পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ, ব্যাংকগুলোকে আরও ছাড় দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

in মার্কেট আপডেটস by

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে ব্যাংকগুলোকে অর্থ ধার নেওয়ার সুযোগ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে রেপোর মাধ্যমে অর্থ নেওয়ার সুযোগ ছিল। পুঁজিবাজারে তারল্যপ্রবাহ বাড়াতে এই সুবিধা ছয় মাসের পরিবর্তে এক বছর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে এমন তথ্য।

নতুন এ সিদ্ধান্ত কার্যকরের বিষয়ে শিগগিরই ব্যাংকগুলোকে জানানো হবে। এ-সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সভায় সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোকে নগদ লভ্যাংশ দিতে উৎসাহিত করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

জানা গেছে, পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট মেটাতে ব্যাংকের বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে দাবি উঠেছিল। কিন্তু অধিকাংশ ব্যাংকেরই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করার মতো সুযোগ ছিল না। এসব ব্যাংক তাদের সর্বোচ্চ সীমায় বিনিয়োগ করেছিল। কিছু ব্যাংকের বিনিয়োগ করার সুযোগ থাকলেও তাদের কাছে অর্থ ছিল না। এ রকম ব্যাংকের সংখ্যা হচ্ছে ১৩টি।

এসব ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অর্থ ধার করে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে ১২টি ব্যাংকই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য কোনো টাকা ধার নেয়নি। অথচ ব্যাংকগুলো ইচ্ছা করলে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে পারত। তাদের পোর্টফলিও তাই বলে। শুধু একটি ব্যাংক ৫৮ কোটি টাকা ধার নেয়।

জানা গেছে, পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ দিয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সে নির্দেশনায় মৌলভিত্তির কোম্পানিতে বিনিয়োগের শর্ত উল্লেখ করে দেওয়া হয়। রেপোর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এই অর্থ ধার নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় সর্বোচ্চ ছয় মাসের জন্য। এর বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে বিভিন্ন ট্রেজারি বন্ড ও সিকিউরিটিজ জামানত রাখার বাধ্যবাধকতা ছিল।

ব্যাংকগুলোর এই সুযোগ নেওয়ার তেমন কোনো আগ্রহ দেখা যায়নি। কারণ হিসেবে তারা বলছে, গত বছর অনেক ব্যাংকই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে লোকসান দিয়েছে। সেই লোকসান এখনও উঠে আসেনি। নতুন করে অর্থ ধার নিয়ে বিনিয়োগ করার মতো পরিবেশ বাজারে বর্তমানে নেই। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ধার নেওয়া অর্থ বিনিয়োগে লোকসান হলে দায় ব্যাংকের ঘাড়েই পড়বে। এজন্য ব্যাংকগুলো তেমন আগ্রহ দেখায়নি।

এমন পরিস্থিতিতে গতকাল দেশের প্রধান পুঁজিবাজারের প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে। এ সময় তাদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে দাবি জানানো হয়, পুঁজিবাজারে তারল্যপ্রবাহ বৃদ্ধি করতে ১০ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করার জন্য। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, আইন অনুযায়ী এ রকম তহবিল গঠন করার কোনো সুযোগ বাংলাদেশ ব্যাংকের নেই। সরকার চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংক সহায়তা করতে পারে।

দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট কাটাতে আরও কিছু ছাড় দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এক্ষেত্রে আগের ঘোষিত নীতিমালায় উল্লিখিত সময় ছয় মাসের পরিবর্তে এক বছর করা হবে। ফলে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগের জন্য আরও ছয় মাস সময় পাবে। একইসঙ্গে ব্যাংকগুলোকে উৎসাহিত করা হবে বিনিয়োগকারীদের নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার জন্য। প্রয়োজনে প্রভিশন সংরক্ষণসহ বিভিন্ন খাতে ছাড়ও দেওয়া হতে পারে। এটি নির্ভর করবে ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্যের ওপর।

অপরদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোতে মোট তারল্যের পরিমাণ হচ্ছে দুই লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সিআরআরসহ বিভিন্ন খাতে বাধ্যতামূলক তারল্য কমপক্ষে থাকতে হবে এক লাখ ৮৬ হাজার ২৪৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ ৬০ হাজার ৫৪৯ কোটি টাকা।

সূত্রমতে, এ পরিমাণ উদ্বৃত্ত তারল্যও পুরোটা ব্যাংকের কাছে নেই। বিভিন্ন সময়ে এসএলআর-সহ বিবিধ জমা এবং সরকারকে ঋণ দেওয়াসহ বিভিন্ন বন্ড ও বিলে বিনিয়োগ রয়েছে। এছাড়া মোট তরল সম্পদের মধ্যে বিদেশি মুদ্রাও রয়েছে, যা সহজে দেশীয় মুদ্রায় পরিবর্তন করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। বিদেশি মুদ্রায় রয়েছে ১০ হাজার ২৮২ কোটি টাকা। এসব বাদ দিলে ব্যাংক খাতে বিনিয়োগযোগ্য মোট তরল সম্পদের পরিমাণ হচ্ছে তিন হাজার ৩৭৭৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। বর্তমানে ব্যাংকগুলো এ পরিমাণ অর্থ ঋণ, বিনিয়োগ, আগাম ও দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে ব্যয় করতে পারবে, যা মোট তারল্যের মাত্র এক দশমিক ৫৩ শতাংশ। অপরদিকে উদ্বৃত্ত তারল্যের বড় একটি অংশই দেশে কার্যরত বিদেশি ব্যাংকগুলোর। এসব ব্যাংক সাধারণত দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে না।

এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মো. রকিবুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করেছে। এখন সবার উচিত হবে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করা। ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করলে বাজারে তারল্যপ্রবাহ বৃদ্ধি পাবে। এটি করতে সময় লাগবে। এই সময় বিনিয়োগকারীদের দিতে হবে। আমরা চাই সব পক্ষই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুক।

 

source: https://sharebiz.net/পুঁজিবাজারে-বিনিয়োগ-ব্/

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*