিয়োগ তুলে নেওয়া উচিত। এখানে ২০০৫ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত ১৫ বছরের তথ্য বিশ্লেষন করে উপসংহার টানার চেষ্টা করা হবে। যেই ২ টি ফান্ডামেন্টাল ইনডিকেটরের গত ১৫ বছরের তথ্য পর্যালোচনা করা হবে তা হচ্ছে:

১। মার্কেট পিই রেশিও (Market PE Ratio)

২। মার্কেট ডিভিডেন্ড ইল্ড (Market Dividend Yield)

১। মার্কেট পিই রেশিও (Market PE Ratio)

আমরা কোম্পানির পিই রেশিও এর ব্যাপারে অনেকেই স্টাডি করে থাকি তবে পুরো মার্কেটের পিই রেশিও কত চলতেছে এই ব্যাপারে অনেকেই খুব একটা ধারনা রাখি না। কোন কোম্পানির শেয়ারের ক্ষেত্রে পিই রেশিও এর ফর্মুলা হচ্ছেPE Ratio of a Stock = Share Price of The Company/Earning Per Share (EPS)।

একটা কোম্পানির পিই রেশিও যদি বেশি হয়, তাহলে সেই শেয়ারটাতে বিনিয়োগ করা ঝুকিপুর্ন এবং একটা কোম্পানির পিই রেশিও যদি কম হয় এবং ওই কোম্পানির ভবিষ্যতে ভাল ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে সেই শেয়ারটাতে বিনিয়োগ করাতে ঝুকি অনেক কম থাকে। সুতরাং কোম্পানির ক্ষেত্রে চিন্তা করলে একটা ভাল কোম্পানির পিই রেশিও যদি গত ১০-১৫ বছরের ভিতর সর্বনিম্নতে অবস্থান করে, তাহলে সেই শেয়ারে বিনিয়োগ করা নিরাপদ।

আবার কোন কোম্পানির পিই রেশিও যদি সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে এবং ভবিষ্যতে কোম্পানির খুব বড় ধরনের গ্রোথ হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে, তাহলে সেই কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা খুবই ঝুকিপুর্ন। পিই রেশিও এর এই একই এনালাইসিস পুরো মার্কেটের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এখানে মার্কেট পিই রেশিও এর ফর্মুলা হচ্ছে, Market PE Ratio = Total Market Capitalization/Total Market Earnings। একটা পুরো শেয়ার মার্কেটের পিই রেশিও যদি বেশি হয়, তাহলে সেই মার্কেটে বিনিয়োগ করা ঝুকিপুর্ন এবং মার্কেটের পিই রেশিও যদি কম হয় এবং ওই দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা যদি ভাল থাকে এবং ভবিষ্যতে ভাল প্রবৃদ্ধি হওয়ার সুযোগ থাকে, তাহলে সেই শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করাতে ঝুকি অনেক কম থাকে।

গত ১৫ বছরের মার্কেট পিই রেশিও এর অবস্থাঃ

আমরা যদি গত ১৫ বছরের মার্কেট পিই রেশিও এর তথ্য পর্যালোচনা করি অর্থাৎ ২০০৫ থেকে ২০২০ সালের জানুয়ারির ৯ তারিখের তথ্য নেই তাহলে দেখব এই সময়ের ভিতর ২০২০ সালের জানুয়ারির ৯ তারিখে পিই রেশিও ১১.১৩ যা গত ১৫ বছরের ভিতর সর্বনিম্নে অবস্থান করছে। যেই পরিস্থিতিটা বিনিয়োগের জন্য খুবই আকর্ষনীয়।

আবার, আমরা অনেকেই জানি ২০১০ এর শেয়ার বাজার ধ্বসের কথা যখন পিই রেশিও ছিল ২৯.১৬ যা সর্বোচ্চ। সুতরাং ২০১০ এ ধ্বসটা হওয়ারই কথা। কারন এত বেশি পিই রেশিওতে মার্কেটকে দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখা কঠিন। সুতরাং, মার্কেট পিই রেশিও যখন সর্বনিম্নে অবস্থান করবে তখন মার্কেটে বিনিয়োগ করার শ্রেষ্ঠ সময়। আবার মার্কেট পিই রেশিও যখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করবে তখন মার্কেট থেকে বিনিয়োগ তুলে নেওয়ায় শ্রেষ্ঠ সময়।

২। মার্কেট ডিভিডেন্ড ইল্ড (Market Dividend Yield)

আমরা কোম্পানির ডিভিডেন্ড ইল্ড এর ব্যাপারে অনেকেই স্টাডি করে থাকি তবে পুরো মার্কেটের ডিভিডেন্ড ইল্ড কত চলতেছে এই ব্যাপারে অনেকেই খুব একটা ধারনা রাখি না। কোম্পানির ক্ষেত্রে ডিভিডেন্ড ইল্ড এর ফর্মুলা হচ্ছে,Dividend Yield = Dividend Per Share/Share Price। সাধারন ভাবে একটা শেয়ারের ডিভিডেন্ড ইল্ড যত বেশি হবে বিনিয়োগে ঝুকি তত কম হবে। এই একই এনালাইসিস পুরো মার্কেটের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। মার্কেটের ডিভিডেন্ড ইল্ড যত বেশি হবে তত বিনিয়োগের জন্য ভাল। পুরো মার্কেটের ডিভিডেন্ড ইল্ডের ফর্মুলা হচ্ছে, Market Dividend Yield = Total Cash Dividend of All Companies/Total Market Capitalization।

গত ১৫ বছরের মার্কেট ডিভিডেন্ড ইল্ড এর অবস্থাঃ আমরা যদি গত ১৫ বছরের মার্কেটের ডিভিডেন্ড ইল্ডের এর তথ্য পর্যালোচনা করি অর্থাৎ ২০০৫ থেকে ২০১৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তথ্য নেই তাহলে দেখব এই সময়ের ভিতর ২০১৯ সালের অক্টোবরে ডিভিডেন্ড ইল্ড ৪.৭২ যা গত ১৫ বছরের ভিতর সর্বোচ্চে অবস্থান করছে। এখানে উল্লেখ্য যে, এই তথ্যগুলো ডিএসই থেকে প্রকাশ করা মান্থলি রিভিউ (Monthly Review) থেকে পাওয়া যাবে।

১৫ বছরের ভিতর ডিভিডেন্ড ইল্ড সর্বোচ্চে অবস্থান করা মানে এই রকম মার্কেট কন্ডিশন বিনিয়োগের জন্য খুবই আকর্ষনীয়। ২০১০ এর শেয়ার বাজার ধ্বসের সময়ের ডিভিডেন্ড ইল্ড ছিল মাত্র ১.৫৬ যা সর্বনিম্ন। সুতরাং ২০১০ এ ধ্বসটা হওয়ারই কথা যেহেতু মার্কেট অতিমুল্যায়িত ছিল। মার্কেট ডিভিডেন্ড ইল্ড যখন সর্বোচ্চে অবস্থান করবে তখন মার্কেটে বিনিয়োগ করার শ্রেষ্ঠ সময়। আবার, মার্কেট ডিভিডেন্ড ইল্ড যখন সর্বনিম্নে অবস্থান করবে তখন মার্কেট থেকে বিনিয়োগ তুলে নেওয়ায় শ্রেষ্ঠ সময়।

ঝুঁকি পর্যালোচনা

মার্কেটে পিই রেশিও কম এবং ডিভিডেন্ড ইল্ড বেশি হলেও কিছু ঝুকির ব্যাপারে পর্যালোচনা করার অবকাশ থাকে। আমরা যদি দেখি মার্কেটের পিই রেশিও কম এবং ডিভিডেন্ড ইল্ড বেশি এবং একই সাথে, মার্কেট এক্সপেকটেশন যদি এমন থাকে যে, ভবিষ্যতে বেশির ভাগ কোম্পানিগুলোর ইনকাম বারবে এবং ভাল ডিভিডেন্ড তারা অব্যাহত রাখতে পারবে এবং দেশের অর্থনীতিতে কোন বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিবে না তাহলে, এমন সময়ই শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের জন্য শ্রেষ্ট সময়। তবে যদি ভবিষ্যতে কোম্পানির ইনকাম কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং দেশের অর্থনীতিতে সমস্যা দেখা দেওয়ায়র সম্ভাবনা থাকে তাহলে মার্কেটের পিই রেশিও কম এবং ডিভিডেন্ড ইল্ড বেশি থাকলেও বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

 

source: http://www.sharenews24.com/article/20798/index.html

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*